প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬, ১০:৫৫ পিএম
বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীকে আটকে রেখে হেনস্তা ও আপত্তিকর ছবি তৈরির চেষ্টা এবং প্রায় ১৩ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় গ্রেপ্তারের পরদিনই জামিনে মুক্ত হয়ে বাদীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ‘সা রে গা মা পা’ খ্যাত সংগীতশিল্পী মাইনুল আহসান নোবেল–এর বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে সংবাদমাধ্যমের সামনে এ অভিযোগ করেন মামলার বাদী আনাননিয়া শবনম রোজ অনন্যা।
অনন্যার দাবি, মঙ্গলবার জামিন পাওয়ার পর নোবেল তাকে বাসায় নিয়ে আবারও মারধর করেন। তিনি বলেন, “সে হাত-পা ধরে কান্নাকাটি করে জামিন নিয়েছে। কিন্তু জামিন পাওয়ার পরই আমাকে মারধর শুরু করে। কেন মামলা করেছি—এই অভিযোগ তুলে নির্যাতন করেছে।” এসময় তিনি সাংবাদিকদের সামনে তার হাতে থাকা আঘাতের চিহ্ন দেখান।
অনন্যার ভাষ্য, মিডিয়ার সামনে নোবেলের আচরণ একরকম হলেও ব্যক্তিগত জীবনে তিনি সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি অভিযোগ করেন, “নিজেকে পরিস্থিতির শিকার দাবি করলেও বাস্তবে সে নেশাগ্রস্ত এবং সহিংস আচরণ করে।”
অনন্যার মা বিবি কুলসুম অভিযোগ করেন, জামিন পাওয়ার সময় নোবেল মিষ্টি কথায় আপসের আশ্বাস দেন। কিন্তু পরে আচরণ বদলে যায়। তিনি বলেন, “জামিনের পর মেয়েকে তার বাসায় নিয়ে গিয়ে মারধর করেছে। ২৫ ফেব্রুয়ারি আবারও নির্যাতন করা হয়। আমাদের কাছে ভিডিওসহ বিভিন্ন প্রমাণ আছে। খুব শিগগিরই আমরা আদালতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।”
তাদের দাবি, নোবেল হুমকি দিয়েছেন—বাড়ির বাইরে বের হলে ‘দেখে নেবেন’। ফলে তারা বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
গত বছরের ১৩ আগস্ট নোবেলসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন অনন্যা। অভিযোগে বলা হয়, প্রেমের ফাঁদে ফেলে ও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ২০২৩ সালের ২৫ আগস্ট থেকে গত বছরের জুন পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ১৩ লাখ ১৮ হাজার ৫৪০ টাকা আত্মসাৎ করা হয়। পাশাপাশি বাদীকে আটকে রেখে হেনস্তা ও আপত্তিকর ছবি তৈরির চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়ে চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে। ২ ফেব্রুয়ারি আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
পরবর্তীতে সোমবার নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা থেকে নোবেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার আদালতে হাজির করা হলে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করা হয়।
সেদিন আদালতে উভয়পক্ষের মধ্যে আপসের আলোচনা হয়। বিচারক জানতে চাইলে বাদী আপসের বিষয়টি স্বীকার করেন। পরে নোবেলের আইনজীবীর আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত এক হাজার টাকা মুচলেকায় ২ এপ্রিল পর্যন্ত জামিন মঞ্জুর করেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী জানান, বিয়ে করার শর্তে আপসের ভিত্তিতে জামিনে বাধা দেওয়া হয়নি। তবে জামিনের পর বাদীর ওপর ফের নির্যাতনের ঘটনায় এখন জামিন বাতিলের আবেদন করা হবে।
আপনার মতামত লিখুন :