নারায়ণগঞ্জের ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’।
বাংলাদেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক অদ্ভুত তারকাকে ঘিরে শোরগোল তৈরি হয়েছে। তবে এই তারকা কোনো অভিনেতা বা গায়ক নয়, বরং সোনালি চুলওয়ালা এক অ্যালবিনো মহিষ। এর ডাকনাম রাখা হয়েছে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। কয়েক দিনের মধ্যেই কোরবানির জন্য জবাই হওয়ার কথা এই মহিষটির।
এটির মাথাভর্তি ঢেউ খেলানো সোনালি চুলের ধরন অনেকটা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিগনেচার স্টাইলের চুলের মতো। ফলে কুরবানির আগেই মহিষটিকে একনজর দেখতে আর ছবি তুলতে ভিড় করছেন অসংখ্য মানুষ।
শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিষয়টি এখন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও জায়গা করে নিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) ফ্রান্স ২৪-এর প্রতিবেদন থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও ফটো এজেন্সি- সবখানেই আলোচনায় এসেছে বাংলাদেশের এই ‘ভাইরাল মহিষ’।
নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ার রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মে থাকা প্রায় ৭০০ কেজি ওজনের এই অ্যালবিনো মহিষটিকে দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন শত শত মানুষ। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন, আবার কেউ কৌতূহলবশত ছুঁয়ে দেখারও চেষ্টা করছেন।
মহিষটির ৩৮ বছর বয়সী মালিক জিয়া উদ্দিন মৃধা নারায়ণগঞ্জে তার নিজ খামার থেকে এএফপিকে জানান, প্রায় ৭০০ কেজি ওজনের এই মহিষটির নাম রেখেছেন তার ছোট ভাই।
মৃধা বলেন, ‘মহিষটির অনন্য চুলের কারণেই আমার ছোট ভাই এই নামটা বেছে নেয়। ওর একমাত্র বিলাসিতা হলো দিনে চারবার গোসল করা।’
মহিষটির সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মিল কেবল চুলেই সীমাবদ্ধ উল্লেখ করে তিনি।
মৃধা জানান, অতিরিক্ত ভিড় আর মানুষের চাপের কারণে মহিষটির ওজন কমে গেছে। তাই এখন জনসাধারণের দেখার ওপর কিছুটা নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। তবু শিশুরা এখনো খামারের গেটের ফাঁক দিয়ে উঁকি মেরে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’কে দেখার চেষ্টা করছে।
জানা যায়, এক বছর ধরে চার বছর বয়সী এই মহিষটির দেখাশোনা করছেন মৃধা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এই মহিষটি শেষ পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৫০০ টাকায়। আবেগপ্রবণ হয়ে খামারি বলেন, ‘এতদিন ধরে নিজের হাতে লালন-পালন করেছি, ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অবশ্যই খুব মিস করবো। তবে নিজের প্রিয় জিনিসকে আল্লাহর নামে উৎসর্গ করার মাঝেই তো ঈদুল আজহার মূল শিক্ষা লুকিয়ে আছে।’
প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা জানান, এই ধরনের অ্যালবিনো মহিষ প্রকৃতিতে অত্যন্ত বিরল। শরীরে মেলানিনের অভাবের কারণে এদের গায়ের রঙ এবং চুল এমন সাদা বা সোনালী হয়ে থাকে।