ঢাকা শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩
amaderkhobor24.com

পাকিস্তানে জুমার নামাজের সময় মসজিদের বাইরে বোমা বিস্ফোরণ, নিহত অন্তত ১৬

আমাদের খবর ২৪

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬, ০৭:৫৯ পিএম

পাকিস্তানে জুমার নামাজের সময় মসজিদের বাইরে বোমা বিস্ফোরণ, নিহত অন্তত ১৬

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার কোহাট পুলিশ লাইন্সের একটি মসজিদে জুমার নামাজ চলাকালে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৫০ জনের বেশি। বিস্ফোরণের পর পুলিশ ও সন্ত্রাসীদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনাও ঘটে।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের সময় পুলিশ সদর দপ্তরের কাছে এ হামলা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন খাইবার পাখতুনখোয়ার পুলিশ প্রধান জুলফিকার হামিদ।

তিনি জানান, পুরোনো পুলিশ লাইন্সের প্রবেশপথে বিস্ফোরকভর্তি একটি গাড়ি ধাক্কা দেওয়ার পর বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর সেখানে গুলিবিনিময়ের ঘটনাও ঘটে। সন্ত্রাসীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ চলাকালে স্পেশাল ব্রাঞ্চ ভবনেও আরেকটি আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটানো হয় বলে জানান তিনি।

আইজি জুলফিকার হামিদ বলেন, একজন আত্মঘাতী হামলাকারী স্পেশাল ব্রাঞ্চ ভবনের কাছে বিস্ফোরণ ঘটায়। এরপরই নিষিদ্ধ তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-সংশ্লিষ্ট জঙ্গিদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর বন্দুকযুদ্ধ শুরু হয়।

পুলিশ জানায়, মোট সাতজন জঙ্গি পুলিশ লাইনসে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করেছিল। অভিযান শেষে ছয়জন জঙ্গি (যার মধ্যে একজন আত্মঘাতী হামলাকারীও রয়েছে) নিহত হয়েছে।

হাফিজ গুল বাহাদুরের নেতৃত্বাধীন জঙ্গি গোষ্ঠী ‘ইত্তেহাদুল মুজাহিদিন’ এ হামলার দায় স্বীকার করেছে।

টেলিভিশনে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, বিস্ফোরণে একটি ভবনের দেয়াল ধসে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আহতদের উদ্ধার করছেন, আর চারদিকে ছড়িয়ে রয়েছে ইট-পাথরের স্তূপ।

খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ঘটনাটির বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন চেয়েছেন। তিনি আহতদের দ্রুত চিকিৎসার নির্দেশ দিয়ে বলেন, নিরীহ মানুষের ওপর এ ধরনের সন্ত্রাসী হামলা অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

কোহাট পুলিশ লাইনস-এর আগেও জঙ্গি হামলার শিকার হয়েছিল। ২০১০ সালে পুলিশ কলোনিতে রিমোট নিয়ন্ত্রিত বোমা বিস্ফোরণে ২০ জন নিহত এবং ৯০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছিলেন।

Link copied!