ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
amaderkhobor24.com

বিশেষ সুবিধা ও জাতীয়করণের দাবিতে প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের মানববন্ধন

আমাদের খবর ২৪/ কেপি

প্রকাশিত: মে ২০, ২০২৬, ০৬:২৪ পিএম

বিশেষ সুবিধা ও জাতীয়করণের দাবিতে প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের মানববন্ধন

বিশেষ সুবিধা ও জাতীয়করণের দাবিতে প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের মানববন্ধন। ছবি: সংগৃহীত

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন পরিচালিত এমপিওভুক্ত ৭৫টি বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীরা বর্ধিত বিশেষ সুবিধা, উৎসব ভাতা, পেনশন সুবিধা ও বিদ্যালয় জাতীয়করণের দাবিতে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন ও র‍্যালি করেছেন।

বুধবার (২০ মে) বেলা ১২টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাব–এর সামনে ‘এমপিওভূক্ত ৭৫টি বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’-এর ব্যানারে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন পরিচালিত ৭৫টি বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রায় ১৪ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় এক হাজার শিক্ষক-কর্মচারী কর্মরত আছেন। বিদ্যালয়গুলোতে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী, অটিস্টিক, ডাউন সিনড্রোম ও সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

কর্মসূচিতে শিক্ষক-কর্মচারীরা বলেন, ‘প্রতিবন্ধিতা সম্পর্কিত সমন্বিত বিশেষ শিক্ষা নীতিমালা ২০১৯’-এর ধারা ৬(১)-এ সরকার অনুমোদিত বেতন কাঠামো প্রযোজ্য হওয়ার কথা বলা হয়েছে। একই নীতিমালার ধারা ৬(৪)-এ বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা, উৎসব ভাতা, পেনশন, গ্র্যাচুইটি, ইনক্রিমেন্ট ও অন্যান্য ভাতার বিষয় উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে তারা এসব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন।


তাদের দাবি, ২০২৫ সালে সরকার ঘোষিত ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বিশেষ সুবিধা জুলাই মাসে বেতনের সঙ্গে দেওয়া হলেও পরে তা বন্ধ হয়ে যায়। একইভাবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী উৎসব ভাতা ২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ এবং বাড়িভাড়া মূল বেতনের ৭ দশমিক ৫ শতাংশ করার ঘোষণা দেওয়া হলেও তা কার্যকর হয়নি। বর্তমানে তাঁরা মাসিক এক হাজার টাকা বাড়িভাড়া পাচ্ছেন বলে জানান।

মানববন্ধনে আরও বলা হয়, বিএসএড ডিগ্রি অর্জনকারী শতাধিক শিক্ষক কয়েক বছর ধরে প্রাপ্য বেতন স্কেল পাচ্ছেন না। দীর্ঘদিন শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ থাকায় শিক্ষা কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

কর্মসূচি থেকে শিক্ষক-কর্মচারীরা নয় দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—

১. বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক শিক্ষার্থীদের জন্য জাতীয় বিশেষ শিক্ষা কারিকুলাম তৈরী।
২. ২০২৫ সালের বর্ধিত বিশেষ সুবিধা ১০%-১৫% প্রদান।
৩. অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারীকৃত বিদ্যালয় সমূহের জন্য ৬০% বর্ধিত উৎসব ভাতা প্রদান ।
৪. বিদ্যালয় সমুহের জন্য ৭.৫% বাড়ী ভাড়া ও ১৫% বাড়ী ভাড়া প্রদান ।
৫. বিএসএড পাশ করা শিক্ষকদের প্রাপ্য ন্যায্য বেতন ভাতা প্রদান ।
৬. পেনশন সুবিধা ও গ্র্যাচুইটি, পদোন্নতি, টাইম স্কেল, বেতন বৈষম্য দূরীকরন সহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা প্রদান ।
৭. সিপিএফ এর উপর সরকারী নিয়মে লাভ প্রদান ।
৮. বদলির সুবধা পদান ৷
৯. সরকারী বেতনভূক্ত বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়সমূহের জাতীয়করন।

বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেও দাবি বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে শিক্ষক-কর্মচারীরা বাধ্য হয়ে আন্দোলনে নেমেছেন।

Link copied!