ঢাকা রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩
amaderkhobor24.com

কুষ্টিয়ায় ৩০ কোটি টাকার দরপত্রে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্ত চেয়ে স্মারকলিপি

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

প্রকাশিত: নভেম্বর ১, ২০২৬, ০১:৫৫ পিএম

কুষ্টিয়ায় ৩০ কোটি টাকার দরপত্রে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্ত চেয়ে স্মারকলিপি

কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্মারকলিপি দেয় ঠিকাদাররা। ফাইল ছবি

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ডিপিএইচই) কুষ্টিয়া কার্যালয়ের প্রায় ৩০ কোটি টাকার নয়টি গ্রুপের দরপত্রে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।

স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, গত জুলাই মাসে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, কুষ্টিয়া কার্যালয় থেকে মোট নয়টি গ্রুপে দরপত্র আহ্বান করা হয়। এর মধ্যে আটটি গ্রুপে টুইন পিট টয়লেট নির্মাণ এবং একটি গ্রুপে নলকূপ স্থাপনের কাজ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নয়টি গ্রুপের মোট দরপত্রমূল্য প্রায় ৩০ কোটি টাকা।

স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়েছে, এসব দরপত্রে পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিতে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে কার্যাদেশ দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। কয়েকজন ঠিকাদার ও দপ্তরসংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অভিযোগের বরাত দিয়ে এতে দাবি করা হয়, দরপত্রের মোট মূল্যের ৫ থেকে ৬ শতাংশ পর্যন্ত অর্থের বিনিময়ে পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। কথিত আর্থিক চাহিদা পূরণে সক্ষম কয়েকজন ঠিকাদার নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড (NOA) পেয়েছেন বলেও স্মারকলিপিতে দাবি করা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়েছে, দরপত্র আহ্বান, মূল্যায়ন, ঠিকাদার নির্বাচন ও কার্যাদেশ প্রদানের ক্ষেত্রে সরকারি ক্রয়বিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দরপত্রের মূল নথি, মূল্যায়ন প্রতিবেদন, কার্যাদেশ ও অনুমোদনসংক্রান্ত কাগজপত্র পরীক্ষা এবং সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

স্মারকলিপিতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, কুষ্টিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার মো. শহীদুল ইসলামের পূর্ববর্তী কর্মস্থল নিয়েও অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি এর আগে সাতক্ষীরা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে কর্মরত ছিলেন। সেখানে তাঁর দায়িত্ব পালনকালীন কোনো লিখিত অভিযোগ, বিভাগীয় তদন্ত, অডিট আপত্তি বা দরপত্রসংক্রান্ত অনিয়মের নথি রয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া কুষ্টিয়া কার্যালয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীর নিয়মিত দাপ্তরিক উপস্থিতি নিয়েও অভিযোগ করা হয়েছে। স্মারকলিপিতে ডিজিটাল হাজিরা, হাজিরা রেজিস্টার, ছুটির আবেদন ও অনুমোদনের নথি যাচাই করে প্রকৃত অবস্থা নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছে।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, টুইন পিট টয়লেট ও নলকূপ স্থাপনের মতো প্রকল্প জনস্বাস্থ্য ও সাধারণ মানুষের জীবনমানের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। ফলে এসব প্রকল্পে কোনো অনিয়ম বা সরকারি অর্থের অপচয় হয়ে থাকলে তা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

আবেদনকারীরা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও কর্মকর্তাদের বক্তব্য গ্রহণ, দরপত্রসংক্রান্ত নথি পরীক্ষা এবং তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তদন্তের ফলাফল ও গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে তাঁদের অবহিত করারও অনুরোধ করা হয়েছে।
 

Link copied!