ঢাকা শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল, ২০২৬, ২০ চৈত্র ১৪৩২
amaderkhobor24.com

হাম হলে শিশুর যত্নে যা করণীয়

আমাদের খবর ২৪

প্রকাশিত: এপ্রিল ৩, ২০২৬, ০৬:৫৬ পিএম

হাম হলে শিশুর যত্নে যা করণীয়

হাম একটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়া সংক্রামক রোগ। সাধারণত জ্বর, কাশি ও শরীরে লালচে দানার মাধ্যমে এই রোগ প্রকাশ পায়। সঠিক সময়ে যত্ন ও সচেতনতা শিশুকে দ্রুত সুস্থ করে তুলতে পারে। অভিভাবকদের জন্য হাম আক্রান্ত শিশুর যত্নে কিছু জরুরি পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

চলুন, জেনে নিই।
১। আক্রান্ত শিশুর যত্নে ৪টি মূল মন্ত্র
হামের সময় শিশুর যত্নে চারটি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি :

উপসর্গের চিকিৎসা : জ্বর, নাক বন্ধ বা চোখের সমস্যার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

পর্যাপ্ত পুষ্টি : শিশুকে বেশি করে বুকের দুধ ও তরল খাবার (যেমন- ডাবের পানি বা স্যুপ) দিন।

ভিটামিন-এ : হাম হলে শরীরে ভিটামিন-এ এর ঘাটতি হয়, তাই চিকিৎসকের পরামর্শে সাপ্লিমেন্ট নিশ্চিত করুন।

কড়া নজরদারি : শিশুর শ্বাস-প্রশ্বাস বা জ্বরের মাত্রার দিকে সার্বক্ষণিক খেয়াল রাখুন।

২। ঘরোয়া যত্ন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা
জ্বর ও কাশি : জ্বর ১০১.৩ ডিগ্রি ফারেনহাইটের (৩৮.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস) বেশি হলে ওষুধ দিন।

শিশুকে ঢিলেঢালা পোশাক পরান। ১ বছরের বেশি বয়সী শিশুদের কাশির জন্য মধু বা লেবু চা দেওয়া যেতে পারে।
পরিচ্ছন্নতা : ‘হাম হলে গোসল করা যাবে না’—এই ধারণা ভুল। প্রতিদিন কুসুম গরম পানিতে গোসল করালে বা শরীর মুছিয়ে দিলে শিশু আরাম পায়। শিশুর নখ ছোট রাখুন,  যাতে চুলকানি থেকে ত্বকে ঘা না হয়।

বিচ্ছিন্ন রাখা : অসুস্থ শিশুকে সুস্থ শিশুদের থেকে আলাদা রাখুন। পরিচর্যাকারীকে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে এবং শিশুকে ধরার আগে ও পরে হাত ধুতে হবে।

৩। কখন দ্রুত হাসপাতালে নেবেন?
নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দেরি না করে শিশুকে হাসপাতালে নিতে হবে :

দ্রুত শ্বাস নেওয়া : ১ বছরের কম বয়সের শিশুর মিনিটে ৫০ বারের বেশি এবং ১ বছরের বেশি শিশুর ৪০ বারের বেশি শ্বাস নেওয়া।

পানিশূন্যতা : ঠোঁট শুকিয়ে যাওয়া, কাঁদার সময় চোখে পানি না আসা বা প্রস্রাব কমে যাওয়া।

তীব্র সমস্যা : খিঁচুনি হওয়া, অতিরিক্ত নিস্তেজ হয়ে পড়া, খাবার বা বুকের দুধ খেতে না পারা।

অন্যান্য : কানে ব্যথা, চোখে ঘা, চার দিনের বেশি জ্বর বা মুখে অনেক বেশি ঘা হওয়া।

বিশেষজ্ঞের টিপস : হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকা। শিশুকে ৯ মাস বয়সে প্রথম ডোজ এবং পরবর্তী সময়ে দ্বিতীয় ডোজ টিকা নিশ্চিত করুন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া শিশুকে কোনো অ্যান্টিবায়োটিক বা কড়া ওষুধ খাওয়াবেন না।

Link copied!