মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার জন্য পুরস্কার হিসেবে ৫০ মিলিয়ন ইউরো প্রদানের একটি বিল পর্যালোচনা করছে ইরানের পার্লামেন্ট। ইরানের শীর্ষ নেতা ও কমান্ডারদের হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ট্রাম্পকে হত্যা করতে পারলে এই অর্থ দেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা এই তথ্য জানিয়েছেন।
ইরানি পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিটির প্রধান ইব্রাহিম আজিজি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, গত মার্চের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে আইনপ্রণেতারা বেশ কয়েকটি বিল তৈরি করেছেন। এর মধ্যে একটি হলো `সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা পদক্ষেপ`।
আজিজি বলেন, ` আমরা বিশ্বাস করি যুক্তরাষ্ট্রের ওই নরাধম প্রেসিডেন্ট, অশুভ ও কলঙ্কিত জায়নিস্ট প্রধানমন্ত্রী এবং সেন্টকম কমান্ডারকে অবশ্যই লক্ষ্যবস্তু করতে হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে সমতুল্য ব্যবস্থা নিতে হবে।`তিনি আরও বলেন, `এটি আমাদের অধিকার। ঠিক যেভাবে আমাদের ইমাম শহীদ হয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধেও যেকোনো মুসলিম বা স্বাধীনচেতা মানুষকে একইভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে।`
বিলে প্রস্তাবিত পুরস্কারের বিষয়ে আজিজি জানান, `যদি কোনো ব্যক্তি বা আইনি প্রতিষ্ঠান এই ধর্মীয় ও আদর্শিক মিশন সম্পন্ন করে, তবে সরকার তাকে ৫০ মিলিয়ন ইউরো পুরস্কার হিসেবে দিতে বাধ্য থাকবে।`এর আগে মার্চের শুরুতে ইরানে মোবাইল ব্যবহারকারীদের কাছে একটি গণ-এসএমএস পাঠানো হয়েছিল। সেখানে ট্রাম্পকে হত্যার জন্য একটি `আন্তর্জাতিক প্রচারণায়` সমর্থনের আহ্বান জানানো হয়। তেহরান-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম `দিদবান ইরান` জানিয়েছে, এই প্রচারণায় ইতিমধ্যে প্রায় ২ লাখ ৯০ হাজার মানুষ সমর্থন জানিয়েছেন এবং সংগৃহীত অর্থের পরিমাণ ২৫ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে ব্রুকলিন আদালতের একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, ইরান-সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি ২০২৪ সালে ট্রাম্পকে হত্যার পরিকল্পনা বর্ণনা করছেন। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রকাশিত ওই গোপন ভিডিওতে দেখা যায়, ওই ব্যক্তি দুইজনকে ভাড়া করার চেষ্টা করছেন এবং একটি ন্যাপকিনের ওপর ভ্যাপ পেন রেখে তার `টার্গেট` বা লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করছেন।
এছাড়া ২০২৪ সালের নভেম্বরে মার্কিন বিচার বিভাগ জানায়, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার একটি চক্রান্ত ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছে, যার পেছনে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) হাত ছিল।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে ইরাকে মার্কিন হামলায় আইআরজিসি-র কুদস ফোর্সের প্রধান কাসেম সোলেইমানি নিহত হওয়ার পর থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে হত্যার হুমকির তালিকায় রয়েছেন।