প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার নিবন্ধন কর্মসূচির আওতায় এখন পর্যন্ত ১৮ হাজার ৮৬৫ জনের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) প্রস্তুত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর মধ্যে ১৮ হাজার ৮৫৩টি এনআইডি কার্ড ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর বাংলাদেশ দূতাবাসে পাঠানো হয়েছে।
সোমবার (৯ মার্চ) নির্বাচন কমিশনের এনআইডি অনুবিভাগের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে গত ৩ মার্চ পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের ১৪টি দেশের মোট ২৪টি স্টেশনে প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন ও এনআইডি বিতরণ কার্যক্রম চালু রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি ও দুবাই, সৌদি আরবের রিয়াদ ও জেদ্দা, কুয়েত সিটি, কাতারের দোহা এবং ওমানের মাস্কাট।
এছাড়া ইউরোপে যুক্তরাজ্যের লন্ডন, ম্যানচেস্টার ও বার্মিংহাম এবং ইতালির রোম ও মিলানে এ কার্যক্রম চলছে। এশিয়া ও ওশেনিয়ার মধ্যে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর, জাপানের টোকিও, অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরা ও সিডনি এবং মালদ্বীপের মালে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অন্যদিকে আমেরিকা মহাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক, মিয়ামি, ওয়াশিংটন ডিসি ও লস অ্যাঞ্জেলেস, কানাডার অটোয়া ও টরন্টো এবং আফ্রিকার দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়ায় এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রবাসীদের কাছ থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৮২ হাজার ৯৭৬টি ভোটার নিবন্ধনের আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে ৩৯ হাজার ৭টি আবেদন অনুমোদন করা হয়েছে এবং ১৮ হাজার ৪৫৪টি আবেদন বাতিল করা হয়েছে। বর্তমানে ৩ হাজার ৬৬টি আবেদন তদন্তাধীন রয়েছে। এছাড়া ৫ হাজার ৩৯৮টি এনআইডি কার্ড এখনও প্রিন্টের অপেক্ষায় আছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি আবেদন এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে—২৩ হাজার ৭৬টি। এর মধ্যে ৯ হাজার ১০টি এনআইডি ইতোমধ্যে প্রিন্ট করা হয়েছে। আবেদনের সংখ্যায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্য, যেখানে ১৫ হাজার ৩৪৯টি আবেদনের বিপরীতে ৪ হাজার ২৪৪টি এনআইডি প্রিন্ট করে দূতাবাসে পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে সবচেয়ে কম আবেদন জমা পড়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে, যেখানে মাত্র ১১৫টি আবেদন পাওয়া গেছে। তবে এখনো দেশটিতে কোনো এনআইডি প্রিন্ট করা সম্ভব হয়নি।
নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ এবং এনআইডি সংক্রান্ত ভোগান্তি কমাতে এ কার্যক্রম আরও গতিশীল করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন :