ঢাকা সোমবার, ০৩ আগস্ট, ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
amaderkhobor24.com

পে-স্কেল কার্যকর হলে বকেয়া বেতন কীভাবে পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা

আমাদের খবর ২৪

প্রকাশিত: আগস্ট ২, ২০২৬, ০৪:১৫ পিএম

পে-স্কেল কার্যকর হলে বকেয়া বেতন কীভাবে পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা

প্রতীকী ছবি।

নবম জাতীয় পে-স্কেল গত ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ার ঘোষণা থাকলেও এখনো প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। ফলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আপাতত পুরোনো বেতন কাঠামো অনুযায়ীই বেতন পাচ্ছেন। তবে অর্থ বিভাগ সূত্র নিশ্চিত করেছে, প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে প্রজ্ঞাপন জারি হলে জুলাই মাস থেকে প্রাপ্য অতিরিক্ত অর্থ একসঙ্গেই বকেয়া (এরিয়ার) হিসেবে পরিশোধ করা হবে।

অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, বেতন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের জন্য মন্ত্রিসভার অনুমোদন, বিভিন্ন খাতের জন্য পৃথক আদেশ প্রস্তুত, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক বিভাগের ভেটিং (যাচাই-বাছাই), বিধিবদ্ধ আদেশ (এসআরও) নম্বর গ্রহণ এবং সরকারি মুদ্রণালয়ে (বিজি প্রেস) প্রজ্ঞাপন প্রকাশের মতো বেশ কয়েকটি আনুষ্ঠানিক ধাপ শেষ করতে হয়। এই আইনি ও প্রশাসনিক বাধ্যবাধকতার কারণেই প্রজ্ঞাপন জারিতে সময় লাগছে।

গত বুধবার সচিবালয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, নবম বেতন কমিশনের সুপারিশ নিয়ে কাজ এখনো চলছে। কাজ শেষ হওয়ামাত্রই তা অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিলে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারির কার্যক্রম শুরু হবে। এ সময় তিনি স্পষ্ট করেন, নতুন বেতনকাঠামো কার্যকরের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের কোনো সম্পর্ক নেই। কাজ এগিয়ে চলছে এবং প্রজ্ঞাপন জারিতে খুব বেশি সময় লাগবে না বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আর্থিক চাপ একটি বড় কারণ হিসেবে আলোচনায় এসেছে। আইএমএফের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ভর্তুকি এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে সরকারের ব্যয় দ্রুত বাড়লেও সেই তুলনায় রাজস্ব প্রবৃদ্ধি পিছিয়ে রয়েছে। ধারাবাহিক মূল্যস্ফীতি ও সীমিত আর্থিক সক্ষমতার কারণে এখনই নতুন পে-স্কেল চালু করলে অতিরিক্ত আর্থিক ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে সংস্থাটি সতর্ক করেছে।

রাজস্ব ঘাটতি ও আর্থিক চাপের বিষয়টি উল্লেখ করে আইএমএফ নতুন পে-স্কেল অন্তত দুই বছর পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। আগামী অক্টোবরে সংস্থাটির সঙ্গে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলেও সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। প্রথমে বেতন কমিশন গঠন এবং কমিশনের প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। প্রতিবেদন পাওয়ার পর পর্যালোচনার জন্য সচিব কমিটি গঠনের প্রস্তাব মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কমিটি গঠন করার পর তারা একাধিক বৈঠকে বসে কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা করে নিজেদের সুপারিশসহ চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করে, যা পরে মন্ত্রিসভায় যায়।

এসব ধাপ শেষ হওয়ার পরই সরকারি কর্মচারীরা নতুন পে-স্কেলে বেতন ও জুলাই থেকে বকেয়া অর্থ পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

Link copied!