ঢাকা বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩
amaderkhobor24.com

ট্যাঙ্কে-জাহাজে পর্যাপ্ত তেল, পাম্পে ভোগান্তি কমছে না

আমাদের খবর ২৪

প্রকাশিত: এপ্রিল ২২, ২০২৬, ০৯:১৮ এএম

ট্যাঙ্কে-জাহাজে পর্যাপ্ত তেল, পাম্পে ভোগান্তি কমছে না

চট্টগ্রাম বন্দরে একের পর এক জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ ভিড়ছে। বাড়ছে মজুত। ডিপোর ট্যাঙ্ক ভরা থাকায় জাহাজ থেকে তেল খালাস করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে জ্বালানি তেল নিয়ে জাহাজ সাগরে গুনছে অপেক্ষার প্রহর। কিন্তু বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে মাঠ পর্যায়ে। রাজধানীসহ সারাদেশের পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার অবসান ঘটছে না। 

বন্দর ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে পাঁচটি জাহাজে করে প্রায় এক লাখ ৬৯ হাজার টন জ্বালানি দেশে এসেছে। এর মধ্যে এক লাখ ৪২ হাজার টন ডিজেল এবং ২৭ হাজার  টন অকটেন রয়েছে। ইতোমধ্যে দুটি জাহাজ থেকে ৬৮ হাজার টন ডিজেল খালাস শুরু হয়েছে। ডলফিন জেটিতে নোঙর করা ‘এমটি ওকট্রি’ জাহাজ থেকে প্রায় ৩৫ হাজার টন এবং ‘এমটি কেপ বনি’ থেকে প্রায় ৩৩ হাজার টন ডিজেল নামানো হচ্ছে। এর বাইরে ‘এমটি লিয়ান সং হু’ (প্রায় ৪১ হাজার টন ডিজেল), ‘এমটি প্যাসিফিক ইন্ডিগো’ (প্রায় ৩৩ হাজার টন ডিজেল) এবং ‘এমটি নেভি সিয়েলো’ (প্রায় ২৭ হাজার টন অকটেন) বাংলাদেশের জলসীমায়  অবস্থান করছে। 

অন্যদিকে, ডিপোগুলোর সংরক্ষণ সক্ষমতাও প্রায় সীমায় পৌঁছে গেছে। ফলে নতুন করে আসা জ্বালানি দ্রুত খালাস করে সংরক্ষণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। চট্টগ্রামের পতেঙ্গা মেইন পয়েন্ট ইনস্টলেশনে তিন বিতরণ কোম্পানি ও ইস্টার্ন রিফাইনারি মিলিয়ে অকটেনের যে পরিমাণ সংরক্ষণ সক্ষমতা রয়েছে, তা প্রায় পূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। নতুন করে অকটেন খালাসের জন্য অন্য ট্যাঙ্ক খালি করা হচ্ছে।

বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে অকটেন সংরক্ষণ সক্ষমতা ৫৩ হাজার ৩৬১ টন। ২০ এপ্রিল পর্যন্ত তাদের হাতে মজুত ছিল প্রায় ২৭ হাজার ৬১২ টন অকটেন। খালাস হচ্ছে ২৭ হাজার টন। চলতি মাসের পাইপলাইনে আরও জাহাজ আছে। 

চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম ১৮ দিনে অকটেন বিক্রি হয়েছে ২০ হাজার ৪০৪ টন, অর্থাৎ দৈনিক গড়ে বিক্রি হয়েছে এক হাজার ১৩৪ টন। ফলে মজুত, জাহাজসহ বিপিসির হাতে যে পরিমাণ অকটেন আছে তাতে দুই মাস অনায়াসে চাহিদা পূরণ করা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। 

শুধু আমদানিই নয়, দেশীয় বেসরকারি শোধনাগার থেকেও জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। চলতি মাসের প্রথম ১৯ দিনে তিনটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ১৫ হাজার ১৭০ টন অকটেন নিয়েছে বিপিসি। সব মিলিয়ে পরিসংখ্যান বলছে, মজুত ও সরবরাহ সক্ষমতায় বড় কোনো ঘাটতি নেই। তবুও পাম্পে ভোগান্তি কমছে না।

রাজধানীর তেজগাঁওয়ের সিটি পেট্রোল পাম্পে গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিন দেখা গেছে, পাম্পের ভেতর থেকে শুরু হয়ে যানবাহনের সারি প্রধান সড়ক পর্যন্ত বিস্তৃত। অনেক চালক তিন থেকে চার ঘণ্টা ধরে লাইনে অপেক্ষা করছেন। মোটরসাইকেল চালক মেরাজ হোসেন সন্ধ্যা ৭টায় বলেন, বিকেল ৫টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। দুই ঘণ্টা হলো, এখনও তেল পাইনি। 

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের পেট্রোল পাম্পগুলো ঘুরে ফিরে দেখা গেছে, গতকাল সকাল থেকে উপজেলার সোনারায়, তারাপুর, বেলকা, দহবন্দ ও রামজীবন ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে অর্ধশত কৃষক সেচ পাম্প ও জ্বালানির পাত্র নিয়ে পেট্রোল পাম্পে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পর্যাপ্ত পেট্রোল সংগ্রহ করতে পারছেন না। বেলকা ইউনিয়নের কৃষক ধীরেন চন্দ্র সরকার বলেন, এখন বোরো ধানক্ষেতে প্রতিদিন পানি দেওয়া অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। এক দিন পরপর জমিতে পানি দিতে না পারলে ধান শুকিয়ে যাবে। কিন্তু সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত  লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও প্রয়োজনীয়  তেল পাচ্ছি না।

Link copied!