হামলায় আহত পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করা হয়।
বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় গ্রেপ্তার একাধিক মামলার এক আসামির মৃত্যুর গুজবকে কেন্দ্র করে থানায় হামলা ও পুলিশ-জনতার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুলিশ সদস্য ও হামলাকারীসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে রিয়াজ ফকিরের মৃত্যুর গুজব এলাকায় ছড়িয়ে পরলে তার আত্মীয়-স্বজনসহ শতাধিক লোকজন মিছিল নিয়ে থানার ভিতরে ঢুকে হামলা করে। পরে পুলিশ ও মিছিলকারীদের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলায় উভয়পক্ষের ১২ জন আহত হয়েছে। ডিউটি অফিসারসহ ৬ জন পুলিশ ও মিছিলকারী তিনজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। আহত প্রতিপক্ষের কয়েকজন গোপনে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
পুলিশের ভাষ্য, বরিশালের আগৈলঝাড়ায় একাধিক মামলার আসামি রিয়াজ ফকিরকে চুরির মামলায় বুধবার সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ। থানার জেলহাজতে বসে নিজের মাথায় নিজে আঘাত করে অজ্ঞান হয়ে পরে।
পুলিশের দাবি, উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের ফুল্লশ্রী গ্রামের মো. ছিদ্দিক ফকিরের ছেলে রিয়াজ ফকিরকে বুধবার সন্ধ্যায় মূলত একটি চুরির গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পরে রিয়াজকে থানার জেলখানায় রাখার পরে নিজের মাথায় নিজে আঘাত করলে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। বুধবার রাত ১১টায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। রিয়াজের জ্ঞান ফিরে না আসায় গভীর রাতে তাকে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরের পরে চিকিৎসাধীন রিয়াজ ফকিরের মৃত্যুর গুজব তার এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
রিয়াজের আত্মীয়-স্বজনসহ এলাকার শতাধিক লোকজন বৃহস্পতিবার বিকেলে মিছিল নিয়ে থানায় গিয়ে হামলা করলে থানার ডিউটি অফিসার এএসআই আব্দুল হালিমকে মারধর করে। পুলিশও বাঁশ ও লাঠি নিয়ে মিছিলকারীদের প্রতিরোধের চেষ্টা করলে রিয়াজের মা নাছরিন বেগম (৫০), বোন শারমিন আক্তার(২৮) মমতাজ বেগমসহ (৪৭) ৬ জন আহত হন।
পরে গ্রেপ্তার আতঙ্কে আহত অনেকে গোপন চিকিৎসা নিচ্ছে। এছাড়াও মিছিলকারীদের হামলায় থানার ডিউটি অফিসার এএসআই আ.হালিম, সিপাহী লিমন মিয়া, ফরহাদ হোসেন, মনির হোসেন, আলামিন হোসেন ও মেহেদী হাসান আহত হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় ডিউটি অফিসার এএসআই আ.হালিমকে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রিয়াজের বোন শারমিন আক্তার ও স্থানীয় মমতাজ বেগমকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।