ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩
amaderkhobor24.com

যুক্তরাষ্ট্রে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পর নেতানিয়াহুকে সরাতে জোর প্রতিদ্বন্দ্বীদের

আমাদের খবর ২৪

প্রকাশিত: নভেম্বর ৫, ২০২৬, ০৩:৫২ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পর নেতানিয়াহুকে সরাতে জোর প্রতিদ্বন্দ্বীদের

বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ছাড়াই একটি নতুন সরকার গড়ার সুযোগ খুঁজছে থাকা তার প্রতিদ্বন্দ্বীরা বলেছেন, ইসরায়েলের প্রতি আমেরিকানদের কয়েক প্রজন্ম ধরে চলে আসা দ্বি-দলীয় সমর্থনকে নষ্ট করেছেন তিনি। এর প্রমাণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়কে তুলে ধরেছেন তারা।

মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সেনেট এবং নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ, উভয় কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতো পেয়েছে। এটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য একটি বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের অজনপ্রিয় যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন জনগণের গভীর হতাশা এর পেছনে আংশিকভাবে দায়ী বলে মনে করা হচ্ছে।

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনের এক সপ্তাহ পর যুক্তরাষ্ট্রের এই ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইসরায়েলের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট পার্লামেন্টে তাদের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালেও ফলাফলে তারাই এগিয়ে রয়েছে। এ কারণে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোটের পক্ষে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করা সহজ হচ্ছে না।  

রযটার্স জানিয়েছে, পরবর্তী সরকার গঠনের জন্য দুই নেতার মধ্যে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, সে বিষয়ে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ বুধবার ও বৃহস্পতিবার বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করার কথা রয়েছে। এই সময় পর্যন্ত নেতানিয়াহু একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

দীর্ঘদিনের মিত্রের প্রতি মার্কিন সমর্থন নড়বড়ে

যুক্তরাষ্ট্র দশকের পর দশক ধরে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান, উভয় দলের প্রেসিডেন্টদের অধীনেই ইসরায়েলের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মিত্র হিসেবে কাজ করেছে। ওয়াশিংটন ১৯৭০-র দশক থেকে প্রতি বছর ইসরায়েলকে শত শত কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা দিয়ে এসেছে। কিন্তু ইসরায়েলের বিগত সরকারগুলোর নেতারা যুক্তরাষ্ট্রে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান, উভয় দলের সঙ্গে সমান সম্পর্ক বজায় রাখলেও, নেতানিয়াহু প্রকাশ্যেই রিপাবলিকানদের সমর্থন করেছেন।

২০২৩ সালে হামাসের হামলার পর ইসরায়েল গাজায় গণহত্যামূলক সামরিক অভিযান শুরু করলে ডেমোক্র্যাট এবং কিছু রিপাবলিকান নেতার মধ্যে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন নড়বড়ে হতে শুরু করে। আর চলতি বছর ট্রাম্প এবং নেতানিয়াহু যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলার নির্দেশ দেওয়ার পর এই সমর্থন আরও কমতে শুরু করে।

কিছু ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ইসরায়েলে মার্কিন সামরিক সহায়তার সমালোচনাকে তাদের নির্বাচনী প্রচারণার প্রধান অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছেন। মঙ্গলবার (নির্বাচনের দিন), ট্রাম্প ইসরায়েলকে দেওয়া বার্ষিক ৪০০ কোটি ডলারের অর্থায়ন বন্ধ করার ঘোষণা দেন। ট্রাম্পের মতে, এই পদক্ষেপটি ডেমোক্র্যাটদের একটি ‘খারাপ রাজনৈতিক হাতিয়ার’ কেড়ে নেবে। কিন্তু তিনি এতোদিন নেতানিয়াহুকে সমর্থন দিয়ে এসেছেন।

আইজেনকোট বুধবার বলেছেন, তার নেতৃত্বে ইসরায়েল ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করবে। এক্সে তিনি লিখেছেন, "আমরা এই অংশীদারিত্বকে নতুন ও গভীর করব। বহু বছর ধরে যার ওপর এই সম্পর্ক টিকে ছিল সেই দ্বিদলীয় ভিত্তিকে শক্তিশালী করব এবং সামগ্রিকভাবে পশ্চিম এশিয়ার উন্নয়নে কাজ করব।"

ইসরায়েলের মধ্য-বামপন্থী বিরোধী দল ‘ডেমোক্র্যাটস’-এর প্রধান ইয়ার গোলান এক্স-এ বলেছেন, “ডেমোক্র্যাট এবং রিপাবলিকান উভয় পক্ষের কাছেই নেতানিয়াহু কতটা ক্ষতিকর হয়ে উঠেছেন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল তাই প্রকাশ করেছে।”

মধ্যপন্থী বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলেছেন, এই ফলাফল দেখাচ্ছে যে নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় থাকা ‘ইসরায়েল আর নিতে পারছে না।’

তিনি আরও বলেন, "নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় থাকা আমাদের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে, আমাদের গণতন্ত্রকে বিপন্ন করছে আর এটি বৈশ্বিক মঞ্চে আমাদের অবস্থানকে ধ্বংস করে দেবে।"

নেতানিয়াহু এখন পর্যন্ত মার্কিন নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে নীরব রয়েছেন আর তার দপ্তর থেকে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

রযটার্স লিখেছে, শেষ পর্যন্ত নেতানিয়াহু নাকি আইজেনকোট, কার ওপর এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মেরামতের দায়িত্ব পড়বে, তা স্পষ্ট হতে কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস লেগে যেতে পারে। যে প্রার্থীই প্রথম সুযোগ পাবেন, তাকে একটি নতুন জোট সরকার গঠন করতে হবে, অন্যথায় অপরজনকে সুযোগ দেওয়া হবে। যদি উভয় পক্ষই ব্যর্থ হয়, তবে পুনরায় নতুন নির্বাচনের ডাক দেওয়া হবে।

এদিকে তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক উডি সোমার ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে আসা নতুন মার্কিন কংগ্রেস হবে ইসরায়েলের ইতিহাসের সবচেয়ে প্রতিকূল বা বৈরী কংগ্রেস।

তিনি জানান, যদিও পররাষ্ট্রনীতির বেশিরভাগ ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের হাতেই থাকে, তবুও ডেমোক্র্যাটরা বিভিন্ন শুনানি, কংগ্রেসের নজরদারি এবং বাজেট সংক্রান্ত পদক্ষেপের মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

সোমার বলেন, "ডেমোক্র্যাটদের এই বিশাল জয় এবং রিপাবলিকানদের এই ভরাডুবি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কের পরবর্তী অধ্যায়েরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।"

Link copied!