ঢাকা রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯ ফাল্গুন ১৪৩২
amaderkhobor24.com

গত ১৬ বছরে মাত্র চারটি ভাষা সংরক্ষিত হয়েছে: শিক্ষামন্ত্রী

আমাদের খবর ২৪

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬, ১০:৫৯ পিএম

গত ১৬ বছরে মাত্র চারটি ভাষা সংরক্ষিত হয়েছে: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ফাইল ছবি

গত ১৬ বছরে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের কার্যকারিতা ধীর গতির ছিলো বলে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, এই ইনস্টিটিউট হয়েছিল আমাদের সময়কালেই। কিন্তু আমরা কার্যকারিতা শুরু করতে পারিনি। আমরা শুধু দালান কোঠাগুলো করে গিয়েছিলাম। বহুদিন পেরিয়ে গেলেও এর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ১৬ বছরে ১৪টি ভাষার মধ্যে মাত্র চারটি ভাষা সংরক্ষিত হয়েছে। অগ্রগতির মাত্রা অনেক ধীর। জানি না ধীর কেন। যেই উদ্দেশ্য নিয়ে এটা করা হয়েছিল, সেটা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।

শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস স্মরণে আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন। ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট (আমাই)’ এর আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাংলা ভাষা পৃথিবীর সপ্তম বৃহৎ ভাষা। এই ভাষা নিয়ে আমরা গর্বিত। বাংলা ভাষা সাহিত্যের জন্য নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুন। জানি না আগামী দিনে আরও কেউ পাবে কী না। তবে আমাদের অনেক সুধীজন রয়েছেন, যারা বাংলা ভাষা ছাড়া অন্য কোনো ভাষাকে ‘এড্রেস’ করতে রাজি নন।

তিনি প্রয়াত শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আব্দুল মালেকের স্মৃতিচারণ করেন, যিনি ২০২০ সালে করোনার সময় বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে আন্তর্জাতিক গ্রন্থ প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এই গ্রন্থ প্রণয়নের ঘটনা উল্লেখ করতে গিয়ে তিনি কবি আব্দুল হাই শিকদারের মাতৃভাষার প্রতি অবিচল অবস্থানের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই পান্ডুলিপিতে লেখক হিসেবে অনেকেরই নাম ছিলো। তাদের মধ্যে একজন কবি ছিলেন, যিনি ভাষার প্রশ্নে কোনো আপোস করেন না। কারণ, ভাষা মানেই পরিচয়, ভাষা মানেই ইতিহাস এবং ভাষা মানেই তার মর্যাদা। সেই কবিকে আমি জিজ্ঞেস করলাম, ‘আপনি কী লিখছেন?’ তিনি বলেন, ‘আমার একটি মাত্র ভাষা। সেটা হলো আমার মায়ের ভাষা। আমার বাংলা ভাষা। তার বাইরে আমি যেতে পারব না।’ তিনি একটি একটি কবিতা পাঠিয়ে দিলেন। পরে অধ্যাপক এমএ মালেক এই কবিতাটি ইংরেজিতে অনুবাদ করে করে ওই বইটিতে ছাপালেন। আমাদের সেই কবি আব্দুল হাই শিকদার।

তিনি আরও বলেন, এটি হলো আমাদের বাংলা ভাষা। যে ভাষায় আমরা স্বপ্ন দেখি, যে ভাষায় আমরা কথা বলি, যেই ভাষায় আমরা ভবিষ্যৎ চিন্তা করি। এই ভাষাকে গুরুত্ব দিতেই হবে। তার বিকল্প নেই। এসময় তিনি ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে ইউনেস্কোর সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ইউনেস্কোর ঢাকা অফিসের হেড অব এডুকেশন নরিহিদে ফুরুকাওয়া। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের সাবেক অধ্যাপক আবুল মনসুর মুহম্মদ আবু মুসা। স্বাগত বক্তব্য দেন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান।

মূল প্রবন্ধে আবুল মনসুর মুহম্মদ আবু মুসা বলেন, ১০০ বছর আগে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ভারতবর্ষে একটি জরিপ হয়েছিলো। সেই জরিপের নাম ছিলো ‘লিঙ্গুইস্টিক সার্ভে অব ইন্ডিয়া’। এরপর আর এ নিয়ে কোনো জরিপ হয়নি। জরিপ না হলে এটা জানা কঠিন যে, এখানে কতগুলো ভাষা, উপভাষা এবং ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভাষা আছে। এর জন্য বড় কোনো পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটকে শক্তিশালী করে কাজে লাগানো গেলে এই ধরনের জরিপের কাজ করা যেতে পারে। এতে করে আমাদের বহুদিনের জমে থাকা সমস্যার সমাধান হবে।
অনুষ্ঠানে লিংগুইস্টিক অলিম্পিয়াড ২০২৬–এর ছয়জন বিজয়ীদের মধ্যে ক্রেস্ট, মেডেল এবং প্রাইজমানি প্রদান করা হয়। এছাড়া শহীদ দিবস উপলক্ষে ইনস্টিটিউটের চার দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করা হয়।

Link copied!