ঢাকা শনিবার, ০৫ এপ্রিল, ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১
amaderkhobor24.com
অর্ধশত কৃষকের জমির পেঁয়াজ

তুলে নিলেন পলাতক আওয়ামী লীগ নেতার ভাই

আমাদের খবর ২৪

প্রকাশিত: এপ্রিল ৩, ২০২৫, ১০:৪৩ পিএম

তুলে নিলেন পলাতক আওয়ামী লীগ নেতার ভাই

পলাতক খোকসা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বাবুল আক্তারের ভাইয়ের অত্যাচারে অতিষ্ঠ বেতবাড়িয়া ইউনিয়নের বনগ্রাম এলাকার সাধারণ কৃষ। চলতি মৌসুমের কৃষকেরা পিয়াজ উত্তোলন সময় যখন কাঙ্খিত মুনাফা অর্জনের জন্য ব্যস্ত সময় পার করছে তখন সুখে নেই ইউনিয়নের মধুগারা মাঠের কয়েকশত কৃষক। চলতি বছরে পেঁয়াজ চাষে সেচের পানির জন্য বকেয়া টাকা দিতে খোকসা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বাবুল আক্তারের চাচাতো ভাই সেচ পাম্পের মালিক  মুক্তার হোসেন ওরফে সুদে মুক্তারের কাছে দিতে চাইলে সে টাকা না নিয়ে সুদে মুক্তার যখন ঈদের ছুটিতে সকলে পরিবার-পরিজন নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে, সে সময় সকলকে না জানিয়ে প্রায় অর্ধশত কৃষকের জমির পেঁয়াজ নিজস্ব বাহিনী দিয়ে তুলে নিয়ে যায়। বিঘা প্রতি প্রত্যেকবার সেচের পানির জন্য ৯০০ থেকে ১০০০ টাকা নেয়ার কথা থাকলেও মুক্তারের পাম্পের আয়তায় প্রত্যেক পেঁয়াজ চাষীর ক্ষেত থেকে ১৪ থেকে ১৫শত টাকা দরের ১৫ থেকে ২০ মন পেঁয়াজ তুলে নিয়ে যায় আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এ নেতার ভাই এলাকার সকলের কাছে স্বীকৃত সুদের ব্যবসায়ী মুক্তার হোসেন। 

এ ব্যাপারে সরেজমিনে গেলে ভুক্তভোগী কৃষক শাহিন জানান, আমি এ বছর নিজের এক বিঘা জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করি। আবাদের শুরু থেকে দুইবার সেচের প্রয়োজন হয়। যেহেতু মুক্তারের পাম্পের আওতায় আমার জমি তাই তার মাধ্যমে দেয়া হয় জমিতে পানি। একাধিকবার পানির টাকা পরিশোধ করতে চাইলেও সে পানির টাকা নিতে অস্বীকৃতি জানায়। চলতি চৈত্র মাসে পেঁয়াজ তোলা শুরু হয়ে গেলে জমিতে গিয়ে দেখি আমার একদিকে জমি থেকে আনুমানিক ১৫ মন পেঁয়াজ তুলে নিয়ে গেছে মুক্তার। প্রশাসনকে জানানোর বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে এ সময় ভুক্তভোগী কৃষক শাহীন জানান আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে ভয়ে মুখ খুলতে পারিনি। এখনো ভয় ভীতি প্রদর্শন করে যাচ্ছে তারা তবে আওয়ামীলীগ সরকার না থাকায় আপনাদের সাথে কথা বলতে পারছি। এসময় তিনি মুক্তারের সেচ পাম্পের  লাইসেন্স বাতিলের দাবি জানান। 

সাংবাদিকদের দেখে তোফাজ্জল নামের একজন কৃষক অভিযোগ করেন দের বিঘা জমি লিজ নিয়ে পেঁয়াজ লাগান তিনি। এই জমি থেকে আনুমানিক ২০মন পেঁয়াজ আমাকে না জানিয়ে মুক্তার তার নিজস্ব বাহিনীর লোকজন দিয়ে তুলে নিয়ে যায়। এমতাবস্থায় লাভ তো দূরের কথা নিজের পুজি হারানো শঙ্কায় দিনাতিপাত করছি আমি। এ সময় তিনি মুক্তারের বিচারের দাবি জানান।

একই ইউনিয়নের প্রবাসী যুবক তুষার মাহমুদ শুভ মধুগাড়া মাঠে ৬৮ শতাংশ জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করে। দেশে না থাকায় তার অবর্তমানে তার পিতা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবী রবিউল ইসলাম চাষাবাদ দেকভাল করে আসছে। তিনিও সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে উপস্থিত হয়ে অভিযোগ করেন পানি সেচের ৬ হাজার টাকা পরিশোধের জন্য একাধিকবার মুক্তারকে জানানো হলে সে টাকা নিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে ঈদের একদিন পরে স্থানীয় কৃষক আমাকে খবর দিলে জমিতে এসে দেখি আনুমানিক প্রায় ১৭মন পেঁয়াজ যার বাজার  মূল্য প্রায় ২৫ হাজার টাকার পেঁয়াজ আমার ছেলের জমি থেকে নিয়ে গেছে এই মুক্তার হোসেন। এ সময় তিনি আক্ষেপ করে বলেন প্রবাসীর ফসলও যদি কেউ জোর পূর্ব এমন করে নিয়ে যায় তাহলে দেশে বিনিয়োগের ইচ্ছা হারাবে এসব প্রবাসীরা।

এছাড়াও এই মধুগারা মাঠে প্রায় প্রত্যেক কৃষকের কাছ থেকেই এভাবে অবৈধভাবে জোর করে ফসল তুলে নিয়ে যায় সুদের ব্যবসায়ী ও পলাতক প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতার ভাই মুক্তার হোসেন। 

কৃষকের ফসল আত্মসাৎ এর প্রসঙ্গে মুক্তার হোসেনের সাথে কথা বললে তিনি জানান সময় মত আমার টাকা না দেয়ায় আমি ফসল তুলে এনেছি। এ সময় তাকে টাকা পরিশোধ করলে কৃষকের ফসল ফেরত দিবেন কিনা এমন প্রশ্ন করলে তিনি তারপরও ফসল ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানান।

Link copied!