প্রকাশিত: মার্চ ১৯, ২০২৬, ০৯:৩২ পিএম
প্রতিবছরই সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ, ফরিদগঞ্জ, কচুয়া ও মতলবের অর্ধশতাধিক গ্রামে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উদযাপন হয়ে থাকে। তবে এ বছর ঘটলো ব্যতিক্রম। বৃহস্পতিবার হাজীগঞ্জ উপজেলায় মাত্র সাতজন মুসল্লি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সৌদির ও একদিন আগে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করা হয়েছে, যা এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে হাজীগঞ্জ উপজেলার বড়কুল পশ্চিম ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে মাইকে ‘ঈদ মোবারক’ ঘোষণা দিয়ে একটি ছোট জামাতের মাধ্যমে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয়ভাবে পরিচিত সাদ্রা দরবার শরিফের মরহুম পীর মাওলানা ইসহাক (রহ.) এর ছেলে মাওলানা আবু বকর সিদ্দিকের অনুসারীরা এই নামাজে অংশ নেন। জামাতে অংশগ্রহণকারী মুসল্লি সংখ্যা ছিল ৭ জন।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর একদিন আগে ঈদ উদযাপনের বিষয়ে তাদের যুক্তি হলো- আন্তর্জাতিকভাবে চাঁদ দেখার তথ্যের ভিত্তিতে তারা ঈদ উদযাপন এবং ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। তারা জেনেছেন, আফগানিস্তানসহ পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালি ও নাইজারে চাঁদ দেখা গেছে এবং সেখানে আজ ঈদ। অতএব আমাদেরও ঈদ। তাদের বিধি হচ্ছে, পৃথিবীর যে প্রান্তেই যেদিন চাঁদ উঠার খবর মিলবে, একই আকাশে চাঁদ উদিত হবে, তার পরদিন ঈদ। তাই তারা আজ ঈদ উদযাপনের এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
জানা গেছে, আফগানিস্তান, মালি ও নাইজারের সঙ্গে মিল রেখে প্রথমবারের মতো চাঁদপুরে তারা আজ আগাম ঈদ উদযাপন করলেন।
এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ উপজজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইবনে আর জাহেদ ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন।
বড়কূল পশ্চিম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন হেলাল জানান, সাদ্রার পীর মাওলানা আবু ইসহাকের মেজো ছেলে মাওলানা আবু বকরের ঈমামতিতে তাঁর বাড়িতেই উনার অনুসারী কয়েকজন ঈদের জামাতে নামাজ পড়েছেন। তাঁরা আজ ঈদ উদযাপন করেছেন। তবে ওই এলাকার অধিকাংশ লোক ঈদ করেন না, আমরাও না।
তিনি বলেন, এখন বড় হুজুরের (মাওলানা ইসহাক) মেজো ছেলে আর তাদের ধর্মীয় অবস্থানের মতামতকে সামনে নিয়ে আসলে কেউ বাড়াবাড়িও করতে যায় না। উনাদের পরিবার তথা ৭ ভাইদের মধ্যেই অমিল রয়েছে বলে তিনি জানান। যেমন হুজুরের প্রয়াত বড় ছেলে এবং অন্যান্য ছেলের অনুসারীরা সৌদির সাথে মিল রেখে শুক্রবার ঈদ উদযাপন করবে।
আপনার মতামত লিখুন :