ঢাকা মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩
amaderkhobor24.com

পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারিতে বিলম্ব: অর্থ মন্ত্রণালয়ে কেন আটকে আছে গেজেট?

আমাদের খবর ২৪

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬, ০৬:২৩ পিএম

পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারিতে বিলম্ব: অর্থ মন্ত্রণালয়ে কেন আটকে আছে গেজেট?

প্রতীকী ছবি।

গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদনের পর প্রায় দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত এর প্রজ্ঞাপন বা গেজেট প্রকাশিত হয়নি। দীর্ঘ দশ বছর পর নতুন পে-স্কেল ঘোষণার কারণে দেশের সরকারি চাকরিজীবীদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ ও স্বস্তি তৈরি হলেও গেজেট প্রকাশে এই বিলম্বের ফলে অনেকের মধ্যেই উদ্বেগ ও হতাশা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

তবে সংশ্লিষ্ট সাবেক আমলা ও মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন, হতাশার কোনো কারণ নেই; বরং একটি নতুন বেতন কাঠামোর মতো বিশাল ও সংবেদনশীল রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের প্রজ্ঞাপন জারির আগে বেশ কিছু জটিল প্রশাসনিক, আইনি ও আর্থিক ধাপ সতর্কতার সঙ্গে অতিক্রম করতে হয়।

প্রাথমিকভাবে গণমাধ্যমে খসড়াটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে খবর প্রকাশ পেলেও, অর্থ ও আইন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে যে খসড়াটি এখনও আইন মন্ত্রণালয়ে পৌঁছায়নি; বরং এটি বর্তমানে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছেই প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি কোনো ফাইল আটকে রাখার বিষয় নয়, বরং সামরিক-বেসামরিক বিভিন্ন খাতের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, সুযোগ-সুবিধা এবং সুনির্দিষ্ট নির্দেশনাসহ প্রজ্ঞাপনের একটি ত্রুটিহীন খসড়া প্রস্তুত করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন হচ্ছে। বিশেষ করে জনপ্রশাসনের বাইরে সশস্ত্র বাহিনী (সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী), বিজিবি, পুলিশ, সরকারি ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের রূপরেখা ও হিসাব নিখুঁতভাবে প্রণয়ন করাই এই প্রক্রিয়ার মূল কাজ।

প্রজ্ঞাপন জারির দীর্ঘ প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া
মন্ত্রিসভায় কোনো নীতিগত অনুমোদনের পর চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি পর্যন্ত একটি দীর্ঘ ও সুশৃঙ্খল প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। সাবেক সচিব ড. মো. আনোয়ার উল্ল্যাহর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মন্ত্রিসভায় মূলত মোটাদাগে গ্রেডভিত্তিক বেতন বৃদ্ধির একটি প্রাথমিক প্রস্তাবনা অনুমোদিত হয়। কিন্তু প্রজ্ঞাপনে কাদের ক্ষেত্রে কীভাবে তা বাস্তবায়িত হবে, তার সুনির্দিষ্ট হিসাব এবং বিভিন্ন সংবিধিবদ্ধ আদেশের খসড়া অর্থ মন্ত্রণালয়কেই তৈরি করতে হয়।

প্রাথমিক খসড়া প্রস্তুতের পর তা ভেটিং বা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। সেখানে প্রস্তাবিত কাঠামোয় সংবিধান বা বিদ্যমান চাকরি আইনের সঙ্গে কোনো সাংঘর্ষিক বিষয় বা আইনি অস্পষ্টতা রয়েছে কি না, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হয় যাতে ভবিষ্যতে কোনো আইনি জটিলতা তৈরি না হয়। আইন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে চূড়ান্ত খসড়াটি মুদ্রণের জন্য সরকারি মুদ্রণালয় বা বিজি প্রেসে পাঠানো হয় এবং মুদ্রণ শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

অতীতে কেমন সময় লেগেছে এবং বর্তমান পরিস্থিতি
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছিল ৭ সেপ্টেম্বর, আর এর প্রায় সাড়ে তিন মাস পর ১৫ ডিসেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল। ফলে এবার দুই সপ্তাহের মাথায় গেজেট না আসাকে অস্বাভাবিক মনে করছেন না সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদারসহ অভিজ্ঞ আমলারা।

আইন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও নিশ্চিত করেছেন যে, অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে খসড়াটি ভেটিংয়ের জন্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তারা কাজ শুরু করবেন। যাবতীয় প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে শিগগিরই নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।

Link copied!