রংপুর অঞ্চলে শিশুদের পাশাপাশি এখন কিশোর ও বয়স্ক মানুষরাও হামে আক্রান্ত হচ্ছেন। বয়স্করাও রোগটিতে আক্রান্ত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গত তিন দিনে রংপুর, লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলায় শিশুদের পাশাপাশি সাত কিশোর ও মধ্য বয়স্কও হামে আক্রান্ত হয়ে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
এ জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কিশোর ও বয়স্ক রোগীদের জন্যও আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ড খোলা হয়েছে। বর্তমানে শিশু নন, হামে আক্রান্ত এমন ৭ রোগী চিকিৎসাধীন আছেন। এর মধ্যে একজন কিশোরের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
আক্রান্তরা জানিয়েছেন প্রথমে প্রচণ্ড জ্বর, সর্দি, কাশি- এরপর সারা শরীরে র্যাশ বের হয়ে মুখমণ্ডল এমনকি মুখের ভেতরেও র্যাশ বের হওয়ায় তীব্র ব্যথা অনুভূত হচ্ছে। এদিকে হাম ছোঁয়াচে হওয়ায় পরিবারের অন্যরাও আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কায় পড়েছেন।
হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. আশরাফ জানান, হাম এমনিতেই ছোঁয়াচে রোগ, শিশুদের পাশাপাশি কিশোর ও বয়স্কদের আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক।
রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সংক্রামক ব্যাধি বিভাগে হামে আক্রান্ত বয়স্ক ও কিশোরদের জন্য খোলা আইসোলেশন ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে ভর্তি থাকা রোগীদের মধ্যে চার জনের বয়স ১৪ থেকে ১৬ বছরর। বাকি তিন জনের বয়স ৩৫ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে।
গাইবান্ধা থেকে হামে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিতে আসা হাবিবুর রহমানের ছেলে ইায়ামিন মোল্লা (৫০) জানান, চার দিন আগে গুরুতর অসুস্থ হয়ে এ হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছিলেন। এরপর তার পুরো শরীর র্যাশে ভরে গেলে তাকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়।
তিনি বলেন, এখনও পুরোপুরি সুস্থ হতে পারিনি। মুখ ও শরীরের উপরিভাগে ওঠা র্যাশ একটু কমলেও মুখের ভেতরের র্যাশ ভীষণ কষ্ট দিচ্ছে। প্রচণ্ড ব্যথার কারণে ঠিকমতো খেতে পারছি না।
একই কথা জানান নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার সিঙ্গেরডাবরী গ্রামের রোস্তম আলীর ছেলে আউয়াল (৩৮)। তিনি বলেন, তিন দিন ধরে চিকিৎসা নিচ্ছি, শরীরের র্যাশ একটু কমলেও মুখের ভেতরেরগুলো ঘায়ে রূপ নিয়েছে। ফলে অবস্থা এখনও ভালো নয়।
লালমনিরহাট শহরেরে শাহাদুল ইসলামের ছেলে সেরাজুল ইসলাম (৪০) জানান, স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর তার শরীরে হামের উপসর্গ ধরা পড়ে। সারা শরীর র্যাশে ভরে গেছে। প্রচণ্ড জ্বর, সর্দি ও কাশিতে ভীষণভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নতুন খোলা আইসোলেশন ওয়ার্ডে নেওয়া হয়। বর্তমানে অবস্থার অনেক উন্নতি হলেও চিকিৎসকরা আরও কয়েকদিন থাকতে বলেছেন।
একই ওয়ার্ডে থাকা রংপুর নগরীর সিও বাজার এলাকার সিহাবের (১৬) অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে তার মা সুফিয়া বেগম জানালেন। সারা শরীর হামের র্যাশে ভরে গেছে। চিকিৎসা চলছে জানিয়ে দোয়া চাইলেন তিনি।
সেখানে থাকা রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার উত্তর ডাঙ্গিপাড়া গ্রামের ফিরোজুলসহ (১৪) আরও দুই রোগীরও অবস্থা আশঙ্কামুক্ত নয় বলে কর্তব্যরত নার্স আসমা সুলতানা জানালেন।
এদিকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে শিশুদের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ৩৯ জন ও নতুন খোলা বয়স্কদের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ৭ জন মিলে মোট ৪৬ জন হামে আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের সেবা বিভাগ।
অপরদিকে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান জানালেন, হামে আক্রান্ত রোগীদের জন্য মেডিক্যাল বোর্ড গঠনসহ সার্বিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রোগীরা সব ধরনের উন্নত চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে।