ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
amaderkhobor24.com

আমি ক্ষমতা চাই না, কিন্তু জনগণের প্রতি আমার দায়িত্ব অস্বীকার করতে পারি না: শেখ হাসিনা

আমাদের খবর ২৪/ কেপি

প্রকাশিত: জুন ১০, ২০২৬, ০৪:১৯ পিএম

আমি ক্ষমতা চাই না, কিন্তু জনগণের প্রতি আমার দায়িত্ব অস্বীকার করতে পারি না: শেখ হাসিনা

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে ভারতের ‘এই সময়’ পত্রিকাকে দেওয়া এক দীর্ঘ একান্ত সাক্ষাৎকারে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমতার মোহ তার নেই, কিন্তু দেশের মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতাকে তিনি কোনোভাবেই এড়িয়ে যেতে পারেন না।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণভবন ছাড়ার মুহূর্তটিকে তিনি অত্যন্ত ভীতিকর ও আকস্মিক হিসেবে বর্ণনা করেন। দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে হাসিনা বলেন, ‘আমি টুঙ্গিপাড়ায় চলে যাব বলে প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। প্রকৃতপক্ষে আমি জানতামই না যে আমি দেশের বাইরে যাচ্ছি।’ তিনি জানান, নিরাপত্তা পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করায় এবং গণভবন আক্রমণের মুখে থাকায় পদত্যাগপত্র তৈরির মতো ন্যূনতম সময়ও তিনি পাননি।

ক্ষমতা বা পদ পদবি নয়, বরং জনগণের উন্নয়নই ছিল তার রাজনীতির মূল লক্ষ্য। শেখ হাসিনা বলেন, "আমি দেশের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য, তাদের উন্নত জীবন নিশ্চিত করার জন্য দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করেছি। তাদের জীবনের বিনিময়ে ক্ষমতায় টিকে থাকার চিন্তা আমি কখনওই করিনি।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তিনি মানুষের পাশে থাকার মানসিকতা পোষণ করেন।

জুলাই-আগস্টের আন্দোলনকে ‘স্বতঃস্ফূর্ত’ মানতে নারাজ শেখ হাসিনা। তার মতে, এটি ছিল সরকার পরিবর্তনের এক পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র, যেখানে দেশি-বিদেশি স্বার্থান্বেষী মহল জড়িত ছিল। আন্দোলনকারী ও সমন্বয়কদের বিভিন্ন মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, পুলিশ হত্যা, মেট্রোরেলে ভাঙচুর এবং অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা ছিল এই আন্দোলনের নেপথ্যে থাকা পরিকল্পনার অংশ।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) কর্তৃক ঘোষিত নিজের মৃত্যুদণ্ডের রায়কে তিনি রাজনৈতিক প্রতিশোধ হিসেবে অভিহিত করেন। একইসঙ্গে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশন এর তদন্ত প্রতিবেদন নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। হাসিনা বলেন, যারা অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেছে, তাদের আমন্ত্রণে পরিচালিত তদন্ত কখনোই স্বাধীন ও নিরপেক্ষ হতে পারে না।

সাক্ষাৎকারের শেষে অবসরে যাওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে শেখ হাসিনা পুনরায় নিশ্চিত করেন যে, দেশের জনগণের দুঃসময়ে তিনি নিজেকে গুটিয়ে নিতে চান না। তিনি বিশ্বাস করেন, সত্যের পথ সবসময় কঠিন হলেও তা শেষ পর্যন্ত জয়ী হয় এবং দেশের মানুষের কল্যাণই তার রাজনৈতিক জীবনের একমাত্র ব্রত।

Link copied!