ঢাকা মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১ ফাল্গুন ১৪৩২
amaderkhobor24.com

পুরুষের চেয়ে নারীদের বেশি আয়রন প্রয়োজন যে কারণে

আমাদের খবর ২৪

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬, ১২:৪৪ এএম

পুরুষের চেয়ে নারীদের বেশি আয়রন প্রয়োজন যে কারণে

মানবদেহ সুস্থ রাখতে প্রয়োজন সুষম পুষ্টি। সেই পুষ্টির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো আয়রন। রক্তে হিমোগ্লোবিন তৈরিতে আয়রনের ভূমিকা অপরিহার্য। হিমোগ্লোবিন শরীরের বিভিন্ন অংশে অক্সিজেন পৌঁছে দেয় এবং শরীরকে কর্মক্ষম রাখে। আয়রনের ঘাটতি হলে ক্লান্তি, দুর্বলতা, মাথা ঘোরা কিংবা রক্তস্বল্পতার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরুষদের তুলনায় নারীদের শরীরে আয়রনের চাহিদা তুলনামূলক বেশি। এর পেছনে রয়েছে কিছু স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় কারণ।

মাসিকের সময় রক্তক্ষয়
মাসিক নারীদের শরীরে আয়রনের চাহিদা বাড়িয়ে দেয়। প্রতি মাসে মাসিকের সময় শরীর থেকে কিছু পরিমাণ রক্ত বের হয়ে যায়। সেই সঙ্গে বেরিয়ে যায় আয়রনও। নিয়মিত এই রক্তক্ষরণের কারণে শরীরে আয়রনের ঘাটতি তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই নারীদের খাদ্যতালিকায় আয়রনসমৃদ্ধ খাবার থাকা খুবই জরুরি। অনেক সময় দেখা যায় পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার না খাওয়ার কারণে অনেক নারী অজান্তেই আয়রনের ঘাটতিতে ভোগেন।

গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় আয়রনের প্রয়োজন আরও বেড়ে যায়। গর্ভে বেড়ে ওঠা শিশুর জন্য অতিরিক্ত রক্ত তৈরি করতে হয় মায়ের শরীরে। একই সঙ্গে শিশুর বিকাশেও আয়রনের প্রয়োজন হয়। ফলে এই সময় নারীদের শরীরে আয়রনের চাহিদা অনেক বেশি থাকে। অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসকেরা গর্ভবতী নারীদের আয়রন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের পরামর্শ দেন, যাতে মা ও শিশুর সুস্থতা বজায় থাকে। যদিও বুকের দুধে খুব বেশি আয়রন যায় না। তবে সন্তান জন্ম দেওয়ার পর মায়ের আগের শক্তি ফিরে পেতে, রক্তস্বল্পতা (অ্যানিমিয়া) প্রতিরোধে ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতার জন্য আয়রন দরকার হয়।

হরমোনজনিত কারণ
হরমোনজনিত পরিবর্তনও আয়রনের প্রয়োজনকে প্রভাবিত করে। নারীদের শরীরে বিভিন্ন বয়সে হরমোনের ওঠানামা ঘটে। কৈশোর, প্রজননকাল কিংবা গর্ভাবস্থার সময় শরীরের ভেতরে নানা পরিবর্তন ঘটে যা পুষ্টির চাহিদাকেও প্রভাবিত করে। এই কারণেও নারীদের ক্ষেত্রে আয়রনের প্রয়োজন তুলনামূলক বেশি হতে পারে।

পুষ্টিবিদদের মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের দৈনিক প্রায় ৮ মিলিগ্রাম আয়রন প্রয়োজন হয়। অন্যদিকে প্রজননক্ষম নারীদের দৈনিক প্রায় ১৮ মিলিগ্রাম আয়রন দরকার। গর্ভাবস্থায় এই চাহিদা আরও বেড়ে প্রায় ২৭ মিলিগ্রাম পর্যন্ত হতে পারে। তবে মেনোপজের পর নারীদের আয়রনের প্রয়োজন আবার কিছুটা কমে আসে।

শরীরে আয়রনের ঘাটতি হলে বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিতে পারে। যেমন অতিরিক্ত ক্লান্তি, দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, ত্বক ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া, মনোযোগ কমে যাওয়া ইত্যাদি। দীর্ঘদিন আয়রনের ঘাটতি থাকলে রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়ার ঝুঁকি বাড়ে। তাই এসব লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে সহজেই আয়রনের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। লাল মাংস, কলিজা, মাছ, ডিম, ডাল, পালং শাক, বিট, কিশমিশ, খেজুরসহ নানা খাবারে আয়রন পাওয়া যায়। একই সঙ্গে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার আয়রন শোষণে সাহায্য করে। তাই আয়রনসমৃদ্ধ খাবারের সঙ্গে লেবু, কমলা বা টমেটো খেলে উপকার পাওয়া যায়।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আয়রন প্রয়োজনের তুলনায় কম হলেও সমস্যা, আবার বেশি হলেও ক্ষতি হতে পারে। তাই নিজে নিজে সাপ্লিমেন্ট খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই ভালো। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, সচেতনতা এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা নারীদের আয়রনের ঘাটতি থেকে সুরক্ষিত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

Link copied!