নখকে আমরা অনেক সময় খুব ছোট একটা বিষয় মনে করি। কিন্তু এই ছোট অংশটাই কখনো কখনো নীরবে শরীরের ভেতরের খবর জানিয়ে দেয়। তাই শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়, সুস্থতার জন্যও নখের যত্ন নেওয়া জরুরি।
নখ কেমন হওয়া উচিত
একটি সুস্থ নখ শান্ত, পরিপাটি আর একরঙা থাকে।
এতে কোনো দাগ নেই, নেই গর্ত বা অস্বাভাবিক বাঁক। যেন একেবারে স্বাভাবিকভাবে নিজের কাজ করছে।
নখ তৈরি হয় শক্ত প্রোটিন কেরাটিন দিয়ে, আর নখের গোড়ায় (কিউটিকলের নিচে) জন্ম নিয়ে ধীরে ধীরে বড় হয়।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নখে হালকা দাগ বা রেখা দেখা দিতে পারে।
এটা সাধারণত ক্ষতিকর নয়। আবার আঘাত লাগলে সাদা দাগ বা রেখাও দেখা যায়, যা সময়ের সঙ্গে নিজে থেকেই মিলিয়ে যায়।
কখন নখ আপনাকে সতর্ক করছে?
নখ যদি আচমকা বদলাতে শুরু করে, সেটাকে হালকাভাবে নেওয়া ঠিক নয়-
হঠাৎ রং বদলে যাওয়া বা কালো দাগ দেখা দেওয়া।
নখ বাঁকা হয়ে যাওয়া বা আকার পরিবর্তন হওয়া।
নখ খুব পাতলা বা অস্বাভাবিক মোটা হয়ে যাওয়া।
ছোট ছোট গর্ত বা খাঁজ তৈরি হওয়া।
নখ চামড়া থেকে আলাদা হয়ে যাওয়া।
চারপাশে ব্যথা, ফোলা বা রক্তপাত হওয়া।
নখ না বাড়া।
এই পরিবর্তনগুলো অনেক সময় শরীরের ভেতরের সমস্যার ইঙ্গিতও দিতে পারে।
নখ ভালো রাখার সহজ নিয়ম
নখকে সুস্থ রাখা কঠিন কিছু নয়। শুধু একটু নিয়ম মানলেই হয়।
নখ সব সময় পরিষ্কার ও শুকনো রাখুন।
পানি বা কেমিক্যাল কাজের সময় গ্লাভস ব্যবহার করুন ।
নখ সোজা করে কাটুন, তারপর কিনারা মসৃণ করুন।
হাতের লোশন নখ ও কিউটিকলেও দিন।
প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শে বায়োটিন নেওয়া যেতে পারে।
কিছু ছোট অভ্যাস নখকে ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত করে, যেমন-
নখ কামড়ানো বা কিউটিকল উঠিয়ে ফেলা।
ঝুলে থাকা নখ টেনে ছেঁড়া।
বেশি নেইল পলিশ রিমুভার ব্যবহার।
সমস্যা দেখা দিলে তা উপেক্ষা করা।
সেলনে গেলে সাবধানতা
সাজগোজের জন্য সেলনে গেলেও কিছু বিষয় মাথায় রাখা জরুরি-
পরিচ্ছন্ন ও লাইসেন্সধারী সেলন বেছে নিন।
কিউটিকল কেটে ফেলতে দেবেন না।
যন্ত্রপাতি জীবাণুমুক্ত কি না নিশ্চিত ।
কোনো পণ্যে অ্যালার্জি থাকলে আগে জানান।