ঢাকা মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬, ২৫ ফাল্গুন ১৪৩২
amaderkhobor24.com

জুলাইয়ের “বীর” না কি নতুন রাজনীতির ছদ্মবেশ?

আমাদের খবর ২৪/ কেপি

প্রকাশিত: মার্চ ৯, ২০২৬, ০৫:৩৩ এএম

জুলাইয়ের “বীর” না কি নতুন রাজনীতির ছদ্মবেশ?

প্রতীকী ছবি।

৫ই আগস্টের আগে নাসির উদ্দিন প্রাণ কোম্পানির মেলামাইন প্লেট বিক্রি করতেন। পরে “জুলাইয়ের বীর” খেতাব লাগিয়ে রাতারাতি বড় নেতা হয়ে গেলেন।
নেতা হওয়া দোষের কিছু নয়। মেলামাইন প্লেট বিক্রি করাও ছোট কোনো কাজ নয়—সব পেশাকেই আমরা সম্মান করি।

কিন্তু প্রশ্নটা অন্য জায়গায়। কয়েক মাসের ব্যবধানে যদি কেউ একটি কোম্পানির চাকরি থেকে কোটি টাকার গাড়িতে চড়ে এমপি নির্বাচন করতে নামে, তাহলে কি স্বাভাবিকভাবেই কোনো প্রশ্ন বা সন্দেহ তৈরি হবে না?
নায়ক জসিমের কথাই ধরা যাক। জনপ্রিয় সেই চলচ্চিত্র নায়ক কোটিপতি হতে গিয়েও কত সংগ্রাম করেছেন—লটারি জিততে হয়েছে, ব্যবসা করতে হয়েছে। এমনকি শাবানাকে সঙ্গে নিয়ে গার্মেন্টস ব্যবসায় নামতে হয়েছে।
সেই তুলনায় হঠাৎ করে কয়েক মাসে বিপুল সম্পদের মালিক হয়ে ওঠার গল্প কি এত সহজে বিশ্বাসযোগ্য?
যাই হোক, সেই বিতর্কে না গিয়েও আরেকটি প্রশ্ন সামনে আসে—রাজনীতির ভাষা ও মানসিকতা নিয়ে।
ধরা যাক, একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করলেন—
“আপনি এমপি নির্বাচিত হলে এলাকার জন্য কী করবেন?”
উত্তরে পাটোয়ারী বললেন—
“মির্জা আব্বাস চাঁদাবাজ!”
আরেকজন সাংবাদিক প্রশ্ন করলেন—
“হাদীর হত্যাকারীর বিচার নিয়ে আপনার মত কী?”
উত্তর একই—
“মির্জা আব্বাস চাঁদাবাজ!”
কারো আত্মার মাগফেরাতের জন্য দোয়ার অনুষ্ঠানে গেলেন। শত শত ক্যামেরার সামনে মোনাজাতে হাত তুলে আবারও একই কথা—
“মির্জা আব্বাস চাঁদাবাজ!”
কোনো বিয়ের অনুষ্ঠানে গেলেন—সেখানেও একই স্লোগান।
এমনকি ব্যক্তিগত জীবনের ভেতরেও সেই একই ভাষা—পরিবারের সদস্যদের দিয়েও একই স্লোগান দেওয়ানো।
প্রশ্ন হলো—
এটাই কি রাজনীতি?
জুলাইয়ের ঘটনাকে পুঁজি করে যদি কেউ রাতারাতি কোটিপতি হয়ে যায়, এবং সুস্থ রাজনৈতিক আলোচনা বাদ দিয়ে শুধু কুৎসা, গালি ও ব্যক্তিগত আক্রমণকে রাজনীতির ভাষা বানিয়ে ফেলে—তাহলে কি তার সমালোচনা করা যাবে না?
বাকস্বাধীনতা কি এটাই?
বাকস্বাধীনতা কি শুধু অন্যের চরিত্রহনন করার অধিকার?
বাকস্বাধীনতা কি সারাক্ষণ কাউকে গালি দেওয়ার লাইসেন্স?
দেশের অতীত নির্বাচনগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়—প্রায় প্রতিটি আসনেই একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। তারা নিজেদের ইশতেহার নিয়ে কথা বলেছেন, উন্নয়নের পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন, ভোটারদের সামনে ভবিষ্যৎ ভাবনা উপস্থাপন করেছেন।
কিন্তু এমন উদাহরণ খুবই বিরল যেখানে একজন প্রার্থী নিজের কোনো কর্মসূচি বা পরিকল্পনা না বলে কেবল প্রতিপক্ষকে গালাগালি করেই রাজনীতি করতে চান।
যদি কারো রাজনৈতিক যোগ্যতা কেবল একটি বাক্য—
“মির্জা আব্বাস চাঁদাবাজ”—এই স্লোগানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠবে: এর বাইরে তার রাজনৈতিক সক্ষমতা কোথায়?
আমরা কেউ এমপি বা মন্ত্রী নই, এমনকি এলাকার চেয়ারম্যানও নই। তবুও যদি কেউ দিনরাত, মাসের পর মাস একইভাবে আমাদের নাম নিয়ে গালি দিতে থাকে—আমরা কতদিন তা সহ্য করতে পারব?
প্রত্যেক মানুষের সহ্যের একটি সীমা আছে। সেই সীমা অতিক্রম করলে পরিস্থিতি অনিবার্যভাবেই বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।
ফাতরামি, ছাগলামি কিংবা বেয়াদবিরও একটি সীমা থাকা উচিত। সেই সীমা অতিক্রম করলে তার পরিণতিও কঠিন হয়।
সুস্থ রাজনীতি চাইলে দায়িত্বশীল আচরণও জরুরি। অন্যথায় রাজনীতির নামে কেবল কুৎসা ও উত্তেজনার সংস্কৃতি তৈরি হবে—যার ফল শেষ পর্যন্ত সমাজের জন্যই ক্ষতিকর।

লেখক: খালিদ সাইফুল্লাহ, কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

Link copied!