মেসির সঙ্গে মাঠে সংক্ষিপ্ত আলাপও হয় তার। ছবি: সংগৃহীত
২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল পরিচালনার পরই অবসরের ঘোষণা দিয়ে আলোচনায় আসেন স্লোভেনিয়ার অভিজ্ঞ রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ। ঘোষণার দুই দিন পর প্রথমবারের মতো নীরবতা ভেঙে জানালেন ফাইনাল ম্যাচ পরিচালনার অভিজ্ঞতা, রেফারিং নিয়ে সমালোচনার প্রতিক্রিয়া, লিওনেল মেসির সঙ্গে মাঠের সংক্ষিপ্ত আলাপ এবং আধুনিক ফুটবলে ভিএআরের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে নিজের মতামত।
স্লোভেনিয়ার সংবাদমাধ্যম স্পোর্ট–কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভিনচিচ বলেন, বিশ্বকাপ ফাইনাল পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার খবর প্রথমে তাকে বিস্মিত করেছিল।
তার ভাষায়, ‘শুরুতে এটি আমার জন্য ছিল একটি বড় ধাক্কা। এরপর আমি গর্ব অনুভব করি, কারণ বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া মঞ্চে আমরা স্লোভেনিয়ার প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছিলাম।’
তবে সেই গর্বের পাশাপাশি বিশাল দায়িত্বও অনুভব করেছিলেন বলে জানান তিনি, ‘আমি ফিফা রেফারিজ কমিটি এবং পিয়েরলুইজি কলিনাকে আমার ওপর আস্থা রাখার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছিলাম। একই সঙ্গে বুঝেছিলাম, এই আস্থার মর্যাদা রাখতে হবে এবং ম্যাচটি সফলভাবে শেষ করাই ছিল আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।’
ফাইনালের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে ভিনচিচ বলেন, সহকারী রেফারি তোমাজ ক্লাঞ্চনিক ও আন্দ্রাজ কোভাচিচকে নিয়ে দুই দলের খেলোয়াড়দের খেলার ধরণ, আচরণ এবং সম্ভাব্য ম্যাচ পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ করেছিলেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা খেলোয়াড়দের বৈশিষ্ট্য, খেলা থামলে তাদের প্রতিক্রিয়া এবং খেলার ধরন নিয়ে প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। তবে কোনো ম্যাচের জন্য শতভাগ প্রস্তুত হওয়া সম্ভব নয়। প্রতিটি ম্যাচই আলাদা।’
বিশ্বকাপ ফাইনালের মতো বড় ম্যাচ পরিচালনার মানসিক চাপের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, ‘একজন রেফারির পুরো ক্যারিয়ার যেন একটি ম্যাচের ওপর নির্ভর করে। দায়িত্বটা ছিল বিশাল।’
নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে ভিনচিচের মূল্যায়ন, ম্যাচ শেষে রেফারিং নিয়ে বড় কোনো বিতর্ক না হওয়াই তাদের সফলতার প্রমাণ।
তিনি বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, আমরা সঠিকভাবেই ম্যাচ পরিচালনা করেছি।’
দীর্ঘদিন একসঙ্গে দায়িত্ব পালন করায় তার সহকারী কর্মকর্তারা পরিবারের সদস্যের মতো হয়ে উঠেছিলেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাদের সহযোগিতা ছাড়া এই সাফল্য সম্ভব হতো না বলে উল্লেখ করেন ভিনচিচ।
সাক্ষাৎকারে লিওনেল মেসির সঙ্গে ফাইনালে হওয়া কথোপকথনের বিষয়েও প্রশ্ন করা হয়। তবে সেই আলোচনা প্রকাশ করতে রাজি হননি তিনি।
ভিনচিচ বলেন, ‘সেই কথোপকথন মাঠেই রেখে দিতে চাই। তবে এটুকু বলতে পারি, মেসি অত্যন্ত ক্রীড়াসুলভ আচরণ করেছে।’
আধুনিক ফুটবলে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) প্রযুক্তিরও জোরালো সমর্থন জানান এই সাবেক রেফারি। তার মতে, খেলার গতি এতটাই বেড়েছে যে প্রযুক্তির সহায়তা ছাড়া নির্ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন।
তিনি বলেন, ‘ভিডিও দেখে ভুল সিদ্ধান্ত সংশোধন করা যায়। বর্তমান ফুটবলের গতিতে সবকিছু খালি চোখে দেখা সম্ভব নয়। প্রযুক্তির সহায়তা ছাড়া এখন রেফারিং করার কথা আমি কল্পনাও করতে পারি না।’
অবসরের পর ভিনচিচের এই মন্তব্য বিশ্বকাপ ফাইনাল নিয়ে চলমান আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশেষ করে নিজের সিদ্ধান্তের পক্ষে তার অবস্থান এবং মেসির ক্রীড়াসুলভ আচরণের প্রশংসা ফুটবল অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।