সরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তিতে বর্তমানে চালু থাকা লটারি পদ্ধতির পরিবর্তে ভর্তি পরীক্ষা চালুর বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
সোমবার সকাল ১০টায় রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে আয়োজিত ‘নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে আগামী দিনের শিক্ষা খাত: নতুন চিন্তা, নতুন কাঠামো ও নতুন পদক্ষেপ’ শীর্ষক সংলাপে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সংলাপটির আয়োজন করে ‘এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশ’।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত এই উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান লটারি পদ্ধতি নিয়ে অনেক অভিভাবকের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। তাদের একটি অংশ এ ব্যবস্থাকে অস্বচ্ছ বলে মনে করছেন।
মাহদী আমিন বলেন, লটারির মাধ্যমে ভর্তিপ্রক্রিয়াকে সহজ ও দুর্নীতিমুক্ত করার চেষ্টা করা হলেও বাস্তবে অনেক অভিভাবক এটিকে ‘ব্ল্যাক বক্স’ পদ্ধতি হিসেবে দেখছেন। তার ভাষায়, কে আবেদন করছেন বা কীভাবে নির্বাচন হচ্ছে—এসব বিষয়ে অনেকের কাছে স্পষ্ট ধারণা থাকে না।
তিনি বলেন, যদি পরীক্ষাভিত্তিক ভর্তি পদ্ধতি চালু করা হয়, তাহলে শিক্ষার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা ও স্বচ্ছতা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে মেধা যাচাইয়ের একটি কাঠামোও তৈরি হতে পারে।
শিক্ষা খাতে বৈষম্য কমানো এবং মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ বাড়ানো সরকারের অন্যতম লক্ষ্য বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মাহদী আমিন বলেন, বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি মাধ্যম ও মাদ্রাসা—এই তিন ধারার শিক্ষাব্যবস্থার পাশাপাশি ভালো সরকারি স্কুলে সীমিত আসনের কারণে ভর্তির ক্ষেত্রে তীব্র প্রতিযোগিতা তৈরি হচ্ছে।
তবে ভর্তি পরীক্ষা চালুর বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলেও জানান তিনি। সংশ্লিষ্ট মহলের মতামত ও শিক্ষাব্যবস্থায় সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনা করেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে উল্লেখ করেন মাহদী আমিন।
এ ছাড়া তিনি বলেন, শিক্ষা খাতে সংস্কারের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ভর্তি নীতিমালার পরিবর্তনের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি পাঠ্যক্রম সংস্কার, কারিগরি শিক্ষায় গুরুত্ব বৃদ্ধি, শিক্ষায় বৈষম্য কমানো এবং প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা বাড়ানোর বিষয়েও জোর দেওয়া হবে।
আপনার মতামত লিখুন :