ঢাকা রবিবার, ০৮ মার্চ, ২০২৬, ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২
amaderkhobor24.com

শক্তিশালী প্লেয়ারদের সঙ্গে সমঝোতা করলে খুব আরামে থাকা যেতো: আসিফ মাহমুদ

আমাদের খবর ২৪

প্রকাশিত: মার্চ ৭, ২০২৬, ০৭:০৫ পিএম

শক্তিশালী প্লেয়ারদের সঙ্গে সমঝোতা করলে খুব আরামে থাকা যেতো: আসিফ মাহমুদ

সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া বলেন, ‘নীতির উপর অটল থেকেছি। শক্তিশালী প্লেয়ারদের সাথে সমঝোতা করে ফেললেই খুব আরামে থাকা যেতো। কেউ জ্বালাতন করতো না, বরং তারাই দায়িত্ব নিয়ে আমি কোন অপকর্ম করলেও তা ধামাচাপ দিতো। নিত্য দিন চোথা (তালিকা) পাঠিয়ে নিউজ করে চরিত্রহনন করতো না।’ 

শনিবার (৭ মার্চ) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।

 

আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভালো মানুষ এসেও খারাপ হয়ে যায় ঠিক এই কারণেই। শক্তিধরদের সাথে সমঝোতা না করে, তাদের এজেন্ডায় পরিচালিত না হয়ে এখানে বেঁচে থাকাও কঠিন।’

এ সময় এনসিসিপির এই মুখ্যপাত্র কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করেন- যদি আমি সরকারের সিদ্ধান্ত ও আইনি জটিলতা উপেক্ষা করে সমঝোতা করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে শপথ পড়াতাম; যদি খুনি, ফাঁসির আসামী শেখ হাসিনাকে সেলিব্রেট করা ফ্যাসিস্ট এমপি সাকিব আল হাসানকে সাদরে দেশে নিয়ে আসতাম; যদি তাদের কথামতো শাপলা চত্বর আর মোদি বিরোধী আন্দোলনের শহীদদের স্বীকৃতি না দিতাম; যদি বিসিবিতে অবৈধভাবে সিন্ডিকেটের (বিশাল ৭ নেতার ৭ ছেলেসহ) কমিটিকে বসাতাম; যদি আওয়ামী লীগের নির্বাচন করার ক্ষেত্রে বাঁধা হয়ে না দাঁড়াতাম; যদি স্টাবলিশমেন্টের ক্ষমতার লোভকে সায় দিয়ে গণতন্ত্র ধূলিস্যাৎ হতে দিতাম; যদি তাদের বাঁধা স্বত্বেও ফেলানী সড়কের নামকরণ না করতাম; যদি কুমিল্লার মুরাদনগরে আমার জন্ম না হতো।

সমঝোতা না করায় তার সহযোগীদের হয়রানি করার বিষয় উল্লেখ করে সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, ‘আমার মানিয়ে কিংবা সমঝোতা করে চলতে না পারার ক্যারেক্টারটাই নিজের এবং আশেপাশে যারা থাকে সকলের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। আজ ১১ মাসের অনুসন্ধানের পর কোন প্রমাণ না পেয়ে মোয়াজ্জেমকে নিষ্পত্তি দিয়েছে দুদক। অথচ এই ১১ মাসে কয়েক হাজার নিউজ, ন্যারেটিভ ছড়িয়ে তার এবং তার পরিবারের জীবন দুঃসহ করে তোলা হয়েছিল। এমনকি গুরুতর অসুস্থ অবস্থায়ও চিকিৎসকের পরামর্শে চিকিৎসা নিতে দেশের বাইরে যেতে পারেনি। সোশ্যাল মিডিয়া ও মিডিয়ার হ্যারাসমেন্টে কয়েকবার আত্মহত্যা চেষ্টার কথাও পরিবার এবং বন্ধুদের কাছ থেকে জেনেছি। সত্য আজ হোক কাল হোক সামনে আসেই। কিন্তু এখানেও মিডিয়ায় মিথ্যার মতো জোরেশোরে প্রচার পায় না।’

পোস্টে প্রয়াত খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলার বিষয় উল্লেখ করে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘এই দেশে মিডিয়া দিয়ে ‘এতিমের টাকা মেরে খাওয়ার’ ন্যারেটিভ উৎপাদন করে কোন রকম প্রমাণ ছাড়াই বেগম খালেদা জিয়াকে জেল বন্দি করে রাখা হয়েছিল। জুলাই গণঅভ্যুত্থান না হলে হয়তো জেল বন্দি অবস্থাতেই তাকে হারাতাম আমরা।

তিনি আরও বলেন, যেদেশে তিন বারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সাথে এমন আচরণ করা যায়, সেখানে আমরা কি জিনিস? যখন কোন বৈধ উপায়ে কাউকে দমন করা যায় না। কোন ধরণের অনিয়ম, দূর্নীতির প্রমাণ হাতে থাকে না, তখন এই মিডিয়া ট্রায়াল এবং ন্যারেটিভ নির্মাণের পথ বেছে নেওয়া হয়৷ গোয়েবলসের সূত্রের মতো মিথ্যাটাই এতোবার আপনাকে দেখানো এবং শোনানো হবে যে আপনি সেটা বিশ্বাস করে ফেলবেন কিংবা সন্দেহে পরে যাবেন। ফলে ঐ মিথ্যার ভিত্তিতেই যে কাউকে নিপীড়ন করা একধরনের বৈধতা পেয়ে যাবে। অথচ এর কিছুই ঘটতো না। 

Link copied!