ঢাকা সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
amaderkhobor24.com

শরীয়তপুরে নারীর মাথার চুল কেটে, মুখে কালি মেখে, খুঁটিতে বেঁধে মারধরের অভিযোগ

আমাদের খবর ২৪

প্রকাশিত: জুন ১৪, ২০২৬, ১০:৩৮ এএম

শরীয়তপুরে নারীর মাথার চুল কেটে, মুখে কালি মেখে, খুঁটিতে বেঁধে মারধরের অভিযোগ

শরীয়তপুর পৌরসভার উত্তর পালং এলাকায় এক নারীকে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। খুঁটিতে বেঁধে রাখার আগে তাঁর মাথার চুল কেটে মুখে কালি লাগিয়ে ও গলায় জুতার মালা পরিয়ে দেওয়া হয়। গতকাল শনিবার বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ওই নারীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছে।

শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানার পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শরীয়তপুর পৌরসভার একজন প্রবাসীর স্ত্রী (৩৭) সন্তানদের নিয়ে বাড়িতে বসবাস করেন। ওই এলাকার দেলোয়ার কোটারির পরিবার ও স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তিকে তিনি টাকা ধার দিয়েছিলেন। ধারের টাকা পরিশোধ নিয়ে তাঁদের সঙ্গে ওই গৃহবধূর বিরোধ শুরু হয়।

গতকাল সকালে দেলোয়ার কোটারির স্ত্রী ও মেয়ে ওই নারীকে স্থানীয় একটি মার্কেটের কাছে আটক করেন। স্থানীয় কয়েকজন নারীকে নিয়ে তাঁরা ওই গৃহবধূকে মারধর করে মাথার চুল কেটে মুখে কালি মেখে দেন। এরপর জুতার মালা গলায় পরিয়ে তাঁকে একটির সড়কের পাশের বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখেন।

স্থানীয় লোকজন জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে বিষয়টি পুলিশকে জানান। পালং মডেল থানার পুলিশ দুপুর ১২টার দিকে ওই নারীকে উদ্ধার করে। আহত অবস্থায় তাঁকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

মারধরের শিকার নারী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার সঙ্গে দেলোয়ার কোটারির টাকাপয়সার লেনদেন আছে। নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তি করে সে টাকা নিয়েছেন। তাঁর কাছে টাকা চাইলেই তিনি টালবাহানা করছিলেন। এক সপ্তাহ আগে আমি টাকার জন্য চাপ দিয়েছি। এরপর আমি সন্তানদের নিয়ে ঢাকায় চলে যাই। ঢাকা থেকে ফিরলেই দেলোয়ারের স্ত্রী ও মেয়ে স্থানীয় কয়েকজনকে নিয়ে আমাকে মারধর করেছেন। তাঁরা মাথার চুল কেটে, মুখে কালি মেখে আমাকে বেঁধে রেখেছে। আমি তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করব।’

দেলোয়ার কোটারির মেয়ে মৌসুমি আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, ‘ওই নারী আমার বাবাকে উত্ত্যক্ত করতেন। তিনি আমার বাবা-মায়ের সংসারে নানাভাবে ঝামেলা সৃষ্টি করেছেন। তিনি এলাকায় মাদক বিক্রি করেন। আজ মাদক বিক্রি করার সময় তাঁকে স্থানীয় কয়েকজন নারী হাতেনাতে ধরে ফেলেন। এরপর ক্ষুব্ধ এলাকার মানুষ তাঁকে মারধর করে পুলিশে দিয়েছেন। আমাদের কাছে তিনি কোনো টাকা পাবেন না। এখন তাঁর অপকর্ম আড়াল করতে টাকা পাওয়ার মিথ্যা কথা বলছেন।’

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম প্রথম আলোকে বলেন, ভুক্তভোগী নারীর সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজন নারীর টাকা পাওনা নিয়ে ঝামেলা চলছিল। এর জের ধরে কয়েকজন নারী মিলে তাঁকে মারধর করে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখেন। স্থানীয় লোকজন জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল করে ঘটনা জানালে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে। ওই নারী কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি আইনগত পদক্ষেপ নিতে চাইলে পুলিশ সহায়তা করবে।

Link copied!