ঢাকা মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১ ফাল্গুন ১৪৩২
amaderkhobor24.com

প্রশাসনে রদবদল, সংস্কারের বার্তা: নতুন সরকারের প্রাথমিক পদক্ষেপে প্রত্যাশার ইঙ্গিত

আমাদের খবর ২৪

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬, ১২:০৭ পিএম

প্রশাসনে রদবদল, সংস্কারের বার্তা: নতুন সরকারের প্রাথমিক পদক্ষেপে প্রত্যাশার ইঙ্গিত

প্রতীকী ছবি। গ্রাফিক্স: আমাদের খবর টোয়েন্টিফোর ডট কম

রাষ্ট্র পরিচালনায় বড় ধরনের পরিবর্তন সাধারণত কেবল প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়—এটি রাজনৈতিক অঙ্গীকার, দৃষ্টিভঙ্গি এবং ভবিষ্যৎ পথচলার ইঙ্গিত বহন করে। সম্প্রতি সেনাবাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকটি পদে রদবদল এবং গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইয়ের নেতৃত্বে পরিবর্তন সেই বাস্তবতারই অংশ হিসেবে সামনে এসেছে। একই ধারাবাহিকতায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতেও পুনর্বিন্যাসের আভাস প্রশাসনিক সংস্কারের একটি বিস্তৃত পরিকল্পনার দিকেই ইঙ্গিত করছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ পুলিশের কাঠামোগত পরিবর্তনের বিষয়ে যে ঘোষণা দিয়েছেন, তা মূলত প্রশাসনকে অধিক কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক করার প্রত্যাশাকেই জোরদার করে। দীর্ঘ সময় ধরে জমে থাকা প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতা দূর করা কোনো স্বল্পমেয়াদি কাজ নয়—এটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়নযোগ্য একটি সংস্কার প্রক্রিয়া। সেই প্রক্রিয়ার সূচনা যত দ্রুত ও সুপরিকল্পিত হবে, ততই রাষ্ট্রযন্ত্রের কার্যকারিতা বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই কিছু দৃশ্যমান পদক্ষেপ জনমনে প্রত্যাশা তৈরি করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের প্রাথমিক উদ্যোগ হিসেবে পরিবারভিত্তিক সহায়তা কর্মসূচির জন্য অনলাইন নিবন্ধন কার্যক্রম চালুর বিষয়টি সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামোকে শক্তিশালী করার একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি পুরনো প্রবাদ আছে—শুরুই ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দেয়। সেই বিচারে প্রাথমিক পদক্ষেপগুলো সরকারের অগ্রাধিকার ও কর্মপরিকল্পনার দিকনির্দেশনা তুলে ধরে।
তবে প্রশাসনিক সংস্কার সবসময়ই সময়সাপেক্ষ। প্রায় দুই দশকের প্রাতিষ্ঠানিক ভার ও সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে একটি গতিশীল কাঠামো গড়ে তুলতে ধৈর্য, ধারাবাহিকতা এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছা অপরিহার্য। সংস্কারের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করে তার বাস্তবায়ন, স্বচ্ছতা এবং জনগণের আস্থার ওপর। জনবান্ধব প্রশাসন গড়ে তুলতে পরিবর্তন অনিবার্য—এটি সরকার যেমন উপলব্ধি করে, তেমনি জনগণেরও প্রত্যাশা থাকে সেই পরিবর্তন কার্যকর ও টেকসই হোক।

রাষ্ট্র পরিচালনার এই সন্ধিক্ষণে সবচেয়ে প্রয়োজন আস্থার পরিবেশ ও গণতান্ত্রিক ধৈর্য। দ্রুত ফলাফলের আকাঙ্ক্ষা স্বাভাবিক, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার সময় নিয়ে দৃশ্যমান হয়। সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথ কতটা সুদৃঢ় হবে, তা নির্ধারণ করবে কর্মের ধারাবাহিকতা। আর সেই পথচলায় নাগরিক সমাজের দায়িত্ব হলো সমালোচনা ও সমর্থনের মধ্যে ভারসাম্য রেখে রাষ্ট্রের বৃহত্তর স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া।

পরিবর্তনের এই সূচনাপর্ব তাই কেবল প্রশাসনিক রদবদল নয়—এটি একটি প্রত্যাশার সময়। এখন প্রয়োজন ধৈর্য, অংশগ্রহণ এবং দায়িত্বশীল নজরদারি, যাতে ঘোষিত সংস্কার বাস্তব ফলাফলে রূপ নেয় এবং রাষ্ট্রযন্ত্র সত্যিকার অর্থেই জনকল্যাণমুখী হয়ে ওঠে।
 

লেখক: মো: খালিদ সাইফুল্লাহ 
কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষ

Link copied!