২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে গণহত্যায় বিএনপির ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, তখন হেফাজতের সঙ্গে বিএনপি ছিল। কিন্তু সেই পরিস্থিতিতে বিএনপির প্রকৃত ভূমিকা ঠিক কী ছিল, বর্তমান সময়ে এসে তা গভীরভাবে বিশ্লেষণের দাবি রাখে। দেশের জনগণের একটা বড় অংশ যখন বিপদগ্রস্ত, এরকম একটা রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড, তখন প্রধান বিরোধী দল হিসেবে বিএনপির উচিত ছিল সেই আন্দোলনে জোরালো নেতৃত্ব দেওয়া এবং আরও সাহসী ভূমিকা পালন করা।
মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে এনসিপি সমর্থিত সংগঠন ন্যাশনাল ওলামা এলায়েন্স আয়োজিত ‘শাপলা গণহত্যা : বিচারহীনতার এক যুগ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, শাপলা গণহত্যাকে কোনো না কোনোভাবে তো বৈধতা দেওয়া হয়েছে। তার প্রেক্ষাপট তৈরি করতে অনেকেই ভূমিকা রেখেছে। ফলে সেই সময় সরকারকে জবাবদিহিতা করতে পারা যায়নি বলে সরকার জুলাইতে আরেকটা গণহত্যা করার সাহস পেয়েছিল।
২০১৩ সালে ৫ মে-এর শাপলার গণহত্যার স্মৃতিচারণ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, যখন এই ঘটনাটা ঘটে ২০১৩ সালে আমি তখন দশম শ্রেণির ছাত্র। যেহেতু আমি ঢাকা শহরে বড় হয়েছি, আমি তখন স্কুলে পড়ি। এবং ঢাকা শহরে তখন একটি থমথমে রাত। আমরা বাসায় বসে টেলিভিশনে দেখতেছিলাম। যেই সেখানে সব লাইট নিভিয়ে দিয়েছে আক্রমণ করতে পুলিশ প্রস্তুতি নিচ্ছে তখন হঠাৎ করে দেখলাম দিগন্ত টিভি বন্ধ হয়ে গেল, ইসলামিক টিভি বন্ধ হয়ে গেল এবং সেই রাতে আমরা এরপর অনেক কিছু ভাসাভাসা শুনতে পারলাম।
তিনি বলেন, শাপলা হত্যাকাণ্ডের অনেকগুলো ডাইমেনশন আছে। এক যুগ চলে গিয়েছে বিচারহীনতার। জুলাই পরবর্তী বাংলাদেশে এসে আমরা এটা বিচারের দাবি জানাচ্ছি, এটা কিন্তু ন্যাশনাল ওলামা এলায়েন্সের দাবি না, এটা এনসিপির দাবি না, এটা বাংলাদেশের জনগণের দাবি।
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, আমাদের ভাই, বন্ধু আমাদের আত্মীয়-স্বজনরা মাদরাসায় পড়ে। আমরা কেউ স্কুল-কলেজে পড়েছি। আমার ভাই বোনেরা কেউ মাদরাসায় পড়েছে। এই যে তাদের আলাদা করে দেওয়ার একটা রাজনীতি সমাজকে বিভাজিত করে দেওয়া হয়েছে। এই রাজনীতির মাধ্যমে এটার একটা রূপ আমরা দেখেছি ২০১৩ সালে শাপলা এবং শাহবাগের মধ্য দিয়ে এবং এর ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করেছে সেই সময় ফ্যাসিস্ট সরকার শেখ হাসিনার সরকার।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের। বাংলাদেশের আমাদের নদীর যে পানির ন্যায্য হিসসা আদায় করার দায়িত্ব আমাদের। সরকারের প্রতি আমাদের আহ্বান থাকবে সরকার এই বিষয়গুলোতে দৃষ্টিপাত করবে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখবে। আমরা এরকম একটি দেশ প্রতিষ্ঠা করতে চাই। সেটার জন্যই জুলাই গণভুত্থানে আমরা সবাই অংশগ্রহণ করেছিলাম।
নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা স্পষ্টভাবে এটা বলতে চাই, বাংলাদেশের সীমান্তের ওপারে দেখছি নানা অস্থিরতা। সেখানকার মুসলমানদের নির্যাতন করা হচ্ছে, দমনপীড়ন করা হচ্ছে এবং বাংলাদেশেও এটা প্রোপাগান্ডা করার চেষ্টা করা হবে যে, এদেশের মুসলমানরা এদেশের হিন্দুদের নির্যাতন করছে। এই মিথ্যা প্রচার করে তারা সেখানের মুসলমানদের হত্যাকাণ্ডের করার জায়েজ করবে। কিন্তু আমরা দেখেছি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরও এই মাদরাসার ছাত্ররা মন্দির পাহারা দিয়েছিল এবং এ দেশের হিন্দুদের যদি কেউ কোনো ধরনের কিছু করার চেষ্টা করবে আমরা আমাদের ভাইদের রক্ষা করার জন্য প্রস্তুত আছি ইনশাআল্লাহ।
তিনি বলেন, এদেশের মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবাইকে সবার নাগরিক অধিকার সুরক্ষায় আমরা কাজ করব এবং এদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমতা এবং ইসলাম রক্ষায় আমরা কাজ করব।