বিশ্বকাপ ফুটবলের আসরে ইরানের অংশগ্রহণ এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ এবং ওয়াশিংটনের সাথে চরম উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরান দাবি তুলেছে, তাদের সব ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে মেক্সিকোতে নিতে হবে। দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রী আহমদ দুনিয়ামালি সোজা ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, ফিফা যদি এই দাবি মেনে না নেয়, তবে বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।
নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা ও ট্রাম্পের মন্তব্য: ইরান এশিয়া থেকে প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন করলেও তাদের গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস ও সিয়াটলে হওয়ার কথা রয়েছে। তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান-ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি বদলে গেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে বলেছিলেন যে, ইরান বিশ্বকাপে আসতে পারে, তবে তাদের ‘নিরাপত্তা ও জীবন রক্ষার’ খাতিরে সেখানে আসাটা সমীচীন হবে না। ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে ইরান সরকার একটি প্রচ্ছন্ন হুমকি হিসেবে দেখছে।
ইরানি ফুটবল ফেডারেশনের অবস্থান: ইরানের ফুটবল প্রধান মেহেদি তাজ জানান, যেখানে স্বয়ং আয়োজক দেশের প্রেসিডেন্ট ইরানি দলের নিরাপত্তা দিতে পারছেন না, সেখানে তাদের দল কোনোভাবেই যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করবে না। ইরান ফুটবল ফেডারেশন আনুষ্ঠানিকভাবে ফিফার কাছে তাদের সব ম্যাচ মেক্সিকোতে সরিয়ে নেয়ার অনুরোধ জানায়। তবে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, পূর্বনির্ধারিত সূচি ও ড্র অনুযায়ীই সব ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে, ভেন্যু পরিবর্তন সম্ভব নয়।
ক্রীড়ামন্ত্রীর হুঁশিয়ারি: তুরস্কের আনাদোলু নিউজ এজেন্সিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্রীড়ামন্ত্রী দুনিয়ামালি ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘নৈতিকভাবে ভারসাম্যহীন’ বলে সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলা ইরানের জন্য প্রায় অসম্ভব। তবে যদি ফিফা এবং আয়োজক দেশ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার শতভাগ নিশ্চয়তা দেয়, তবেই আমাদের সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি আরও যোগ করেন, ভেন্যু নিয়ে বিতর্ক থাকলেও ইরানি খেলোয়াড়রা তাদের প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছেন এবং তারা মাঠের লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত।
বিশ্বকাপের সূচি ও অনিশ্চয়তা: সূচি অনুযায়ী আগামী ১১ জুন মেক্সিকোতে বিশ্বকাপের পর্দা উঠবে। ইরান বা ‘টিম মেলি’-র প্রথম ম্যাচ ১৬ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। এরপর ২২ জুন বেলজিয়াম এবং ২৬ জুন সিয়াটলে তাদের শেষ গ্রুপ ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে। এখন দেখার বিষয়, ফিফা তাদের অনড় অবস্থান থেকে সরে আসে কি না, নাকি ইরান ছাড়াই অনুষ্ঠিত হবে এবারের বিশ্বমঞ্চের লড়াই। রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের ছায়া এবার ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় আসরকেও সংকটের মুখে ঠেলে দিল।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা