প্রকাশিত: মার্চ ২৪, ২০২৬, ০৪:২৮ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে উড়োজাহাজের জ্বালানি জেট ফুয়েলের দাম দেশে এক মাসে দ্বিতীয়বার বাড়ল। মাসের শুরুতে লিটারে বেড়েছিল ১৭ টাকা, এবার বেড়েছে ৯০ টাকা।
আজ মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তিতে জেট ফুয়েলের নতুন দর ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলটরি কমিশন (বিইআরসি)। গত বছরের মে মাস থেকে প্রতি মাসে একবার দাম সমন্বয় করছে তারা। এই প্রথম এক মাসে দুই দফায় দাম সমন্বয় করা হলো।
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক জ্বালানির দামে ব্যাপক ঊর্ধ্বগতিই দ্বিতীয়বার দর সমন্বয়ের কারণ বলে জানিয়েছে বিইআরসি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মিলে ইরানে আক্রমণের মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের সূত্রপাত। এরপর ইরান ওই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে হামলা শুরু করলে তেলসমৃদ্ধ ওই অঞ্চলের প্রায় পুরোটাজুড়ে যুদ্ধ বিস্তৃত হয়। দুই পক্ষের হামলায় লক্ষ্যবস্তু হয় জ্বালানি স্থাপনাগুলো। পাশাপাশি ইরান হরমুজ প্রণালি আটকে দিলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়।
এ পরিস্থিতিতে উড়োজাহাজের জ্বালানি জেট ফুয়েলের দাম এ মাসে দ্বিতীয়বার বাড়িয়ে বিইআরসি জানিয়েছে, নতুন দর আজ দিবাগত রাত ১২টা থেকে কার্যকর হবে।
জেট ফুয়েলের লিটার দেশের ভেতরে ফ্লাইট পরিচালনার জন্য দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২ টাকা ২৯ পয়সা। এর আগে দাম ছিল ১১২ টাকা ৪১ পয়সা। গত মাসে এ দাম ছিল ৯৫ টাকা ১২ পয়সা।
এবারে প্রতি লিটারের দাম বেড়েছে ৮৯ টাকা ৮৮ পয়সা। এর আগে গত ৮ মার্চ প্রতি লিটারে বেড়েছিল ১৭ টাকা ২৯ পয়সা।
আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটারের দাম ০.৭৩৮৪ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১.৩২১৬ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।
আগে জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণ করত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। তবে নির্বাহী আদেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম নির্ধারণের ধারা অন্তর্বর্তী সরকার বাতিল করে দেয়। এরপর ২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ফার্নেস অয়েল, জেট এ–১–এর দাম নির্ধারণের এখতিয়ার বিইআরসিকে দেওয়া হয়।
প্রজ্ঞাপনের পর গত বছরের ২৩ মার্চ প্রথমবারের মতো জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণে গণশুনানি গ্রহণ করে বিইআরসি। এর পর থেকে প্রতি মাসে দাম সমন্বয় করা হচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন :