ঢাকা শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩
amaderkhobor24.com
বিশ্লেষণ

ইরানকে কাবু করতে ট্রাম্পের ‘অ্যানাকোন্ডা কৌশল’

আমাদের খবর ২৪

প্রকাশিত: আগস্ট ২১, ২০২৬, ১০:১০ এএম

ইরানকে কাবু করতে ট্রাম্পের ‘অ্যানাকোন্ডা কৌশল’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প । ফাইল ছবি

যুদ্ধক্ষেত্রে কৌশল বদলে এখন অর্থনীতিকে হাতিয়ার করেছে ওয়াশিংটন ও তেহরান। মধ্যপ্রাচ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাত কিছুটা থমকে গেলেও শুরু হয়েছে এক অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কূটনৈতিক টেবিলে নতি স্বীকারে বাধ্য করতে এক কঠোর ‘অ্যানাকোন্ডা কৌশল’ নিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য হচ্ছে—কোনো জাতীয় পরিকাঠামো ধ্বংস না করে, অর্থনৈতিকভাবে শ্বাসরোধ করে তেহরানের শাসনব্যবস্থাকে কোণঠাসা করা।

এই কৌশলের সবচেয়ে প্রধান ও মূল হাতিয়ার হলো নৌ-অবরোধ। মার্কিন নৌবাহিনী কেবল হরমুজ প্রণালিতেই সীমাবদ্ধ নেই; বরং ভারত মহাসাগরেও অবস্থান নিয়ে ইরানের জ্বালানি তেল চোরাচালানের ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা গোপন জাহাজের বহর জব্দ করছে।

চীন ও ভারতে সস্তায় তেল পাঠানো আটকানোর পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কাঁচামাল আমদানি বন্ধ করে দিয়েছে ওয়াশিংটন। ফলে ইরানের তেলখনি ও খারগ দ্বীপের ট্যাংকারগুলো ধারণক্ষমতার শীর্ষে পৌঁছে যাওয়ায় দেশটির খনি থেকে অপরিশোধিত তেল উত্তোলন পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে, যা তাদের অর্থনীতিকে দীর্ঘমেয়াদি ধসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

নৌ-অবরোধের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ডিজিটাল অর্থনীতির ওপর আঘাত হেনেছে। সম্প্রতি মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) ব্যবহৃত লাখ লাখ ডলার সমমূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি অ্যাকাউন্ট জব্দ করেছে। পাশাপাশি যেসব ছোট ছোট চীনা শোধনাগার ইরানের কাছ থেকে গোপনে তেল কিনছিল, সেগুলোর ওপরও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

মার্কিন নীতিনির্ধারকদের মতে, অবকাঠামোতে হামলা চালালে সাধারণ ইরানিরা বর্তমান সরকারের পক্ষে জাতীয়তাবাদী শক্তিতে ঐক্যবদ্ধ হতে পারে। কিন্তু এই অর্থনৈতিক অবরোধ অব্যাহত রাখলে যুদ্ধ–পরবর্তী সময়ে সাধারণ জনগণের তীব্র গণবিক্ষোভের মুখে তেহরানের আয়াতুল্লাহ সরকার বা আইআরজিসির অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়বে।

তবে ইরানও বসে নেই। তেহরান মূলত সময়ের সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে। হরমুজ প্রণালিতে সংকট বজায় রেখে জ্বালানির বিশ্ববাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার ফায়দা তুলতে চায় তারা। তেহরানের বাজি হলো, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের ওপর চাপ বৃদ্ধি পেলে ওয়াশিংটনই নতি স্বীকার করতে বাধ্য হবে।

তবে ইসরায়েলি গোয়েন্দা ও সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, শুধু অর্থনৈতিক অবরোধ দিয়ে তেহরানের কট্টরপন্থী শাসনব্যবস্থাকে কাবু করা কঠিন। তাঁরা মনে করছেন, শেষ পর্যন্ত মূল অবকাঠামোতে কঠোর সামরিক আঘাত ছাড়া ইরানকে তার পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে পুরোপুরি সরিয়ে আনা সম্ভব না–ও হতে পারে।

তেহরানের সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের বিশ্লেষক আলী আকবর দারে ইনি বলেছেন, এ পর্যন্ত যে যুদ্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্প জিততে ব্যর্থ হয়েছেন, তা শেষ করতে তিনি ‘অ্যানাকোন্ডা কৌশল’ ব্যবহার করছেন।

দারে ইনি আল–জাজিরাকে বলেন, সামরিক হামলা চালানোর আগে শত্রুকে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে দমবন্ধ করে দেওয়াই এই কৌশলের লক্ষ্য। অ্যানাকোন্ডা যেভাবে শিকারকে পেঁচিয়ে ধরে তার শ্বাসরোধ করে হত্যা করে, ঠিক তেমনি যুক্তরাষ্ট্রও এই কৌশল অনুসরণ করছে। কারণ, গত পাঁচ মাসে তারা যা করেছে, তা ব্যর্থ হয়েছে।

তবে দারে ইনি যুক্তি দেন, ইরান অতীতেও নিষেধাজ্ঞা সহ্য করতে পেরেছে এবং ভবিষ্যতেও তা করবে। তিনি বলেন, ট্রাম্প এমন এক যুদ্ধে আটকে গেছেন, যেখানে তিনি জিততেও পারছেন না, আবার বেরিয়ে আসতেও পারছেন না।

Link copied!