ঢাকা রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩
amaderkhobor24.com

ঋণখেলাপি কোম্পানি বন্ধ নয়, দুর্নীতিতে জড়িত মালিকের বিচার হবে: অর্থমন্ত্রী

আমাদের খবর ২৪

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬, ০৭:০০ পিএম

ঋণখেলাপি কোম্পানি বন্ধ নয়, দুর্নীতিতে জড়িত মালিকের বিচার হবে: অর্থমন্ত্রী

ঋণখেলাপি কোনো কোম্পানির মালিক দুর্নীতিতে জড়িত হলে তার বিচার হবে, তবে সেই কারণে কোম্পানিটি বন্ধ করে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেছেন, মালিকের ব্যক্তিগত পরিচয় থেকে কোম্পানির আইনি সত্তা আলাদা। একটি কোম্পানি বন্ধ করলে সেখানে কর্মরত মানুষ, ঋণ পরিশোধ এবং অর্থনীতিতে প্রতিষ্ঠানটির অবদানের ওপর প্রভাব পড়বে।

রোববার জাতীয় সংসদে নোয়াখালী-৬ আসনের এনসিপির সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন। এ সময় সংসদের অধিবেশন পরিচালনা করছিলেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

হান্নান মাসউদ তার প্রশ্নে খেলাপি ঋণ ও এস আলম গ্রুপের ঋণের প্রসঙ্গ তোলেন।

তিনি বলেন, ২০২৬ সালের মার্চের শেষে দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ২৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। পরের তিন মাসে তা আরও ১৭ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা বেড়েছে।

সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদের ভাষ্য, ‘ফ্যাসিস্ট’ আমলে ঋণখেলাপিদের কাছ থেকে অনাদায়ী ঋণ আদায় না করে এস আলমের মালিকানাধীন এসএস পাওয়ার ওয়ান লিমিটেডকে ৩১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৬১ ডলারের ঋণপত্র বা এলসি খোলার বিশেষ অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।

এস আলম গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে ২ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, “কোম্পানি আইডেন্টিটি সেপারেট ফ্রম দ্য আইডেন্টিটি অব ইন্ডিভিজুয়াল। ইটস লিগ্যাল এন্টিটি, করপোরেট এন্টিটি।”

কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে তার বিরুদ্ধে মামলা ও বিচার চলতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তবে সেই ব্যক্তির মালিকানাধীন কোম্পানি বন্ধ করে দেওয়া ঠিক হবে না বলেও মত দেন অর্থমন্ত্রী।

তার কথায়, “আপনি বাংলাদেশের যেকোনো কোম্পানিকে কোনো ব্যক্তির কারণে বন্ধ করে দিয়ে—সেই কোম্পানিতে লোকজন চাকরি করে, সেই কোম্পানির ঋণের দায় আছে, সেই কোম্পানির ঋণ পরিশোধ করতে হবে, সেই কোম্পানির অর্থনীতিতে কন্ট্রিবিউশন আছে এবং ওই কোম্পানির এমপ্লয়মেন্টের ক্ষতি করে বন্ধ করে দিয়ে কোনো দেশের কোনো অর্থনীতি চলতে পারে না।”

দুর্নীতিতে জড়িত ব্যক্তিদের কাউকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না দাবি করে তিনি বলেন, তাদের বিরুদ্ধে মামলা চলছে এবং বিচার হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের আইন ভেঙে কাউকে ঋণ দেওয়া হচ্ছে না বলেও দাবি করেন অর্থমন্ত্রী।

আইনে সুযোগ থাকলে কোনো কোম্পানি ঋণ পুনঃতফসিল করতে পারবে জানিয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “ইমোশনের উপরে অর্থনীতি চলে না। আইনের উপর অর্থনীতি চলতে হবে।”

রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় ব্যাংকে খেলাপি ঋণ ১.৪৮ লাখ কোটি টাকা

বাগেরহাট-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আব্দুল আলীমের প্রশ্নে অর্থমন্ত্রী জানান, গত ৩০ জুন পর্যন্ত রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।

এর অর্ধেকের বেশি জনতা ব্যাংকের, যার পরিমাণ ৭৫ হাজার ৩৯৬ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে জনতা ব্যাংকেরই খেলাপি ঋণ সবচেয়ে বেশি।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, অগ্রণী ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ২৯ হাজার ২৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা, রূপালী ব্যাংকের ১৯ হাজার ২৮১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা, সোনালী ব্যাংকের ১৫ হাজার ৪৮ কোটি ৩৯ লাখ টাকা, বেসিক ব্যাংকের ৮ হাজার ১৩১ কোটি ৯ লাখ টাকা এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৮৮৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।

মাথাপিছু সরকারি ঋণ ১ লাখ ২৯ হাজার টাকা

কুষ্টিয়া-১ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, গত ৩১ মার্চ পর্যন্ত সরকারি ঋণের হিসাবে দেশের মানুষের মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ টাকা।

ঋণের চাপ কমাতে রাজস্ব আয় বাড়ানো, সরকারি অর্থের সুষ্ঠু ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং ঋণ ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনার ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান তিনি।

নিজস্ব আয় বাড়িয়ে সরকারের ঋণের প্রয়োজন কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

একই সঙ্গে সরকারি ব্যয় সাশ্রয়ী ও ফলপ্রসূ করা এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে অর্থায়নের চাহিদা কমানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

২০১০-২৪ সময়ে বিদেশি ঋণ ৮১.৮৩ বিলিয়ন ডলার

কক্সবাজার-৩ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, ২০১০ সাল থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত বিদেশ থেকে মোট ৮১ দশমিক ৮৩ বিলিয়ন ডলার ঋণ নেওয়া হয়েছে।

একই সময়ে বিদেশি ঋণের আসল হিসেবে ১৭ দশমিক ১১ বিলিয়ন ডলার এবং সুদ হিসেবে ৬ দশমিক ০৪ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করা হয়েছে।

এ সংসদ সদস্যের আরেক প্রশ্নের জবাবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, ২০১০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেশে বেসরকারিভাবে পরিচালিত ১৩টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

Link copied!