ঢাকা বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩
amaderkhobor24.com

স্পট মার্কেট থেকে দুই কার্গো এলএনজি কিনছে সরকার

আমাদের খবর ২৪

প্রকাশিত: জুন ১৭, ২০২৬, ০৫:২৬ পিএম

স্পট মার্কেট থেকে দুই কার্গো এলএনজি কিনছে সরকার

হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাবে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় জ্বালানি আমদানিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলা এবং দেশের বিদ্যমান জ্বালানি চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে স্পট মার্কেট থেকে দুই কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

বুধবার (১৭ জুন) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাব অনুযায়ী আন্তর্জাতিক কোটেশন পদ্ধতিতে তিন কার্গো এলএনজি কেনার প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছিল। তিন কার্গোর মোট প্রস্তাবিত ব্যয় ছিল ২ হাজার ১১২ কোটি ৬০ লাখ ৩৩ হাজার ৬৩৪ টাকা। তবে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি আংশিক অনুমোদন দিয়ে দুই কার্গো কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে ব্যয় হবে প্রায় ১ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা। এই এলএনজি মূলত জুন মাস এবং জুলাইয়ের প্রথম দিকের তাৎক্ষণিক জ্বালানি চাহিদা মেটাতে দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করবে।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব সাংবাদিকদের বলেন, ‘হরমুজ প্রণালিতে চলমান সংকট বাংলাদেশের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। দেশের এলএনজি ও অন্যান্য জ্বালানি আমদানির দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় নির্ধারিত সময়ে কিছু চালান পাওয়া যাচ্ছে না। এই বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এবং দেশের জরুরি চাহিদা পূরণে সরকারকে স্পট মার্কেটের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।’

তৃতীয় কার্গোটি এখনই না কেনার সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম বর্তমানে কিছুটা নিম্নমুখী। সরকারি অর্থ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে পরিস্থিতি আরও কয়েকদিন পর্যবেক্ষণ করা হবে। এর মধ্যে যদি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির কোনো চালান দেশে পৌঁছে যায় অথবা বাজার পরিস্থিতির আরও উন্নতি হয়, তাহলে অতিরিক্ত ব্যয় এড়ানো সম্ভব হবে।’

স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি ক্রয়ের মূল্য নির্ধারণের বিষয়ে তিনি জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রচলিত বিভিন্ন সূচক ও পূর্ববর্তী কয়েক মাসের গড় দামের ভিত্তিতে এই দাম ঠিক করা হয়েছে।

বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের সংকট ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার দিকে যাচ্ছে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করলেও তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক এই পরিস্থিতি বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানি ব্যবস্থাকে নতুন করে পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে নিয়ে এসেছে।

Link copied!