প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬, ০৬:০৯ পিএম
বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলেন ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি আগেও এই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বিকেলে শপথ গ্রণের মাধ্যমে তিনি দায়িত্ব বুঝে নেন।
অন্তবর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের স্থলাভিষিক্ত হলেন তিনি। বিশাল দায়-দেনা, শুরু হতে যাওয়া রমজান, সেচ এবং গ্রীষ্মের চাপ, গ্যাস সংকট, লোকসানে থাকা বিদ্যুৎ খাত বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ওই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের মধ্যে দায়িত্ব পালনকারী হিসেবে চুয়ান্নতম। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত ৫৩ মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও প্রতিমন্ত্রী বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। সেদিক থেকে অবস্থান হচ্ছে ৫৪তম। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রথম কয়েকদিন এই মন্ত্রণালয় হাতে রেখেছিলেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। পরে উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেন সাবেক আমলা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।
সবচেয়ে লম্বা সময় দায়িত্ব পালন করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০০৮ সালে সরকার গঠন করলে নিজের হাতে রেখে দেন বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে ক্ষমতার শেষ দিন (২০২৪ সালের ৫ অক্টোবর) পর্যন্ত মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ সালে তার অধীনে প্রথম ৬ মাস প্রতিমন্ত্রী ছিলেন অ্যাড. শামসুল আলম টুকু। প্রায় সাড়ে ৪ বছর দায়িত্ব পালন করেন মোহাম্মদ এনামুল হক।
আর প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দীর্ঘ সময়ে দায়িত্ব পালনের রেকর্ড করেন নসরুল হামিদ। ২০১৪ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তার আগে কেউ এই মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে এতো লম্বা সময় ধরে দায়িত্ব পালন করেন নি।
আর সবচেয়ে কম সময় দায়িত্ব পালনের রেকর্ড রয়েছে ক্যাপ্টেন (অব.) নুরুল হকের দখলে। ১৯৮০ সালে মাত্র ৭ দিন দায়িত্ব পালন করেছিলেন। আর ১৯৯৬ সালে ১১ দিন মন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন অলি আহমদ বীরবিক্রম।
প্রথম মন্ত্রিসভায় এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন অধ্যাপক এম ইউসুফ আলী (২৯ ডিসেম্বর ১৯৭১ থেকে ১২ জানুয়ারি ১৯৭২), এরপর খন্দকার মুশতাক আহমেদ (মন্ত্রী) ছিলেন ১৩ জানুয়ারি ১৯৭২ থেকে ১৩ এপ্রিল ১৯৭২ পর্যন্ত। মন্ত্রী ড. মফিজ চৌধুরী দায়িত্বকাল ছিল ১৯৭২ সালের ১৩ এপ্রিল থেকে ১৯৭৩ সালের ১৬ মার্চ পর্যন্ত। এরপর খন্দকার মুশতাক আহমেদ ১৯৭৩ সালের ১৬ মার্চ থেকে ১৯৭৪ সালের ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।
আব্দুর রব ছেরনিয়াবাত মন্ত্রীর হিসেবে দায়িত্ব পান ১৯৭৪ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারিতে। পরের বছর ১৯৭৫ সালের ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলেন। একই সময়ে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন কেএম ওবায়দুর রহমান। তার মেয়াদকাল ছিল ১৯৭৩ সালের ৪ ডিসেম্বর থেকে পরের বছরের ৮ জুলাই পর্যন্ত। ড. কামাল হোসেনকে মন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া হয় ১৯৭৫ সালের ২৬ জানুয়ারি, তিনি দায়িত্ব পালন ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পর্যন্ত।
খন্দকার মুশতাকের মন্ত্রীসভায় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন দেওয়ান ফরিদ গাজী। তিনি মাত্র ২ মাস ১৬ দিনের মতো দায়িত্ব পালন করেন (১৯৭৫ সালের ২০ আগস্ট থেকে একই বছরের ৬ নভেম্বর পর্যন্ত)।একই সময়ে মোমিন উদ্দিন আহমেদ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
