ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩
amaderkhobor24.com

‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিছিল: ১৫ আসামির রিমান্ড, তদন্ত কর্মকর্তাকে ভর্ৎসনা

আমাদের খবর ২৪

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬, ০৬:১৬ পিএম

‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিছিল: ১৫ আসামির রিমান্ড, তদন্ত কর্মকর্তাকে ভর্ৎসনা

ঢাকার গুলশানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিছিলের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় ১৫ আসামিকে তিন দিনের রিমান্ড দিয়েছে আদালত।

তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা রিমান্ডের আদেশ দেয়।

প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই মোক্তার হোসেন রিমান্ডের তথ্য দিয়েছেন।

এদিকে রিমান্ড শুনানিতে তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার এসআই রুহুল আমিনকে ভর্ৎসনা করেছে আদালত।

রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন, নিরব খান, সাইফুল ইসলাম, জুয়েল শিকদার, সাহেদ, শান্ত শেখ, হারুন ভাইজভান্ডারী, খালেদ মাহমুদ ফয়সাল, সফিকুর রহমান, বিল্লাল গাজী, ইসমাঈল সিরাজী, আরিফুর রহমান দিপু, ইদ্রিসুল আলম, জয়নাল আবেদীন মামুন, জয়ন্ত কুমার বাড়ৈ ও মোজাম্মেল হক।

গত ১১ সেপ্টেম্বর দুপুরে গুলশান-১ এলাকায় কয়েকশ লোকের অংশগ্রহণে একটি মিছিল হয়। পুলিশ তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করতে গেলে মিছিলকারীরা দুটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ দুই রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে।

এ ঘটনায় গুলশান থানার এসআই মো. মাহবুব হোসাইন বাদী হয়ে ওই দিনই সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন। এতে ১১৮ জনের নাম দিয়ে অজ্ঞাতনামা আরও ৮০ থেকে ১০০ জনকে আসামি করা হয়।

এ মামলায় এখন পর্যন্ত ৬৪ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান এসআই মোক্তার হোসেন। তিনি বলেন,"আজ রিমান্ডে যাওয়া ১৫ আসামিকে ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার করা হয়।"

১৭ সেপ্টেম্বর এসআই রুহুল আমিন তাদের ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। আদালত আসামিদের উপস্থিতিতে শুনানির দিন রাখেন বুধবার।

এদিন শুনানিকালে আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। এসআই রুহুল আমিন রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। আসামিদের পক্ষে ওবায়দুর রহমান, লিটন মিয়াসহ কয়েকজন রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন ও হারুন-অর-রশীদ আসামিদের সর্বোচ্চ রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে শুনানি করেন।

শুনানির একপর্যায়ে আসামিপক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়, আরিফুর রহমান ক্যান্টনমেন্ট থানার ছাত্রলীগের নেতা। অথচ তাকে দেখানো হয়েছে ক্যান্টনমেন্ট থানার ছাত্রদল নেতা।

তখন বিচারক জুয়েল রানা তদন্ত কর্মকর্তাকে উদ্দেশ্যে করে বলেন,"কিসের তদন্ত কর্মকর্তা আপনি? ছাত্রলীগকে ছাত্রদল লেখেন। একটা ফরওয়ার্ডিং লিখছেন। তাও আবার গুলশান থানায় আছেন। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলা, যা-তা লিখে পাঠিয়ে দেন।"

এসময় বিচারক জানতে চান, আসামিদের কবে গ্রেপ্তার করেছেন?

তদন্ত কর্মকর্তা বলেন,"বিভিন্ন তারিখে।"

তখন বিচারক বলেন,"কবে গ্রেপ্তার, নির্দিষ্ট করে লেখা যায় না? গড় গড়িয়ে রিমান্ড চান, আর গড় গড়িয়ে রিমান্ডে নেন। রিমান্ডে নিয়ে পোলাও খাওয়ান।"

সাইফুল ইসলামের আইনজীবী আদালতকে বলেন, তিনি তিশার বাবা। তিশা হলেন আলোচিত খন্দকার মুশতাক আহমেদের স্ত্রী।

এসময় আদালত সাইফুল ইসলামের কাছে জানতে চান তাকে কোথা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সাইফুল ইসলাম বলেন,"উত্তর মুগদা এলাকা থেকে।"

বিচারক তদন্ত কর্মকর্তার কাছে জানতে চান, তাকে কোথা থেকে অ্যারেস্ট করেছেন?

তদন্ত কর্মকর্তা জানান, মুগদা থেকে। কবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বিচারক জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা বলতে পারেননি। জানান, উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তখন বিচারক বলেন,"কাজের নামে কাজ না করে অকাজ করে বেড়াচ্ছেন। হাজার টাকা দিলে মিছিলে মানুষ পাওয়া যায়। গোড়ায় যান না কেন? সবকিছুকে প্রশ্নের মধ্যে ফেলে দেন কেন? আবেদন লিখতে ভুল হয়ে যায়। এরকম ভুল হলে কীভাবে মিছিল ঠেকাবেন।"

Link copied!