ঢাকা সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩
amaderkhobor24.com

নুডলস খেয়ে নয়, একই পরিবারের ৫ মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য দিল পুলিশ

আমাদের খবর ২৪

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৮, ২০২৬, ০২:৫৮ পিএম

নুডলস খেয়ে নয়, একই পরিবারের ৫ মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য দিল পুলিশ

ভারতের উত্তর প্রদেশের গ্রেটার নয়ডায় নিজ বাড়ি থেকে একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে খাবারে বিষ মিশিয়ে তারা আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। রোববার পুলিশের নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ তথ্য জানিয়েছে।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন—মহেশ (৩৭), তার স্ত্রী ললিতা (৩৫), তাদের সাত বছর বয়সী কন্যাসন্তান মিষ্টি এবং দুই ছেলে লাড্ডু (১১) ও সাক্ষাৎ (৩)। গত শনিবার সকাল আটটার দিকে গ্রেটার নয়ডার নাগলা শ্রী পদম গ্রামে নিজ বাড়ির একটি কক্ষ থেকে এই পাঁচজনের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়।

এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় স্থানীয় একটি মেলায় ঘুরতে গিয়েছিলেন পরিবারের সদস্যরা। রাত আনুমানিক দশটার দিকে বাড়ি ফিরে রাতের খাবারে নুডলস খান তারা। ঘটনার শুরুতে ধারণা করা হয়েছিল যে ফুড পয়জনিং বা খাদ্য বিষক্রিয়ার কারণে তাদের মৃত্যু হতে পারে। তবে পুলিশ সূত্রের দাবি, গৃহকর্তা মহেশ নিজেই সম্ভবত রাতের খাবারের সেই নুডলসে বিষাক্ত কোনো রাসায়নিক দ্রব্য মিশিয়েছিলেন।

তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ মহেশের মুঠোফোন থেকে একটি অডিও নোট বা অডিও বার্তা উদ্ধার করেছে। পুলিশ সূত্র এনডিটিভিকে জানিয়েছে, ওই অডিও বার্তায় পরিবারের এই করুণ পরিণতির জন্য মহেশ তার দুই বোন এবং এক ভগ্নিপতিকে সরাসরি দায়ী করেছেন। এ তথ্যের ভিত্তিতে মহেশের সেই দুই বোন ও ভগ্নিপতিকে ইতিমধ্যে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

মহেশের ভাইয়ের স্ত্রী (ভাবি) নীরজ এনডিটিভিকে জানান, পারিবারিক সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই পরিবারের মধ্যে চরম বিরোধ ও মানসিক অশান্তি চলছিল। তিনি অভিযোগ করেন, তার নিজের স্বামীর মৃত্যুর পর তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। তবে মহেশ তাকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পরিবার আবার একসঙ্গেই বসবাস করবে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী খাদ্য নিরাপত্তা কর্মকর্তারাও নিশ্চিত করেছেন যে এটি স্বাভাবিক খাদ্য বিষক্রিয়া নয়, বরং খাদ্যে বিষ প্রয়োগের ঘটনাই বেশি স্পষ্ট। খাদ্য নিরাপত্তা কর্মকর্তা ওপি সিং সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে জানান, তাদের বিশেষ দল ঘটনাস্থল থেকে নুডলসের প্যাকেটসহ খাবারের মোড়ক ও অন্যান্য উপাদান পরীক্ষা করেছে, তবে সেখানে মেয়াদোত্তীর্ণ কোনো পণ্য পাওয়া যায়নি।

কর্মকর্তা ওপি সিং বলেন, ‘দৃশ্যত এটি কোনো ফুড পয়জনিংয়ের ঘটনা নয়। আমাদের সন্দেহ, খাবারের সঙ্গে কোনো তীব্র বিষাক্ত পদার্থ বা বিষ মেশানো হয়েছিল।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাধারণত ফুড পয়জনিং হলে বমি বা ডায়রিয়ার মতো যেসব শারীরিক উপসর্গ দেখা যায়, নিহতদের ক্ষেত্রে তেমন কোনো আলামতের তথ্য মেলেনি। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে তিনি জানান, ঘটনাস্থলে শিশুদের মধ্যে একজনের মুখ দিয়ে লালা বা ফেনা বের হতে দেখা গিয়েছিল। পুরো ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে বিস্তারিত ময়নাতদন্ত ও পুলিশি তদন্ত চলছে।

Link copied!