ঢাকা রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩
amaderkhobor24.com

বেশি লাভের আশায় হিমাগারে রাখা ২ কোটি টাকার আলু পচে নষ্ট

আমাদের খবর ২৪

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬, ০৮:৫২ পিএম

বেশি লাভের আশায় হিমাগারে রাখা ২ কোটি টাকার আলু পচে নষ্ট

পচে নষ্ট হওয়া আলু। গতকাল শনিবার সকালে মাদারীপুর শহরের বিসিক শিল্পনগরী এলাকায়। ছবি: সংগৃহীত

বেশি লাভের আশায় দীর্ঘদিন হিমাগারে সংরক্ষণ করে রাখায় মাদারীপুরে প্রায় ১৫ হাজার বস্তা আলু পচে নষ্ট হয়ে গেছে। ৬০ কেজি ওজনের এসব বস্তায় থাকা প্রায় ২২ হাজার ৫০০ মণ আলুর বর্তমান খুচরা বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি ২৫ লাখ টাকা। নষ্ট হয়ে যাওয়া এসব আলু এখন বিনা মূল্যে গরুর খাবার হিসেবে স্থানীয় কৃষক ও খামারিদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে।

হিমাগার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আলুর গুণগত মান ঠিক রাখতে সাধারণত সংরক্ষণ মৌসুম থেকে সর্বোচ্চ ১০ মাস পর্যন্ত কোল্ড স্টোরেজে রাখা হয়। তবে বেশি দামে বিক্রির আশায় মাদারীপুর কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেডের মালিক মীর হাবিবুর রহমান ২০২৫ সালের মার্চ মাসে প্রায় ১৫ হাজার বস্তা আলু সংরক্ষণ করেন। কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত আলুগুলো স্টোরেজে রাখা হয়। দীর্ঘ সময় সংরক্ষণে ধীরে ধীরে আলুর গুণগত মান নষ্ট হয়ে পচন ধরে এবং দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করে।

মাদারীপুর কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থাপক আবদুল করিম বলেন, এসব আলু খোলা জায়গায় ফেলে দিলে জনদুর্ভোগের আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে পাঁচ দিন ধরে স্থানীয় কৃষক ও খামারিদের মধ্যে বিনা মূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে।

দীর্ঘদিন বিপুল পরিমাণ আলু মজুত রাখার কারণে স্থানীয় বাজারে আলুর সরবরাহে প্রভাব পড়ে বলে দাবি করছেন ব্যবসায়ীরা। মাদারীপুর কাঁচামাল আড়তদার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক তাসুদ তালুকদার গণমাধ্যমকে বলেন, পচা আলু বিনা মূল্যে বিতরণ করায় বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এতে আলুর দামও কমে যাচ্ছে। এ বছর এমনিতেই আলুর দাম কম। এর মধ্যে বিনা মূল্যে এসব আলু দেওয়ায় সাধারণ ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

আলু ভালো থাকার সময় বাজারজাত করা হলে অন্য জেলা থেকে আলু সংগ্রহের প্রয়োজন কম হতো বলে জানান পুরান বাজারের কাঁচামাল ব্যবসায়ী সরোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, যে পরিমাণ আলু নষ্ট হয়েছে, তা দিয়েই একটি মৌসুম চলত।

মাদারীপুর জেলার কৃষি বিপণন কর্মকর্তা রুবেল মিয়া বলেন, হিমাগারের মালিক ব্যক্তিগতভাবে এসব আলু সংরক্ষণ করেছেন। আলু নষ্ট হওয়ায় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই। পচে যাওয়া আলু বিনা মূল্যে বিতরণের কারণে খোলাবাজারে কোনো প্রভাব পড়েছে বলে তার জানা নেই। স্থানীয় বাজারগুলোতে আলুর সরবরাহ ও দাম স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানান তিনি।

Link copied!