প্রকাশিত: মার্চ ২৬, ২০২৬, ০৯:৩৫ এএম
সরকারি দল বিএনপি গণভোট অধ্যাদেশ পাস করাতে চায় না- এই খবরের মধ্যে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সরকার কখনো বলছে, জনগণের রায় অক্ষরে-অক্ষরে পালন করবে। আবার কখনো বলে, জনগণ না বুঝে গণভোটে রায় দিয়েছে। প্রায় ৭০ শতাংশ জনগণ হ্যাঁ ভোট দিলেও, সরকার গণভোটের রায় বাস্তবায়নে অনীহা প্রকাশ করছে। জুলাই সনদে যেভাবে স্বাক্ষর করা হয়েছে, বাস্তবায়ন না হলে রাজপথে সমাধান হবে।
স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন জামায়াত আমির। আলোচনা সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বীক্রম। তার উপস্থিতিতে জামায়াত আমির বলেন, একাত্তরের ২৫ মার্চ সবার আগে অলি আহমদ বিদ্রোহ করেন। এরপর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।
মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের আলোচনা সভায় শফিকুর রহমান বলেছেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও আমরা দুর্নীতিগ্রস্ত নেতৃত্বের কবল থেকে বেরিয়ে আসতে পারিনি। মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়াও দুর্নীতি।
জুলাই সনদ প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন, যারা বাহাত্তরের সংবিধানের জন্য মায়াকান্না করে, তাদের জানার কথা শেখ মুজিবুর রহমান সংবিধান সংশোধন করেছে, জিয়াউর রহমান সংবিধান সংশোধন করেছে, বেগম খালেদা জিয়াও সংবিধান সংশোধন করেছেন। বেগম জিয়া বলেছিলেন, যেদিন জনগণের সরকার কায়েম হবে, সেদিন নতুন করে সংবিধান লেখা হবে।
একাত্তর এবং চব্বিশে যাদের ভূমিকা নিয়ে- সেই দলগুলোকে আলোচনায় বসতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, উদারতা দেখিয়ে জাতীয় সমস্যা সমাধানে এক জায়গায় বসুন। এটা সংসদের ভেতরে হবে না। কারণ, সংসদের ভেতরে সব দল প্রবেশ করেনি। অন্যান্য দল আছে। তাদেরও অবদান আছে দেশের জন্য। মুক্তিযুদ্ধে এবং চব্বিশের বিপ্লবেও তাদের অবদান আছে। তাদের সবাইকে নিয়ে বসে কথা শুনুন, পরামর্শগুলো শুনুন। সিদ্ধান্ত তো সরকারই নেবে। কে কী বলতে চায়, কথাগুলো শুনলে জাতি উপকৃত হবে, আপনারাও উপকৃত হবেন।
সরকারকে বিরোধীদল সহযোগিতা করছে- দাবি করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন, জ্বালানি সংকট সরকারের একক নয়। বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায়, সরকারকে আগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। কিন্তু সরকারের মন্ত্রীরা জানিয়েছেন, দেশে জ্বালানি তেলের সংকট নেই। কিন্তু তেলের জন্য পাম্পে দীর্ঘ লাইন। সরকারকে সহযোগিতা করতে চাই, বলেই জ্বালানি সংকটের পরও রাজপথে নেমে আসিনি।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে অলি আহমদ বলেন, আপনার বাবা পুরো পৃথিবীতে প্রসিদ্ধ হয়েছিলেন স্বাধীনতা ঘোষণা করে। আপনার মা প্রসিদ্ধ হয়েছিল সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে। আপনি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের মাধ্যমে প্রসিদ্ধ হয়ে যান। এই সুযোগ হাতছাড়া করবেন না।
জামায়াত জোটের শরিক এলডিপির চেয়ারম্যান বলেছেন, একাত্তরে দেশ স্বাধীন করার জন্য বিদ্রোহ করেছি, তখন সংবিধান মেনে বিদ্রোহ করিনি। কারণ, সংবিধান মেনে কখনো বিদ্রোহ হয় না।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নায়েবে আমির আব্দুস সবুর ফকিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, জাতিকে রাজনৈতিক সংকটের দিকে ঠেলে না দিয়ে গণভোটরে রায় মেনে জুলাই সনদ আদেশ বাস্তবায়ন করুক।
আলোচনা সভায় আরও বক্তৃতা করেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান, এমপি, নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, এমপি। নির্বাচনের আগে জামায়াতে যোগ দেওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান বলেন, একাত্তরে যুদ্ধ করেছি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে। বাংলাদেশে কেউ যুদ্ধাপরাধী নয়।
আপনার মতামত লিখুন :