ঢাকা শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২
amaderkhobor24.com

জীবনের ঝুঁকি সত্ত্বেও অনেক কাজ করতে হয়েছে: সাফা

আমাদের খবর ২৪

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬, ১১:১১ পিএম

জীবনের ঝুঁকি সত্ত্বেও অনেক কাজ করতে হয়েছে: সাফা

সাফা কবির। ফাইল ছবি

এক যুগের বেশি সময় ধরে ছোটপর্দায় অভিনয় করছেন তারকা অভিনেত্রী সাফা কবির। এখন নিজের ক্যারিয়ারের এক ভিন্ন মোড়ে দাঁড়িয়ে এই অভিনেত্রী। গ্ল্যামারাস ও রোমান্টিক চরিত্রে সাবলীল উপস্থিতির বাইরে বেরিয়ে তিনি খুঁজছেন চ্যালেঞ্জ, খুঁজছেন ভিন্নতা। গল্প ও চরিত্র বাছাইয়ে সচেতনতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কাজের সংখ্যাও কমিয়েছেন। তবে যা করছেন, তা করছেন মনপ্রাণ উজাড় করে।

সম্প্রতি নিরীক্ষাধর্মী নাটক ‘মৎস্যকন্যা’য় নামভূমিকায় অভিনয় করে আলোচনায় এসেছেন সাফা। নাটকটি পরিচালনা করেছেন সেরনিয়াবাত শাওন। সমুদ্রের নোনা জলে, ভারী মারমেইড কস্টিউম পরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা শুটিং– সব মিলিয়ে এটি ছিল তাঁর জন্য শারীরিক ও মানসিক এক লড়াই। টানা ছয় ঘণ্টা একই পোশাকে স্থির হয়ে থাকার অভিজ্ঞতা থেকে শুরু করে আন্ডারওয়াটার শুটিং– সবই ছিল নতুন।

তিনি বলেন, ‘চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে অভিনয় করতে সবসমময়ই চেষ্টা করি। এরই ধারাবাহিকতায় কাজটি করেছি। এটাকে আমি শুধু অভিনয় না বলে লড়াই বলব। কিন্তু পর্দার আউটপুট যখন দেখলাম, তখন সব কষ্ট ভুলে গেছি।’

চরিত্রটির জন্য বিশেষভাবে তৈরি কস্টিউম পরে সাগরে ঝাঁপ দেওয়ার দৃশ্যেও পিছপা হননি তিনি। সাফা বলেন, ‘দর্শকদের নতুন কিছু উপহার দিতে চাই বলেই এমন ঝুঁকি নেওয়া। ইউনিটকে বলেছিলাম, পাঁচ সেকেন্ডের মধ্যে না উঠলে যেন তুলে আনে।’ তাঁর মতে, এমন চরিত্রে কাজ করার সুযোগ বারবার আসে না। তাই চ্যালেঞ্জিং চরিত্রেই এখন বেশি আনন্দ খুঁজে পান তিনি। ‘এখন আমি সাধারণ গ্ল্যামারাস চরিত্রের চেয়ে এমন চ্যালেঞ্জিং কাজগুলোতেই বেশি আনন্দ পাচ্ছি’– বলছিলেন সাফা।

অভিনয়ের পাশাপাশি এবার প্রথমবারের মতো উপস্থাপনায়ও দেখা যাচ্ছে তাঁকে। চ্যানেল আই-এ রমজান উপলক্ষে প্রচারিত হচ্ছে অনুষ্ঠান ‘ভালোবাসার সেই স্বাদ’, যেখানে তিনি উপস্থাপক হিসেবে হাজির হয়েছেন। রান্না ও অতিথি আপ্যায়নের প্রতি ব্যক্তিগত ভালোবাসা থেকেই এই উদ্যোগে সাড়া দেওয়া।

সাফা বলেন, ‘আমি যেমন খেতে ভালোবাসি, রান্না করতেও ভালোবাসি। তাই মনে হলো, এই বিশেষ আয়োজনে উপস্থাপনা করা যায়। প্রথম সবকিছু তুলনাহীন। রান্না অনুষ্ঠানটি শুরুর পর বেশ সাড়া পাচ্ছি। অনেকেই প্রশংসা করছেন আমার উপস্থাপনার।’
তবে নিয়মিত উপস্থাপনায় আসার পরিকল্পনা নেই বলেও জানালেন তিনি। বিশেষ উৎসব– আয়োজনেই দেখা মিলবে তাঁর।

রান্না অনুষ্ঠান শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা নিয়েও তিনি ছিলেন আবেগঘন। শোবিজ অঙ্গনের কাছের মানুষদের নিয়ে রান্নাঘরের আড্ডা, এমনকি নিজের মাকে অতিথি হিসেবে পাওয়া–সবই তাঁর কাছে স্মরণীয়।

সাফা কবির আরও বলেন, ‘কাছের মানুষরা যখন কোনো অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন তখন অন্যরকম ভালোলাগা কাজ করে। অনুষ্ঠানের একটি পর্বে হাজির হয়েছিলেন আমার আম্মু। ওই পর্বে আম্মুর সঙ্গে ছিলেন তৌসিফ মাহবুব। দুজনকে একসঙ্গে অতিথি হিসেবে পেয়ে, আমি ভীষণ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলাম। ওই পর্বটি আমার হৃদয়ে আলাদা জায়গা নিয়ে থাকবে’– বললেন সাফা।

ব্যক্তিজীবনে প্রিভিলেজড পরিবেশে বড় হলেও কাজের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেন না এই অভিনেত্রী। গ্রামের দুর্গম লোকেশন থেকে সমুদ্রের গভীর জলে– সব জায়গাতেই নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন। এসব কাজে দর্শকের ভালোবাসাও কুড়িয়েছেন তিনি। তাঁর ভাষায়, ‘অভিনয়টা আমি খুঁজে বের করেছি। জীবনের ঝুঁকি সত্ত্বেও অনেক কাজ করতে হয়েছে। এটা করতে আমার ভালো লাগে। এর প্রতি আমি নিবেদিতপ্রাণ।’

আসছে ঈদে ভিন্নধর্মী কিছু নাটক, টেলিছবিতে দেখা যাবে সাফাকে। সব মিলিয়ে অভিনয়ে বৈচিত্র্য আর উপস্থাপনায় নতুন অভিজ্ঞতা– দুই মিলে এখনকার সাফা এক অন্যরূপে ধরা দিচ্ছেন। গ্ল্যামারের গণ্ডি পেরিয়ে তিনি প্রমাণ করছেন, অভিনয়ে আলাদা তিনি। 

Link copied!