ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ, ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২
amaderkhobor24.com

জানুয়ারিতে বেসরকারি খাতে ঋণস্থিতি কমেছে

আমাদের খবর ২৪

প্রকাশিত: মার্চ ১৯, ২০২৬, ০৮:১১ পিএম

জানুয়ারিতে বেসরকারি খাতে ঋণস্থিতি কমেছে

বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমতে কমতে গত দুই যুগের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। গত জানুয়ারি শেষে প্রবৃদ্ধি নেমেছে ৬ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশে। আগের মাস ডিসেম্বর শেষে যা ছিল ৬ দশমিক ১০ শতাংশ। ডিসেম্বরের তুলনায় জানুয়ারিতে ঋণস্থিতি সাড়ে ছয় হাজার কোটি টাকা কমেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো না থাকা, গ্যাস-বিদ্যুতের সমস্যাসহ নানা কারণে আশানুরূপ বিনিয়োগ না হওয়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

বিনিয়োগ বাড়াতে ব্যবসায়ীরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি সুদহার কমানোর দাবি জানিয়ে আসছেন। তবে সাবেক গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশের নিচে না নামা পর্যন্ত সুদহার না কমানোর নীতিতে অনড় ছিলেন। গত ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। নতুন সরকার আসার পরই আগের গভর্নরকে সরিয়ে ব্যবসায়ী মোস্তাকুর রহমানকে গভর্নর নিয়োগ দেওয়া হয়।

নতুন গভর্নর দায়িত্ব নিয়েই অভ্যন্তরীণ বৈঠকে সুদহার কমানোর ঘোষণা দেন। মুদ্রানীতি কমিটির একটি বৈঠকও ডাকা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত তা স্থগিত করা হয়। ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধের কারণে মূল্যস্ফীতি আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যে কারণে আপাতত সুদহার কমাবে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জানুয়ারি শেষে বেসরকারি খাতের ঋণস্থিতি কমে ১৭ লাখ ৮১ হাজার ৪৭১ কোটি টাকায় নেমেছে। আগের মাস ডিসেম্বর শেষে ঋণস্থিতি ছিল ১৭ লাখ ৮৮ হাজার ২৪ কোটি টাকা। এক মাসের ব্যবধানে ঋণস্থিতি কমেছে ছয় হাজার ৫৫৩ কোটি টাকা। গত বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত ঋণস্থিতি ছিল ১৬ লাখ ৮০ হাজার ১১০ কোটি টাকা। সে বিবেচনায় এক বছরে এক লাখ এক হাজার ৩৬১ কোটি টাকা ঋণ বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, সুদসহ ঋণস্থিতির হিসাব হয়। ফলে প্রকৃতপক্ষে ঋণ না বাড়লেও কেবল সুদ যোগ হয়ে স্থিতি বেড়ে সামান্য হলেও প্রবৃদ্ধি হয়। তবে ব্যাংকগুলো ডিসেম্বরভিত্তিক আর্থিক বিবরণী চূড়ান্ত করার জন্য আদায় জোরদার করে। সে তুলনায় প্রথম মাস জানুয়ারিতে ঋণ বিতরণ হয় খুব কম, যার প্রভাবে ঋণস্থিতি কিছুটা কম দেখায়।
চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের নতুন মুদ্রানীতিতে আগামী জুন নাগাদ বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন বাড়িয়ে ৮ দশমিক ৫০ শতাংশ ধরা হয়েছে। গত ডিসেম্বর পর্যন্ত বেসরকারি খাতে ৭ দশমিক ২০ শতাংশ প্রাক্কলনের বিপরীতে ৬ দশমিক ১০ শতাংশ অর্জিত হয়। তবে রাজনৈতিক সরকারের সময়ে বিনিয়োগ খরা কাটবে এমন প্রত্যাশা থেকে প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন বাড়ানো হয়েছে। 
বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে গত দুই যুগের বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির তথ্য রয়েছে। সে তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এর আগে ঋণ প্রবৃদ্ধি কখনও এত কমতে দেখা যায়নি। করোনা অতিমারির কারণে ২০২০ সালে বিনিয়োগ স্থবিরতার মধ্যেও বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৭ শতাংশের ওপরে ছিল। 

Link copied!