এলএনজি, সার, ভোজ্য তেল ও মসুর ডাল আমদানি এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘আর্ন’ প্রকল্পে দেশের আটটি বিভাগে সার্ভিস প্রভাইডার নিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত ক্রয় কমিটির সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৈঠক শেষে অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, বৈঠকে স্পট মার্কেট থেকে দুই কার্গো এলএনজি আমদানির একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেড’ ও ‘গানভর সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেড’ কার্গো দুটি সরবরাহ করবে। এতে মোট ব্যয় হবে বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ হাজার ৩৫৫ কোটি ৮২ লাখ ৭৯ হাজার টাকা।
বৈঠকে আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে ২ কোটি লিটার পরিশোধিত সয়াবিন তেল ও স্থানীয় বাজার থেকে ২ কোটি লিটার পাম অয়েল কেনার দুটি পৃথক প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দুই প্রস্তাবে মোট ব্যয় হবে ৬৪৫ কোটি ৭ লাখ টাকা।
এছাড়া সাড়ে ২২ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনার দুটি পৃথক প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১০ হাজার মেট্রিক টন ডাল স্থানীয় বাজার থেকে এবং সাড়ে ১২ হাজার মেট্রিক টন ডাল আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে কেনা হবে। দুই প্রস্তাবে মোট ব্যয় হবে ১৬৭ কোটি ২৪ লাখ ১৫ হাজার টাকা। বৈঠকে সার ক্রয়ের দুটি পৃথক প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বিএডিসির জন্য মরক্কোর ওসিপি নিউট্রিক্রপস থেকে ৩০ হাজার মেট্রিক টন টিএসপি সার আমদানি করা হবে। প্রতি মেট্রিক টন ৭১৩ ডলার দরে বাংলাদেশি মুদ্রায় এতে ব্যয় হবে ২৬৩ কোটি ৬৩ লাখ ১৭ হাজার টাকা। অন্যদিকে কাফকো থেকে কেনা হবে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ব্যাগড গ্রানুলার ইউরিয়া সার। প্রতি মেট্রিক টন ৫৪০.৭৫ ডলার দরে এতে মোট ব্যয় হবে ১৯৯ কোটি ৯৪ লাখ ২৩ হাজার টাকা।
আর্ন প্রকল্প: বৈঠকে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর কর্তৃক দেশের আটটি বিভাগে ইকোনমিক এক্সিলারেশন অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ফর নিট (আর্ন) প্রকল্প বাস্তবায়নে ১০টি প্যাকেজের ১০টি পৃথক প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে মোট ব্যয় হবে ১ হাজার ১০৬ কোটি ৫২ লাখ ৯৬ হাজার টাকা।
বৈঠক সূত্রে জানাগেছে, বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে যুবক ও যুব নারীদের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্তকরণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা, চাকরি বা প্রশিক্ষণে নেই-(নিট) ১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সি এমন ৯ লাখ যুবকে (যাদের মধ্যে ৬০শতাংশই যুব নারী) প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্যে গৃহীত ‘আর্ন’ প্রকল্প সেই অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে একটি অন্যতম প্রধান উদ্যোগ। প্রকল্পটি বাংলাদেশের সৃজনশীল শিল্প ও ক্রীড়া শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও সহায়তা করবে। প্রকল্প সূত্র জানিয়েছে, ‘আর্ন’ প্রকল্পটি বিশ্বব্যাংকের ৩০ কোটি ডলার ঋণ সহায়তায় পরিচালিত একটি উন্নয়ন প্রকল্প, যার লক্ষ্য বিশেষত গ্রামীণ অঞ্চলের যুবদের, অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা।
বিশ্বব্যাংকের ক্রয় নির্দেশিকা অনুযায়ী, বাংলাদেশের আট বিভাগের প্রকল্প এলাকাকে ১০টি প্যাকেজে বিভক্ত করে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্রয় কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। প্রস্তাব মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশকৃত এবং বিশ্বব্যাংকের অনাপত্তিপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান হলো ব্র্যাক, সেভ দ্য চিলড্রেন, কেয়ার বাংলাদেশ এবং ঢাকা আহছানিয়া মিশন। ব্র্যাক কাজ করবে ঢাকা ও রংপুর বিভাগে। সেভ দ্য চিলড্রেন বরিশাল এবং কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলায়, কেয়ার বাংলাদেশ তিন পার্বত্য জেলা এবং খুলনা, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী বিভাগে এবং ঢাকা আহছানিয়া মিশন কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও চাঁদপুর জেলা এবং সিলেট বিভাগে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান তাদের জয়েন্টভেঞ্চারদের নিয়ে ২০২৮ সালের মধ্যে ৬৪ জেলার ২৫০ উপজেলার গ্রাম পর্যায়ে ৫ হাজার প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপন করবে। সেসব কেন্দ্রের মাধ্যমে ৮ লাখ যুবক ও যুবনারীকে বর্তমান সময়ের চাহিদা ভিত্তিক বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বাবলম্বী হয়ে ওঠার পথ দেখাবে। ‘আর্ন’ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কাজী মোখলেছুর রহমান জানান, প্রকল্পটি বর্তমান সরকারের যুব কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও ভবিষ্যত্মুখী খাতসমূহ বিকাশের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
ক্রয় কমিটির বৈঠকের আগে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সাতটি প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘খাল পুনরুদ্ধার, সংস্কার ও নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টি (১ম সংশোধিত) প্রকল্পের আওতায় প্যাকেজ নং ১৭, ১৮, ২০, ২১ ২২, ২৫ এবং ৩০ এর অন্তর্ভুক্ত কাজ সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর মাধ্যমে বাস্তবায়নের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।