হার্বাল টি নীরবে আমাদের অনেকের দৈনন্দিন রুটিনের অংশ হয়ে যায়। আরাম করার জন্য এক কাপ, ভারী খাবারের পর আরেক কাপ, হয়তো ঘুমানোর আগে আরও এক কাপ। যখন কোনোকিছু দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত হয়, তখন শরীর সূক্ষ্ম এবং ক্রমবর্ধমান উপায়ে প্রতিক্রিয়া দেখাতে শুরু করে। হার্বাল চা ফুল, শিকড় এবং পাতা থেকে তৈরি হয়, যার প্রতিটিতে নির্দিষ্ট বায়োঅ্যাকটিভ যৌগ থাকে। ৩০ দিনের মধ্যে এই যৌগগুলো শরীরে কিছু পরিবর্তন নিয়ে আসে। চলুন জেনে নেওয়া যাক-
১. ঘুমের মান ধীরে ধীরে উন্নত হয়
ক্যামোমাইলের মতো প্রশান্তিদায়ক হার্বাল চা প্রতিদিন পান করলে এক মাসের মধ্যে ঘুমের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ২০২৪ সালের একটি পদ্ধতিগত পর্যালোচনায় দেখা গেছে যে, ক্যামোমাইল সেবন ঘুমের মান উন্নত করে এবং রাতে ঘুম ভেঙে যাওয়া কমায়, বিশেষ করে দুই থেকে চার সপ্তাহ নিয়মিত ব্যবহারের পর। গবেষকরা এর কারণ হিসেবে অ্যাপিজেনিনকে উল্লেখ করেছেন, যা একটি ফ্ল্যাভোনয়েড এবং এটি মস্তিষ্কের GABA রিসেপ্টরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে শিথিলতা বাড়াতে সাহায্য করে। যদিও এটি ঘুমের ওষুধ হিসেবে কাজ করে না, তবে নিয়মিত খেলে তা ধীরে ধীরে ঘুমের অভ্যাস উন্নত করতে সাহায্য করে।
২. হজম প্রক্রিয়া শান্ত ও নিয়মিত হয়
পুদিনা এবং আদার মতো ভেষজ চা হজমে সহায়ক হিসেবে পরিচিত। কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন এটি পান করলে পেট ফাঁপা এবং পেটের অস্বস্তি কমে। ক্লিনিক্যাল গবেষণায় দেখা গেছে যে, পুদিনার সক্রিয় উপাদান মেন্থল অন্ত্রের মসৃণ পেশীকে শিথিল করতে সাহায্য করে, যা বদহজম এবং আইবিএস-সম্পর্কিত উপসর্গের সঙ্গে সম্পর্কিত খিঁচুনি কমায়। একটি গবেষণা অনুসারে, আদা পাকস্থলী খালি করতে এবং বমি বমি ভাব কমাতে সাহায্য করে। এর ফলে হজমের সমস্যা কম হতে পারে এবং অন্ত্রের আরাম বৃদ্ধি পেতে পারে।
৩. রক্তচাপ পরিবর্তিত হয়
যদি হিবিস্কাস চা আপনার দৈনন্দিন রুটিনের অংশ হয়, তবে এক মাসের মধ্যে আপনার কার্ডিওভাসকুলার সিস্টেম উপকৃত হতে পারে। নিউট্রিশন রিভিউস-এ প্রকাশিত একটি র্যান্ডমাইজড কন্ট্রোলড ট্রায়ালে দেখা গেছে যে, প্রতিদিন তিন কাপ হিবিস্কাস চা পান করলে ছয় সপ্তাহ পরে প্রি-হাইপারটেনসিভ প্রাপ্তবয়স্কদের সিস্টোলিক রক্তচাপ কমে যায়। পরবর্তী একটি মেটা-বিশ্লেষণেও একই ধরনের হ্রাসের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে, বিশেষ করে যাদের বেসলাইন রিডিং বেশি ছিল তাদের ক্ষেত্রে।
৪. স্ট্রেস প্রতিক্রিয়া ভারসাম্যপূর্ণ হয়
নিয়মিত ভেষজ চা পান করলে তা দৈনন্দিন স্ট্রেসের প্রতি শরীরের প্রতিক্রিয়াকে আলতোভাবে প্রভাবিত করতে পারে। ক্যামোমাইল এবং লেবু মিশ্রিত চা কয়েক সপ্তাহ ধরে নিয়মিত খেলে তা উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করে। এই ভেষজগুলো স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণে জড়িত নিউরোট্রান্সমিটার, যেমন GABA এবং সেরোটোনিন পথকে নিয়ন্ত্রণ করে বলে মনে হয়। এক মাস ধরে প্রতিদিন এটি গ্রহণ করলে তা মানসিক স্থিরতা এবং একটি শান্ত বেসলাইন বজায় রাখতে সাহায্য করে, বিশেষ করে মানসিক ক্লান্তির সময়ে।
৫. হাইড্রেটেড রাখে
কালো বা সবুজ চায়ের মতো নয়, বেশিরভাগ ভেষজ চা প্রাকৃতিকভাবেই ক্যাফেইন-মুক্ত, যার অর্থ হলো এগুলো শরীরের তরলের ভারসাম্যকে প্রভাবিত না করেই হাইড্রেটেড থাকতে সাহায্য করে। ইউরোপীয় খাদ্য সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ দ্বারা পর্যালোচিত গবেষণা দেখায় যে ক্যাফেইন-মুক্ত পানীয় পানির মতোই কার্যকরভাবে শরীরকে হাইড্রেট করে। ৩০ দিন ধরে প্রতিদিন ভেষজ চা পান করলে তা শরীরের তরলের চাহিদা মেটাতে সাহায্য করে এবং ঘুমের ব্যাঘাত বা অস্থিরতা এড়াতে পারে, তাই এটি সন্ধ্যায় পানের জন্য বিশেষভাবে উপকারী।
আপনার মতামত লিখুন :