ঢাকা রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২
amaderkhobor24.com
সেবিকার ভুল ইনজেকশন

শেবাচিম হাসপাতালে ৫ মিনিটের ব্যবধানে মারা গেল ২ রোগী

আমাদের খবর ২৪

প্রকাশিত: মার্চ ১৫, ২০২৬, ০৭:৩৪ পিএম

শেবাচিম হাসপাতালে ৫ মিনিটের ব্যবধানে মারা গেল ২ রোগী

অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার আগে ওয়ার্ডে দুই রোগীকে প্রস্তুত করা হচ্ছিলো। তখন দায়িত্বরত সেবিকা দুজনের শরীরে ইনজেকশন পুশ করেন। ৫ মিনিটের ব্যবধানে দুই রোগীর মৃত্যু হয়। পরে চিকিৎসক নিশ্চিত হয়েছেন, সেবিকা ভুলে অ্যান্টিবায়োটিকের পরিবর্তে অ্যানেসথেশিয়া (শরীর অবশ করার) ইনজেকশন পুশ করায় মারা গেলেন দুই নারী।

ঘটনাটি ঘটেছে আজ রোববার সকালে বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় হাসপাতালের নাক-কান-গলা বিভাগে। এ বিষয়ে দায়িত্ব পালনে গাফিলতির অভিযোগ তদন্তে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে।

মৃত্যুবরণকারী দুজন হলেন- বরিশাল সদর উপজেলার কাশীপুর ইউনিয়নের বাবুল হাওলাদারের স্ত্রী হেলেনা বেগম (৪৮) ও পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ডাবলুগঞ্জ ইউনিয়নের মান্নান তালুকদারের স্ত্রী শেফালি বেগম।  

জানা গেছে, হেলেনা বেগম গত ২৩ ফেব্রুয়ারি এবং শেফালী বেগম ৮ মার্চ শেবাচিম হাসপাতালের নাক-কান-গলা বিভাগের নারী ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছিলেন। হেলেনা থাইরয়েড এবং শেফলী মুখের ভেতর টিউমারজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। আজ রোববার তাদের অস্ত্রোপচারের নির্ধারিত দিন ছিলো।

হেলেনার ছেলে ইব্রাহিম বলেন, সেবিকা ইনজেকশন পুশ করার পর তার সুস্থ মা অসুস্থ হয়ে যান এবং মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। অপরদিকে শেফালির মেয়ে খাদিজা বেগম জানান, তার মা সুস্থ ছিলেন। সকালে নার্স এসে কয়েকটা ইনজেকশন দেওয়ার পরই অসুস্থ হয়ে পড়েন। বিষয়টি নার্সদের জানানো হলেও তারা ভ্রূক্ষেপ করেননি, চোখের সামনে সুস্থ মা অসুস্থ হয়ে মারা গেলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পর পর দুটি মৃত্যুর ঘটনায় স্বজনদের আহাজারিতে ওয়ার্ডে হুলুস্থুল পরিবেশের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউল মুনীর ওয়ার্ডে যান। তিনি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিশ্চিত হন যে, সেবিকারা ভুল ইনজেকশন পুশ করায় দুজন রোগী মারা গেছেন। 
দু’জন রোগীর শরীরে ইনজেকশন পুশ করেছেন সেবিকা হেলেন অধিকারী। তিনি নিজেকে অসুস্থ দাবি করে বলেন, ইনজেকশনের ভায়েল ভেঙেছেন আরেক সেবিকা মলিনা হালদার। দুজন রোগীর মৃত্যুতে তিনি অপরাধবোধ করছেন।

সেবিকা মলিনা হালদার বলেন, চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী অপারেশন থিয়েটারে যাওয়ার আগে যেসব ইনজেকশন দেওয়ার কথা তিনি সেগুলো দিয়েছেন। এতে রোগীরা আরও অসুস্থ হলে চিকিৎসককে মোবাইল ফোনে জানানো হয়। তখন যে ধরনের ইনজেকশন দিতে বলেছেন তাই দেওয়া হয়েছে। অনিচ্ছুকৃত ভুল কেন হলো তা বুঝে উঠতে পারছি না।  

এ বিষয়ে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে দায়িত্বপ্রাপ্ত সেবিকা তত্ত্বাবধায়ক খাদিজা বেগম বলেন, কার ভুলে এমনটা হলো তা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে দেখবেন।

হাসপাতাল পরিচালক ডা. এ কে এম মশিউল মুনীর বলেন, মৃত্যুবরণ করা দুই রোগীর শরীরে আজ রোববার অস্ত্রোপচার হওয়ার কথা ছিল। এ ক্ষেত্রে কিছু ওষুধ অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার আগে এবং থিয়েটারে নেওয়ার পর কিছু ওষুধ প্রয়োগ করতে হয়। অ্যানেসথেটিক ড্রাগ দেওয়ার পরে রোগীর এমন কিছু পরিবর্তন ঘটে যা মেশিনের মাধ্যমে কাজ করাতে হয়, কিন্তু ওই ওষুধ সেবিকারা অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার আগে ওয়ার্ডে থাকাবস্থায় রোগীর শরীরে পুশ করেছেন। ফলে কিছুসময় পরে রোগীরা মৃত্যুবরণ করেন।

এটি অবশ্যই পেশাদারিত্বে জায়গা থেকে দায়িত্ব অবহেলা এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ ঘটনায় নাক-কান-গলা বিভাগের প্রধান সহকারী অধ্যাপক আমিনুল ইসলামকে প্রধান করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। তারা আগামী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেবেন। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Link copied!