প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬, ১০:৩৮ পিএম
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে শিক্ষা, প্রযুক্তি ও ভাষা সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্যে চীনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে জানানো হয়, ১০ হাজার শিক্ষার্থীকে চীনা ভাষা শিক্ষার আওতায় আনা হবে। বাংলাদেশে কার্যরত চীনা কোম্পানিতে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি এবং বিশ্ববাজারে দক্ষ জনশক্তি গড়তে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে এ বৈঠকে ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন ও শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নয়ন, বিশেষ করে কারিগরি শিক্ষা, ভাষা শিক্ষা ও যুব প্রজন্মকে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে জানানো হয়, চীনা ভাষা শিক্ষা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে চলতি বছর চীনা ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
চীনা রাষ্ট্রদূত জানান, বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থীকে চীনা ভাষা শিক্ষার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশে কার্যরত প্রায় এক হাজার চীনা কোম্পানিতে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে ও আন্তর্জাতিক বাজারে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ভাষাদক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা বিশ্বের অন্তত ১৭টি দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেতে পারেন বলে উল্লেখ করা হয়।
কারিগরি ও পলিটেকনিক শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও চীন যৌথভাবে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটগুলো পরিদর্শন করে কারিকুলাম আধুনিকায়ন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি ও শিল্প খাতের চাহিদাভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করবে। শিল্প খাতের প্রয়োজন অনুযায়ী কোর্স ও প্রশিক্ষণের কাঠামো পুনর্বিন্যাস করা হবে।
চীনা ভাষা শিক্ষার প্রসারে প্রাথমিকভাবে ৩০০টি স্মার্ট শ্রেণিকক্ষ স্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রতিটি স্কুলে দুটি করে শ্রেণিকক্ষ স্থাপনের মাধ্যমে ১৫০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই সুবিধা চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি ৯টি ব্রডকাস্টিং সেন্টার স্থাপন ও সংশ্লিষ্ট ল্যাবগুলোয় আধুনিক সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার সরবরাহের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে একটি পাইলট প্রকল্প চালু রয়েছে।
চীনা পক্ষ জানায়, তারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে, যেমন দক্ষিণ আফ্রিকা, কম্বোডিয়া ও লাওসে চীনা ভাষা ও কারিগরি শিক্ষা সম্প্রসারণে সফলভাবে কাজ করছে।
বৈঠকে আরও জানানো হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের জন্য একটি আধুনিক হল নির্মাণে সহযোগিতা প্রদানের আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীনা কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া আগামী পাঁচ বছরের জন্য প্রয়োজনভিত্তিক (নিড বেজড) শিক্ষা পরিকল্পনা প্রণয়ন করে তা চীনা পক্ষের সঙ্গে শেয়ার করা হবে।
বাংলাদেশি প্রতিনিধিদলকে চীনে স্টাডি ট্যুরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, যাতে তারা সরেজমিনে কারিগরি শিক্ষা ও প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলো পরিদর্শন করে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে। একই সঙ্গে চীনা বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশেষজ্ঞদের বাংলাদেশে এসে কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আধুনিকায়নে সুপারিশ প্রদানের আহ্বান জানানো হয়েছে।
পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। চীনা পক্ষ আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পেলে যৌথভাবে কাজ করার আশ্বাস দিয়েছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে বাংলাদেশ সরকার প্রয়োজনীয় প্রস্তাবনা ও চাহিদাপত্র প্রদান করবে বলে জানানো হয়েছে।
মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এই সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার শিক্ষা ও প্রযুক্তি সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে এবং দেশের যুবসমাজ আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা অর্জনে সক্ষম হবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শিক্ষাসংক্রান্ত ইশতেহারের আলোকে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা নতুনভাবে পথযাত্রা শুরু করবে।
আপনার মতামত লিখুন :