প্রকাশিত: মার্চ ১৭, ২০২৬, ০১:৩১ পিএম
সাফল্যের রঙে রাঙানো পাকিস্তান সিরিজ শেষে সেই জয়ের উন্মাদনা সঙ্গী করেই এবার নতুন মিশনে নামছে টাইগাররা। ঘরের মাটিতে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয় দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। র্যাংকিংয়ে উন্নতির পথও খুলে দিয়েছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ক্যালেন্ডারে আনন্দের সময় খুব বেশি দীর্ঘ হয় না। কারণ সামনে অপেক্ষা করছে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। এপ্রিলেই বাংলাদেশ সফরে আসছে নিউজিল্যান্ড। পাকিস্তান সিরিজের রেশ কাটতে না কাটতেই কিউইদের সফরের পূর্ণাঙ্গ সূচি প্রকাশ করেছে বিসিবি।
আগামী ১৩ এপ্রিল ঢাকায় পৌঁছাবে নিউজিল্যান্ড দল। এরপর কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে তাদের হাতে থাকবে কয়েকদিন সময়। ১৭ এপ্রিল মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হবে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। এই সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচও হবে একই ভেন্যুতে ২০ এপ্রিল। এরপর দুই দল চলে যাবে চট্টগ্রামে। ২৩ এপ্রিল বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ওয়ানডে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ। তিনটি ওয়ানডেই শুরু হবে দুপুর ২টায়।
ওয়ানডে সিরিজ শেষ হওয়ার পর দুই দল ২৪ থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত বিশ্রাম ও অনুশীলনের সুযোগ পাবে। এরপর শুরু হবে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। প্রথম দুই টি-টোয়েন্টি অনুষ্ঠিত হবে চট্টগ্রামে ২৭ ও ২৯ এপ্রিল। এই দুটি ম্যাচ শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টায়। শেষ ম্যাচ খেলতে আবার ঢাকায় ফিরবে দুই দল। ২ মে মিরপুরে অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টি। তবে ম্যাচটি ফ্লাডলাইটের আলোতে নয়। সেটি শুরু হবে দুপুর ২টায়। সব মিলিয়ে ঢাকা ও চট্টগ্রামের দুই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে পুরো সফর।

সূচি যতটা গুরুত্বপূর্ণ, এই সিরিজের প্রেক্ষাপট তার চেয়েও বড়। কারণ এটি কেবল আরেকটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ নয়। এটি বাংলাদেশের জন্য ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের পথের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। আগামী বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা নিশ্চিত করতে হলে র্যাংকিংয়ে উন্নতি করা এবং রেটিং পয়েন্ট বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। সম্প্রতি পাকিস্তানের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতে বাংলাদেশ পেয়েছে তিনটি রেটিং পয়েন্ট। এর ফলে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে পেছনে ফেলে আইসিসি ওয়ানডে র্যাংকিংয়ে এক ধাপ এগিয়ে নবম স্থানে উঠে এসেছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল। র্যাংকিংয়ের এই অবস্থান আগামী বছরের মার্চ পর্যন্ত ধরে রাখতে পারলে সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাবে বাংলাদেশ। তাই সামনে প্রতিটি সিরিজই এখন প্রতিদ্বন্দ্বিতার পাশাপাশি হিসাবেরও।
পাকিস্তান সিরিজের আগেই এই বাস্তবতা নিয়ে কথা বলেছিলেন অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। সিরিজ জয়ের পর আবারও তিনি একই বার্তা দিয়েছেন। মিরাজ বলেছেন, `আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে, পয়েন্ট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যেকটি পয়েন্ট আমাদের জন্য অনেক অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের মাথায় রাখতে হবে যে, ২০২৭ বিশ্বকাপে আমাদের কোয়ালিফাই করতে হবে। এজন্য প্রত্যেকটা সিরিজ, প্রত্যেকটা ম্যাচ আমাদের জন্য অনেক জরুরি। আমরা ওভাবেই চিন্তা করব যে, কীভাবে আমরা সিরিজ জিততে পারি, ম্যাচ জিততে পারি।`

এই বাস্তবতায় নিউজিল্যান্ড সিরিজের গুরুত্ব আরও বাড়ছে। কারণ আইসিসি ওয়ানডে র্যাংকিংয়ে কিউইদের অবস্থান দ্বিতীয়। অর্থাৎ শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে হারাতে পারলে বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্টে বড় উন্নতির সুযোগ তৈরি হবে। এই সিরিজে একটি বড় বাস্তবতাও রয়েছে। নিউজিল্যান্ড তাদের পূর্ণ শক্তির দল নিয়ে বাংলাদেশে আসছে না। আইপিএল ও পিএসএলের সময়সূচির সঙ্গে সিরিজের সময় মিলে যাওয়ায় কিউইদের বেশ কয়েকজন তারকা ক্রিকেটার এই সফরে অনুপস্থিত থাকবেন। আইপিএলে ব্যস্ত থাকায় বাংলাদেশ সফরে দেখা যাবে না নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনারকে। থাকছেন না রাচিন রবীন্দ্র, প্লেন ফিলিপস, টিম সাইফার্ট, ফিন অ্যালেন, কাইল জেমিসন, জেকব ডাফি এবং লকি ফার্গুসনও।
এছাড়া পাকিস্তান সুপার লিগে খেলায় ব্যস্ত থাকায় বাংলাদেশ সফরে থাকছেন না মার্ক চ্যাপম্যান এবং ড্যারিল মিচেল। সব মিলিয়ে প্রথম সারির প্রায় ১০ জন ক্রিকেটারকে ছাড়া বাংলাদেশে আসবে নিউজিল্যান্ড দল। এমনকি তাদের দুই কোচও পিএসএলে যুক্ত থাকায় এই সফরে থাকবেন না। ফলে অনেকটাই তরুণদের নিয়ে গড়া দ্বিতীয় সারির দলই পাঠাবে ব্ল্যাক ক্যাপসরা।
তবে বাংলাদেশের জন্য এই সিরিজে কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরিকল্পনা নেই। বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে শক্তিশালী দল নিয়েই নামতে চায় তারা। সাম্প্রতিক ইতিহাসও এই সিরিজকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলছে। সর্বশেষ ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ সফরে এসেছিল নিউজিল্যান্ড। তখন তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ২-০ ব্যবধানে জিতেছিল কিউইরা। আর বাংলাদেশের মাটিতে সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলেছিল ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে। সেই পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ৩-২ ব্যবধানে হেরেছিল নিউজিল্যান্ড।
আপনার মতামত লিখুন :