প্রয়াত মীর কাসেম আলী–র পুত্র ব্যারিস্টার আরমান।
নির্বাচনের ঠিক আট দিন পর দেশের রাজনীতিতে এক অভিনব গণিতের আবির্ভাব ঘটেছে। একদিকে নির্বাচনী হলফনামায় মাত্র ২ কোটি টাকার সম্পদ দেখিয়েছেন প্রয়াত মীর কাসেম আলী–র পুত্র ব্যারিস্টার আরমান। অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক–এর গভর্নরের কাছে চিঠি—নগদ মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসে ১,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের আগ্রহ।
বাংলাদেশের গণিতবিদরা হয়তো নতুন কোনো সূত্র আবিষ্কারের দ্বারপ্রান্তে। এতদিন আমরা শিখেছি—যার আছে দুই কোটি, সে বিনিয়োগ করে দুই কোটির আশেপাশে। কিন্তু এখানে দেখা যাচ্ছে, দুই কোটির পকেট থেকে হাজার কোটির স্বপ্ন উঁকি দিচ্ছে।
এ কি আধ্যাত্মিক অর্থনীতি? নাকি অলৌকিক মুনাফার পূর্বাভাস?
হয়তো আমরা সাধারণ মানুষ বুঝতে পারছি না—এটি “নৈতিক সম্পদ” বনাম “অর্থনৈতিক সম্পদ”-এর পার্থক্য! হলফনামা বলছে এক কথা, বিনিয়োগের চিঠি বলছে আরেক কথা। জনগণ দাঁড়িয়ে আছে মাঝখানে—হিসাবের খাতা হাতে। প্রশ্ন একটাই: ২ কোটি আর ১,০০০ কোটির মাঝখানের ৯৯৮ কোটির গল্পটা কোথায়?
সম্ভবত এটি সেই গল্প, যা নির্বাচন এলেই জন্ম নেয়। তখন অঙ্ক বদলায়, ব্যাখ্যা বদলায়, আর শব্দের সংজ্ঞাও বদলে যায়। “ব্যক্তিগত” শব্দটি হয়তো তখন “প্রস্তাবিত”, “সম্ভাব্য” বা “সমষ্টিগত”-এ রূপ নেয়।
রাজনীতিতে স্বচ্ছতার কথা আমরা প্রায়ই শুনি। বলা হয়—সৎ লোকের শাসন আসবে, জবাবদিহি থাকবে। কিন্তু অঙ্ক যখন এত নাটকীয় হয়, তখন প্রশ্নও নাটকীয় হয়ে ওঠে।
জনগণ চায় ব্যাখ্যা। কারণ গণতন্ত্রে ভোট শুধু প্রতিশ্রুতির ওপর পড়ে না—পড়ে বিশ্বাসের ওপর। আর বিশ্বাসের ভিত্তি হলো স্বচ্ছতা।
এখন দেখার বিষয়—এই দুই কোটির সাধু কি হাজার কোটির সাধনার রহস্য খুলে বলবেন, নাকি অঙ্কটা থেকেই যাবে নির্বাচনী মৌসুমের এক রহস্যময় ধাঁধা হয়ে।
লেখকঃ খালিদ সাইফুল্লাহ, কলামিস্ট ।
আপনার মতামত লিখুন :