ঢাকা শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮ ফাল্গুন ১৪৩২
amaderkhobor24.com

পিতার দেখানো পথই পুত্রের পাথেয়....

আমাদের খবর ২৪/ কেপি

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬, ১০:৫২ এএম

পিতার দেখানো পথই পুত্রের পাথেয়....

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফটো কোলাজ: আমাদের খবর

পিতা–পুত্রের রাজনৈতিক দর্শন, জীবনধারা ও কর্মপন্থার ধারাবাহিকতা বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে দেখা যায়। সেই ধারাবাহিকতায় তারেক রহমান তার পিতা জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক চিন্তা, সাধারণ জীবনযাপন এবং জনগণকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিকে ধারণ করে দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা নিয়ে ভাবছেন—এমন একটি চিত্র বহু সমর্থকের চোখে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

জিয়াউর রহমান: সাধারণ মানুষের রাষ্ট্রচিন্তার প্রতীক
জিয়াউর রহমানকে অনেকেই স্মরণ করেন একজন বাস্তববাদী, কর্মমুখী এবং জনগণের খুব কাছাকাছি থাকা নেতা হিসেবে। তার রাজনৈতিক দর্শনের মূল কেন্দ্রে ছিল—রাষ্ট্রের উন্নয়ন মানেই মানুষের উন্নয়ন। তিনি বিশ্বাস করতেন, নীতিনির্ধারণ কেবল ক্ষমতার কাঠামোতে সীমাবদ্ধ থাকলে চলে না; সেটিকে মানুষের জীবনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হতে হবে।

সাধারণ জীবনধারণ, প্রটোকল কমিয়ে মানুষের কাছে পৌঁছানো, মাঠপর্যায়ে বাস্তব সমস্যা শোনা—এসব ছিল তার রাজনৈতিক আচরণের গুরুত্বপূর্ণ দিক। তিনি প্রশাসনকে জনগণের সেবামুখী করার ওপর জোর দিয়েছিলেন। এই দৃষ্টিভঙ্গি তাঁকে একজন “কর্মী-নেতা” হিসেবে আলাদা পরিচিতি দেয়।

তার নেতৃত্বে যে চিন্তাধারা গড়ে ওঠে, তা ছিল আত্মনির্ভরতা, উৎপাদনমুখী অর্থনীতি এবং জাতীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর ভিত্তি করে। ফলে তার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার কেবল একটি দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে একটি কর্মদর্শনে পরিণত হয়—যেখানে উন্নয়ন মানে মানুষের মর্যাদা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।

তারেক রহমান: উত্তরাধিকার থেকে আধুনিক অভিযাত্রা
তারেক রহমানকে তার সমর্থকেরা দেখেন একজন এমন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে, যিনি পিতার কর্মদর্শনকে আধুনিক প্রেক্ষাপটে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছেন। সাধারণ জীবনযাপন, মানুষের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, এবং সমস্যার সর্বোচ্চ সমাধান খোঁজার প্রতিশ্রুতি—এই বৈশিষ্ট্যগুলো তাকে জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে বলে অনেকে মনে করেন। তার রাজনৈতিক ভাবনায় একটি বিষয় স্পষ্ট—উন্নয়ন কেবল অবকাঠামো নির্মাণ নয়, বরং মানুষের আস্থা অর্জন এবং অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। তিনি বারবার এমন এক প্রশাসনিক সংস্কৃতির কথা বলেন, যেখানে নেতারা জনগণের নাগালের বাইরে থাকবেন না। প্রটোকলের দেয়াল কমিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন—এটিকে তিনি কার্যকর নেতৃত্বের অপরিহার্য অংশ হিসেবে দেখেন।

এই ধারা একটি মানবিক রাজনৈতিক চর্চাকে সামনে আনে, যেখানে নেতা নিজেকে শাসক নয়, বরং জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চান। ফলে তাঁর রাজনৈতিক কর্মকৌশলে দেখা যায় অংশগ্রহণমূলক দৃষ্টিভঙ্গি—মানুষের মতামত শোনা, সমস্যাকে বাস্তবতার আলোকে বিশ্লেষণ করা, এবং সমাধানের জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানো।

সব মিলিয়ে, পিতা–পুত্রের এই ধারাবাহিকতা অনেকের কাছে একটি প্রতীকী সেতুবন্ধন—অতীতের অভিজ্ঞতা ও বর্তমানের প্রয়াসের সমন্বয়। সাধারণ জীবনযাপন, মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা, এবং উন্নয়নকে মানবিক দৃষ্টিতে দেখার প্রবণতা—এই বৈশিষ্ট্যগুলো তাঁদের রাজনৈতিক দর্শনকে একটি ধারাবাহিক রূপ দেয়।

এই উত্তরাধিকারভিত্তিক চিন্তাধারা সমর্থকদের চোখে এমন এক নেতৃত্বের প্রতিচ্ছবি গড়ে তোলে, যেখানে উন্নয়ন মানে কেবল অর্থনৈতিক অগ্রগতি নয়; বরং মানুষের সঙ্গে সংযোগ, আস্থা, এবং দায়িত্ববোধের সমন্বিত প্রকাশ।

লেখক: খালিদ সাইফুল্লাহ, রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

Link copied!