প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬, ১২:৩৮ এএম
প্রকৃতির ঋতুর পরিবর্তন—শীত থেকে বসন্ত, বসন্ত থেকে গ্রীষ্ম—প্রতিবারই ত্বকের স্বাভাবিক সামঞ্জস্যকে চ্যালেঞ্জ করে। শুষ্কতা, তেলতেলে ভাব বা অসম ময়শ্চার পরিবেশ এসবই ত্বককে বিভ্রান্ত করে। আবার এবার রমজান মাসও ঋতুবদলের মাঝেই পড়ছে যার ফলে ত্বকচর্চা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রোজার সময় দীর্ঘ সময় পানি ও খাবার না নিলেও শরীরের ভিতর থেকে পানিশূন্যতা তৈরি হতে পারে এবং তা ত্বকে সরাসরি প্রভাব ফেলে। শুষ্ক ত্বকে রুক্ষতা, টান, বলিরেখা বা ক্লান্তির ছাপ দেখা দিতে পারে, বিপরীতে তৈলাক্ত ত্বকও পানিশূন্যতা থেকে সেবাম (ত্বকের তেল) অতিরিক্ত উৎপাদন করতে পারে, ফলে ব্রণ বা ফুসকুড়ির মতো সমস্যাও দেখা যায়।
ত্বকচর্চায় রুটিনে পরিবর্তন
আবহাওয়ার পরিবর্তনের সাথে সঙ্গে ত্বকের যত্নের ধরণও বদলাতে হবে।
প্রথমেই একটি হালকা ক্লিনজার ব্যবহার করা উচিত যা ত্বককে অতিরিক্ত শুষ্ক করবে না। সঙ্গে একটি হাইড্রেটিং ময়েশ্চারাইজার লাগালে তা দিনের তাপ থেকে ত্বককে সুরক্ষা দেবে। রোজার সময়ে বাইরে থাকলে দিনে সানস্ক্রিন ব্যবহার করা বিকল্প নেই কারণ সূর্যের তাপ ত্বকের আর্দ্রতা কমিয়ে দিতে পারে যা দ্রুত বার্ধক্যের লক্ষণ তৈরি করতে পারে।
রোজায় ত্বক সতেজ রাখার কৌশল
রমজান মাসে ত্বক ভালো রাখার মূল টিপস হলো—
পরিমিত পানি পান
ইফতারের পর ধীরে ধীরে পানি পান করলে শরীর পানি শোষণ করতে পারে এবং ত্বককে বাইরে থেকে ভোক্ত পানি ছাড়া ভিতর থেকে ঘাম ও আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়তা করে।
ফলের বড় অংশ রাখুন খাদ্য তালিকায়: তরমুজ, শসা, কমলা—এসব পানি সমৃদ্ধ ফল শরীরের ভিতর থেকে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।
ক্যাফেইন কমান
অতিরিক্ত চা বা কফি পান করলে ক্যাফেইন শরীরের পানিশূন্যতা বাড়ায়, তাই তা কম করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
রাতে ত্বকের যত্ন
দিনের শেষে, বিশেষ করে যদি বাইরে থাকেন বা মেকআপ করেন, তাহলে ত্বকটি ভালোভাবে পরিষ্কার করা খুবই জরুরি। ডাবল ক্লিনজিং (দুই ধাপে ত্বক পরিষ্কার করা) ব্যবহার করলে ময়লা ও অপ্রয়োজনীয় তৈল পরিষ্কার হয়। এরপর হাইড্রেটিং সিরাম ও ময়েশ্চারাইজার লাগালে ত্বক দ্রুত তার সতেজ ভাব ফিরে পায়। রাতে ভিটামিন‑ই সিরাম ব্যবহার করলে ত্বকের পুনর্জীবন প্রক্রিয়া আরও সক্রিয় হয়।
সপ্তাহে কোনটা করবেন
সপ্তাহে এক‑দুই বার হালকা এক্সফোলিয়েশন (মৃত কোষের ত্বক তুলে ফেলা) ত্বককে পরিষ্কার ও নতুন করে সাজাতে সাহায্য করে। তবে অতিরিক্ত স্ক্রাবিং এড়িয়ে চলা উচিত কারণ অতিরিক্ত ঘষামাজা ত্বককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। বিশেষ করে রোজায় যেখানে শরীর পানিশূন্যতায় থাকে।
ঈদের আগেও প্রস্তুতি
রমজানের শুরু থেকেই যদি নিয়মিত পানি পান, সুষম খাদ্য ও ত্বকচর্চা বজায় রাখা হয়, তাহলে ঈদের সকালে আলাদা করে খুব বেশি প্রস্তুতির প্রয়োজন পড়ে না। সঠিক ঘুমরীতি ত্বকের স্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং মানসিক প্রশান্তি থাকলে ত্বকও স্বাভাবিকভাবেই উজ্জ্বল দেখায়।
ঋতুবদল এবং রোজা—এই দুটি পরিস্থিতিই ত্বকের ওপর আলাদা চ্যালেঞ্জ ফেলতে পারে। তাই শুধু আরামদায়ক মেকআপ বা ড্রেসিংয়ের চিন্তা নয় একই সাথে ত্বকের মৌলিক যত্ন—পর্যাপ্ত পানি, সানস্ক্রিন, হাইড্রেটিং ময়েশ্চারাইজার ও পরিষ্কার কেয়ার রুটিন—এগুলো মানা সবচেয়ে জরুরি। ধারাবাহিক ত্বকচর্চাই সুস্থ ও উজ্জ্বল ত্বকের মূল চাবিকাঠি।
আপনার মতামত লিখুন :