ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২
amaderkhobor24.com

দায়িত্বে বাস্তব অভিজ্ঞতার প্রতিফলন

আমাদের খবর ২৪

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬, ১২:৩৫ এএম

দায়িত্বে বাস্তব অভিজ্ঞতার প্রতিফলন

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। ফটোকোলাজ: আমাদের খবর টোয়েন্টিফোর ডট কম।

বাংলাদেশের অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু বাংলাদেশ ব্যাংক। সেই প্রতিষ্ঠানের গভর্নর পদে নতুন নিয়োগকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই জনমনে কৌতূহল ও আলোচনা তৈরি হয়। এবার দায়িত্ব পেয়েছেন মো. মোস্তাকুর রহমান—একজন অভিজ্ঞ কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট (সিএমএ), উদ্যোক্তা এবং দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় মাঠপর্যায়ে শিল্প ও বাণিজ্যে সম্পৃক্ত একজন পেশাজীবী।

কিছু সংবাদমাধ্যম এ নিয়োগকে খণ্ডিতভাবে উপস্থাপন করেছে, যেন এটি কেবল একজন “টেইলার্স ব্যবসায়ী”কে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বোচ্চ পদে বসানোর ঘটনা। কিন্তু বাস্তবতা আরও বিস্তৃত। হেরা গার্মেন্টস দেশের একটি স্বনামধন্য রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠান, যার নির্বাহী পরিচালক হিসেবে মোস্তাকুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান খাত; সেই শিল্পের ভেতর থেকে উঠে আসা নেতৃত্ব অর্থনীতির বাস্তব চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে প্রত্যক্ষ ধারণা রাখে—এটি অস্বীকার করার উপায় নেই।

তার প্রাতিষ্ঠানিক সম্পৃক্ততার তালিকাও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। তিনি বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ)–এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ–এর বোর্ড সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বাংলাদেশ ব্যাংক–সংক্রান্ত স্ট্যান্ডিং কমিটিতেও ভূমিকা রেখেছেন। পাশাপাশি রিয়েল এস্টেট খাতে রিহ্যাব (রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ)–এর সদস্যপদ এবং ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি)–এর ফেলো সদস্য হিসেবে তাঁর পেশাগত পরিচয় তাঁকে একটি বিস্তৃত অর্থনৈতিক পরিমণ্ডলে অভিজ্ঞ করে তুলেছে।

বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি—মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখা, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা। এই প্রেক্ষাপটে শুধুমাত্র তাত্ত্বিক জ্ঞানে পারদর্শী নয়, বরং উৎপাদন, রপ্তানি ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে—এমন নেতৃত্ব অনেকের কাছে ইতিবাচক বার্তা বহন করে।

অবশ্যই, যে কোনো নিয়োগের প্রকৃত মূল্যায়ন হবে কর্মদক্ষতা ও নীতিগত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে। প্রত্যাশা একটাই—কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার স্বায়ত্তশাসন, পেশাদারিত্ব ও জবাবদিহিতা বজায় রেখে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিকে আরও স্থিতিশীল ও শক্তিশালী করবে।

অভিজ্ঞতা, সততা ও প্রজ্ঞার সমন্বয়ে নতুন গভর্নরের হাত ধরে অর্থনীতির চাকা আরও গতিশীল হবে—এমন আশাবাদ এখন অনেকের কণ্ঠে। সময়ই বলে দেবে, এই প্রত্যাশা কতটা বাস্তবে রূপ।

লেখক: মো. খালিদ সাইফুল্লাহ, 
কলামিস্ট।

Link copied!