গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার প্রতীকযুক্ত একটি জাহাজে ইসরায়েলি সেনারা। ছবি: রয়টার্স
গাজামুখী ত্রাণবাহী নৌবহর ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’র অন্তত দুটি জাহাজে মঙ্গলবার (১৯ মে) ইসরায়েলের বাহিনী গুলি চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফ্লোটিলার আয়োজকরা জানিয়েছেন, একটি ভিডিওতে ইসরায়েলের সেনাদের গুলি ছোড়ার দৃশ্যও ধরা পড়েছে।
একই দিনে ফ্লোটিলার প্রায় ৫০টি নৌযান আটক করেছে ইসরায়েল। তবে ইসরায়েল কর্তৃপক্ষ এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তারা প্রাণঘাতী গুলি ব্যবহার করেনি এবং কেউ আহত হয়নি।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, একাধিকবার সতর্ক করার পরও নৌযানগুলো এগিয়ে যাওয়ায় সতর্কমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তারা জোর দিয়ে বলেছে, গুলি কোনো বিক্ষোভকারীর দিকে নয়, বরং নৌযান লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছে এবং কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
ফ্লোটিলা সূত্র জানিয়েছে, পূর্ব ভূমধ্যসাগরে থাকা ৫০টি নৌযানের সবকটিই ইসরায়েল আটক করেছে। এতে ৪০টির বেশি দেশের ৪২৮ জন অংশগ্রহণকারী রয়েছেন, যাদের মধ্যে ৭৮ জন তুর্কি নাগরিক। ইসরায়েল অবশ্য বলছে, ৪৩০ জনকে তাদের জাহাজে তুলে নেওয়া হয়েছে এবং তারা এখন ইসরায়েলের দিকে যাচ্ছেন। আটক ব্যক্তিদের নিজ নিজ দেশের কনস্যুলার কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে তারা।
আটক ব্যক্তিদের সংখ্যা নিয়ে দু`পক্ষের তথ্যে সামান্য অমিল দেখা গেছে।
এর আগে সোমবার ইসরায়েল জানিয়েছিল, গাজার বৈধ নৌ অবরোধ ভঙ্গ করতে দেবে না। মঙ্গলবার রাতে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ইসরায়েলের এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা করেন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা গত বৃহস্পতিবার তুরস্ক থেকে তৃতীয়বারের মতো যাত্রা শুরু করে। এর আগের দুটি প্রচেষ্টাও ইসরায়েল আটকে দিয়েছিল।
এদিকে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ মঙ্গলবার ফ্লোটিলার সঙ্গে যুক্ত চার ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তাদের হামাসপন্থী বলে অভিহিত করা হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স