ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন বিএনপির নারী নেত্রীরা। মহিলা দলের পাশাপাশি অতীতে ছাত্রদল করা নেত্রীরা বেশ এগিয়ে আছেন। মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে আছেন সাবেক সংসদ সদস্যরাও। মন্ত্রিসভা গঠনের পর থেকেই সবার দৃষ্টি এখন সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের দিকে।
বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেত্রীরা লবিং-তদবিরে ব্যস্ত। জীবনবৃত্তান্ত জমা দিচ্ছেন সিনিয়র নেতাদের কাছে। বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে যারা রাজপথে ছিলেন তারাই সংরক্ষিত নারী আসনের দাবিদার বলে মনে করছেন মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। দলের দৃষ্টি আকর্ষণে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এসব নেত্রীর উপস্থিতি বাড়ছে।একই সঙ্গে দলের বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ করছেন তারা। প্রায় শতাধিক নারী নেত্রী মনোনয়নের দৌড়ে আছেন।
দলীয় সূত্র বলছে, শুধু সুপারিশ নয়, মাঠপর্যায়ের গ্রহণযোগ্যতা ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে রাজনৈতিক ভূমিকা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে বিএনপি। এক প্রতিদিনের খবরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীও সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন ঠিক করছে বলে জানা গেছে।
এজন্য মহিলা বিভাগ থেকে পরামর্শ নেওয়া হয়েছে। এনসিপি সংরক্ষিত নারী আসনে একজনকে পাঠাতে পারবে। এ পদের জন্য আলোচনায় আছেন দলের বেশ কয়েকজন নেত্রী। ত্রয়োদশ সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন হবে ১২ মে। নির্বাচন কমিশন ৮ এপ্রিল তফসিল ঘোষণা করবে।গতকাল নির্বাচন কমিশনের সভা শেষে সচিব আখতার আহমেদ এ তথ্য জানান।
বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, ভোটে জয়ী দলগুলোর আসন সংখ্যার অনুপাতে সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন বণ্টন করা হয়। সংসদের সাধারণ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচনে ভোট দিয়ে থাকেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি আসন পেয়েছে ২০৯টি। দলটির শরিক গণ অধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ও গণসংহতি আন্দোলন একটি করে আসন পেয়েছে।
অন্যদিকে ৬৮টি আসনে জয়ী হয়ে জামায়াতে ইসলামী বসছে বিরোধী দলের আসনে। ভোটে তাদের জোটের শরিক এনসিপি ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি ও খেলাফত মজলিস পেয়েছে ১টি আসন। দুই জোটের বাইরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আসন পেয়েছে ১টি। ৭টি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। প্রাথমিক বণ্টন অনুযায়ী, বিএনপি জোট ৩৬টি, জামায়াত জোট ১৩টি এবং স্বতন্ত্ররা মিলে একটি সংরক্ষিত আসন পেতে পারে। সংসদ নির্বাচনের পরদিন ১৩ ফেব্রুয়ারি নির্বাচিতদের গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত মহিলা আসনের ভোটের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
সংসদের সাধারণ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ভোটার তালিকা ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে। সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জোট করার বিষয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। দল ও জোটগতভাবে সংরক্ষিত আসন সংখ্যা চূড়ান্তের পর তফসিল হতে যাচ্ছে।
১২ ফেব্রুয়ারি ২৯৯ আসনে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন হয়। গেজেট প্রকাশ করা হয় ২৯৭ আসনের। আদালতের আদেশে দুটি আসনের (চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪) ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ স্থগিত রয়েছে।