প্রথম উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পান এয়ার ভাইস মার্শাল এমজি তোয়াব। তার মেয়াদকাল ছিল ১৯৭৫ সালের ১০ নভেম্বর থেকে ১৯৭৬ সালের ৩ মে পর্যন্ত। তারপর উপদেষ্টা হিসেবে আসেন কমোডোর মোশারফ হোসেন খান, আশফাক হোসেন খান, বিএম আব্বাস এটি। টানা উপদেষ্টার পর ১৯৭৮ সালের ৪ জুলাই মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বিএম আব্বাস এটি। দায়িত্ব পালন করেন ১৯৭৯ সালের ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত। এরপর যথাক্রমে ৩ মাস মন্ত্রী ছিলেন এজেড এম এনায়েত উল্লাহ খান। ৬ মাসের মতো দায়িত্ব পালন করেন কর্নেল (অব.) আকবর হোসেন। মাত্র ৭ দিন দায়িত্ব পালন করেন ক্যাপ্টেন (অব.) নুরুল হক।
১৯৭৯ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২ জানুয়ারি ১৯৮০ পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলেন তৎকালীন উপ-প্রধানমন্ত্রী মওদুদ আহমেদ। তার সঙ্গে প্রতিমন্ত্রী ছিলেন সুনীল কুমার গুপ্ত। ১৯৮০ সালের ২ জানুয়ারি থেকে ১৯৮১ সালের ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন যথাক্রমে কাজী আনোয়ারুল হক ও এলকে সিদ্দিকী। ১ মাস ১০ দিনের মন্ত্রী ছিলেন একেএম মাইদুল ইসলাম।
১৯৮১ সালের ২৭ নভেম্বর থেকে ৪ মাসের মতো প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন সুনীল কুমার গুপ্ত। এরপর উপদেষ্টা হিসেবে ১ বছর ৯ মাস দায়িত্ব পালন করেন এয়ার ভাইস মার্শাল সুলতান মাহমুদ। তিনি পরে ৬ মাসের (১১ ডিসেম্বর ১৯৮৩ থেকে ১ জুন ১৯৮৪) মতো মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরের ৬ মাস মন্ত্রী ছিলেন এসএম শফিউল আজম, প্রতিমন্ত্রী ছিলেন সুনীল কুমার গুপ্ত। ২ মাস মন্ত্রী ছিলেন মেজর জেনারেল মুহাম্মদ মুনএম।
প্রথমবারের মতো বেশি সময় মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বপালন করেন আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। তিনি ১৯৮৫ সালের ২৫ মার্চ দায়িত্ব গ্রহণ করে ১৯৮৮ সালের ২৭ মার্চ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তার অধীনে ২ মাসের জন্য প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন জাফর ইমাম। জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু ১৯৮৯ সালের ১৯ জুলাই থেকে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত মন্ত্রী হিসেবে ছিলেন। ১৯৯০ সালে তত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন প্রফেসর ওয়াহিদ উদ্দিন আহমেদ। বিএনপি সরকার গঠন করলে খালেদা জিয়া মন্ত্রণালয়টি হাতে রেখে দেন। প্রতিমন্ত্রী ছিলেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। কিছুদিন পর ড. খন্দকার মোশারফকে পুরোপুরি মন্ত্রী হয়ে পুরো মেয়াদকাল দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি এক তরফা নির্বাচনের পরে ১১ দিন মন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন অলি আহমদ বীরবিক্রম। এরপর তত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। নির্বাচনে জয়লাভের পর আওয়ামী লীগ সাবেক সেনা প্রধান মোহাম্মদ নুরউদ্দীন খানকে মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেয়। তিনি দায়িত্ব পালন করেন ১৯৯৮ সালের ২৯ মার্চ পর্যন্ত। তার পাশাপাশি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম।
তত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে একেএম আমানুল ইসলাস চৌধুরী উপদেষ্টা হিসেবে।
বিএনপি সরকারে এলে একেএম মোশাররফ হোসেনকে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেন। দুর্নীতির অভিযোগে ২০০৫ সালের ১৮ জুন তাকে সরিয়ে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে প্রতিমন্ত্রী করা হয়। তিনি দায়িত্ব পালন করেন ৭ মাস, এরপর ৪ মাস প্রতিমন্ত্রী ছিলেন আনোয়ারুল কবির তালুকদার। এক-এগারোর সময়ে প্রথমে হাসান মশহুদ চৌধুরী, এরপর মেজর জেনারেল রহুল আলম চৌধুরী সবশেষে তপন চৌধুরী উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
আপনার মতামত লিখুন :